ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

করোনা: দেশে প্রতিদিন আক্রান্ত হতে পারে ৬৫ হাজার!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১০:৫৯:৩৫ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১০:৫৯:৩৫

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশে কার্যত আর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা টিকে নেই। গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে, ঢাকার রাস্তাঘাট ফিরেছে পুরনো চেহারায়। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল দোকানপাট খুললেও তার অনেকদিন আগ থেকেই শুরু হয়েছে মহড়া।

এই খুল্লাম খুল্লা অবস্থায় কোথায় গিয়ে থামবে করোনাভাইরাস? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম কালাম আজাদ বলেছেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে একদিনে ৬৫ হাজারের মতো মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, এক্সপার্টদের এমন একটা বিশ্লেষণ আমাদের কাছে আছে।

আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের কাছে দুটি বিশ্লেষণ আছে।

সর্বোচ্চ সংক্রমণের ভবিষ্যদ্বাণী করা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দিনে আক্রান্ত হবে ৬৫ হাজার মানুষ। তার মধ্যে যদি ২০ ভাগ লোককেও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাহলে ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষকে ভর্তি করতে হবে একদিনেই। আমাদের মতো দেশের পক্ষে যেটা বেশ কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা নেওয়ার সময় আমরা এসব বিশ্লেষণকে মাথায় রাখছি।

দেশব্যাপী হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বসুন্ধরা সিটির কাছ থেকে পাচ্ছি ২ হাজার শয্যার আইসোলেশন হাসপাতাল।

‘এছাড়া রোগীর ছাড়পত্র দেওয়ার নিয়ম বদলেছি আমরা, আগে অন্তত ১৪ থাকতে বাধ্য করা হলেও বর্তমানে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোনো ওষুধ না লাগে তাহলে রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে নতুন রোগীদের জন্য প্রস্তত রাখা হচ্ছে হাসপাতালের শয্যা।’ বলেন অধ্যাপক আবুল কালাম।চট্টগ্রাম থেকে : চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড এলাকা। এখানে করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ আরমান (৫৫) মা’রা গেছেন ৪ মে। সেদিন থেকেই তার স্ত্রী-পুত্রসহ পরিবারকে ওয়ার্ডের রাহাত্তার পুল চান্দা পুকুরপাড় এলাকার বাড়িতে লকডাউন করা হয়।

অভিযোগ উঠছে, এই পরিবারকে লকডাউন করলেও গত পাঁচ দিনেও খবর নেয়নি কেউই। অন্যদিকে পরিবারটির বাসার দরজায় তালা মে’রে দিয়েছে অতি-উৎসাহী স্থানীয় কিছু লোক। ফলে বাড়িতে আটকা পড়ে আছে শিশুসহ পরিবারটি। ইতিমধ্যে উক্ত পরিবারের ১৪ মাসের এক নাতিসহ পরিবারের ছয় সদস্যের শরীরে জ্বর-সর্দিসহ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করেছে।

পরিবারটির পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে নানা পর্যায়ে যোগাযোগ করেও তাদের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি। মৃ’ত আহমেদ আরমানের ছেলে আবিদ অভিযো’গ করেন বলেন, চসিকের স্থানীয় কাউন্সিলর এ কে এম আরিফুল ইসলাম ডিউকের নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে তালা দেয়া হলেও পাঁচদিনে খবর নেয়নি কেউ। বাড়িওয়ালা আর আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তারা কোনোভাবে দিন কা’টাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা বেঁচে আছি না ম’রে গেছি। তাও খবর নেননি। গতকাল থেকে এলাকার কাউন্সিলর, থানার ওসি ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছি। যাতে অন্তত আমাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, নয়তো এ ঘর থেকে আরও লা’শ বের হবে। গত দুদিনে কতজনের সাথে কথা বলেছি। এতে বিষয়টা নিয়ে একজন অন্যজনকে দিকে দেখিয়ে দেয়।

অস’হায় হয়ে আবিদ আরও বলেন, আমার একান্ত অনুরো’ধ- আমাদের একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হোক। আমরা নিজেরা গিয়েই নমুনা দিয়ে আসবো, আমরা বাঁচতে চাই। এ বিষয়ে জানতে চসিকের ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম আরিফুল ইসলাম ডিউক একাধিকবার ফোন করেও তিনি রিসিভ করেননি। বাকলিয়া থানার অফিসার বলেন, পরিবারটি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। শনিবার বিকালে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য টিম পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, রবিবার সকালেই পুরো পরিবারটিকে পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হবে। কিন্তু ওরা যে খাবার-দাবার নিয়ে সম’স্যায় আছে সেটি দেখবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন। তারা কেন তা করেননি তা তো জানি না। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহ’ত আহমেদ আরমান হঠাৎ অসু’স্থ বোধ করায় ৩ মে বিকালে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরদিন সোমবার ভোর ৪টার দিকে তিনি মৃ’ত্যুবরণ করেন। সাড়ে ৫টার দিকে বিআইটিআইডির (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস) টিম নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পটিয়ার গ্রামের বাড়িতে দাফন করার পর রাহাত্তার পুলের বাসায় ফেরত আছেন পরিবার। রাত ৯টার দিকে সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়, করোনায় আক্রা’ন্ত ছিলেন আরমান। ওই রাতেই কাউন্সিলর ও পুলিশ প্রশাসন বাসাটি লকডাউন করে।