ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

নিজ এলাকার ২ কি.মি’র মধ্যে শপিং, লাগবে পরিচয়পত্র

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৮ ১২:১৭:১১ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৮ ১২:১৭:১১

করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরীতে শপিংমল ও মার্কেট খোলা রাখার বিষয়ে ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি।

এতে ক্রেতাদের নিজ এলাকার ২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত শপিংমলে কেনাকাটা করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ক্রেতাকে তার সঙ্গে নিজ নিজ পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স) ইত্যাদি রাখতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ডিএমপির কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম নির্দেশনাগুলো জারি করেন।

ডিএমপির নির্দেশনাগুলো হলো—

১. সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শপিং মল ও দোকান খোলা রাখা যাবে। তবে ফুটপাতে বা প্রকাশ্য স্থানে হকার,ফেরিওয়ালা বা অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেওয়া যাবে না।

২. করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ক্রেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত শপিং মলে ঘোষিত সময়ের মাঝে কেনাকাটা করতে পারবেন। এক এলাকার ক্রেতা অন্য এলাকায় অবস্থিত শপিং মলে কেনাকাটা বা গমনাগমন করতে পারবেন না।

৩. বসবাসের এলাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্যেক ক্রেতা তার নিজ নিজ পরিচয়পত্র (যেমন— ব্যক্তিগত আইডি কার্ড/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিলের মূল কপি ইত্যাদি) বহন করবেন এবং তা শপিং মলের প্রবেশমুখে প্রদর্শন করবেন।

৪. প্রত্যেক শপিং মলের প্রবেশমুখে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক টানেল বা চেম্বার স্থাপন করতে হবে এবং তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া, প্রত্যেক দোকানে পৃথকভাবে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৫. প্রতিটি শপিং মলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। মাস্ক পরিধান ব্যতীত কোনও ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে পারবেন না। সব বিক্রেতা ও দোকান কর্মচারীকে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে হবে।

৬. প্রতিটি শপিং মল/বিপণি বিতানের সামনে সতর্কবাণী ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, মৃত্যু ঝুঁকি আছে’ সংবলিত ব্যানার টানাতে হবে।

৭. প্রতিটি শপিং মলে প্রবেশ, বাহির ও কেনাকাটার সময় ক্রেতা-বিক্রেতাকে কমপক্ষে এক মিটার (প্রায় ৪০ ইঞ্চি) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দোকানে যত জন ক্রেতা অবস্থান করতে পারেন, তার বেশি ক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

৮. সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দোকানের সামনে দূরত্ব মেপে মার্কিং করতে হবে।

৯. শপিং মলগুলোতে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের (হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য) গমনাগমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

১০. কেনাকাটা শেষে মার্কেটে অযথা জটলা বা ভিড় সৃষ্টি করা যাবে না। যাদের কেনাকাটা শেষ হয়ে যাবে মার্কেট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে তাদের বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

১১. শপিং মলগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা পথ নির্ধারণ করে দিতে হবে।

১২. যারা মাস্ক না পড়ে আসবেন তারা মার্কেট থেকে কিনে নেবেন। অন্যথায় যাতে মার্কেটে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৩. প্রত্যেক শপিং মলের পার্কিং লটে গাড়ি জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া, ড্রাইভাররা যাতে একত্রিত হয়ে আড্ডা না দেয় এবং নিজ নিজ গাড়িতে অবস্থান করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

১৪. শপিং মলগুলোতে যাতায়াতের জন্য সীমিত পরিসরে সাধারণ রিকশা ও সিএনজি চালু থাকবে। তবে সিএনজিতে দুই জনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে নিরুৎসাহিত করা হলো। প্রত্যেক যাত্রী এবং চালক মাস্ক পরিধান করবেন।পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বৃদ্ধা ইশারন নেছা। বয়স প্রায় ৯৫ বছর। বয়সের ভাড়ে হাঁটতে পারেন না। নিজের চার মেয়ে ও সৎ ছেলেদের সবার কাছেই এখন বোঝা হয়ে উঠেছে ওই বৃদ্ধা। কেউ তাকে আর রাখতে চায় না। নিরুপায় বৃদ্ধা মির্জাপুর উত্তরা বাজারের এক দোকানের সামনে বসে বসে কাঁ’দছেন। করোনার প’রিস্থিতির মধ্যেই সন্তানরা তাকে বের করে দিয়েছেন বাড়ি থেকে। কোনো সন্তানই তাকে দেখভালের দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় বে’কায়দায় পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

জানা যায়, ইশারন নেছার স্বামী মজত আলী মা’রা যায় মুক্তিযুদ্ধের পরপরই। ৫ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে মা’রা গেছেন। বাকি ৪ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ৩ মেয়ে স্বামীর বাড়ি মির্জাপুর ইউনিয়নেই। স্বামী মা’রা যাওয়ার পর বৃদ্ধা তার স্বামীর ভিটায় থাকতেন। সৎ ছেলেদের একজন তাকে দেখভাল করতেন। কিন্তু সেই সন্তানও মা’রা গেলে। সবকিছু বিক্রি করে একই ইউনিয়নের পাখোরতলা এলাকায় সেজ মেয়ে আজিমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে উঠেন ওই বৃদ্ধা। ১৫/১৬ বছর ধ’রে সেখানেই রয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত এক মাস আগে এক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পিছলে পড়ে পায়ে আঘা’ত পান ইশারন। তারপর থেকে হাঁ’টতে পারেন না। এই অবস্থায় মাকে টানতে না পেরে তার মেয়ে আজিমা তাকে রেখে আসে সৎ ভাই জাহিরুলের বাড়িতে। জাহিরুল ও তার ছেলে সলেমান তাকে ১ মাস দেখাশুনার করার পর তাকে আবার রেখে আসে আজিমার বাড়ি।

কয়েকদিন পর আজিমা আবার রেখে আসে জাহিরুলের বাড়ি। এভাবে এক পর্যায়ে তারা বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মাকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে রেখে চলে যায়। রাত হলেও তাকে কেউ বাড়িতে নেয়ার উদ্যোগ নেয়নি। রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক বৃদ্ধার খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তার মেয়ে আজিমার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিমা আবারও তার মাকে মির্জাপুর উত্তরা বাজারের একটি দোকানের সামনে রেখে চলে যায়। সেখানে বসে বসে কাঁ’দছেন ওই বৃদ্ধা। সন্ধ্যায় ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেও কোনো সন্তানই তাকে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়নি।

বৃদ্ধা ইশারন নেছা কাঁ’দতে কাঁ’দতে বলেন, আমার কেউ নেই। প্রয়োজনে আপনারা আমার স্বামীর ভিটায় একটা ঘর তুলে দিন। আমি সেখানেই যেন ম’রতে পারি। মেয়ে ও সৎ ছেলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। কাল সবাই মিলে আমাকে মেয়ে আজিমার বাড়িতে রেখে আসে। আজ আবার আমাকে বাজারে রেখে চলে গেছে। বৃদ্ধার কাছে যেই আসছে তার কাছেই একটু আশ্রয়ের দাবি জানাচ্ছেন।

তার সৎ ছেলে জাহিরুল ইসলাম বলেন, আমি অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। তারপরও ১ মাস আমার বাড়িতে রেখেছিলাম। কিন্তু তিনি বিছানাতেই প্রস্রাব পায়খানা করেন। আমার স্ত্রীও অসুস্থ। তাই তাকে দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আজিমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। এখন তার আপন মেয়েই তাকে আর রাখতে চাইছে না।

বৃদ্ধার মেয়ে আজিমা বেগম বলেন, আমি নিজেই অসুস্থ। তাই মাকে পরিচর্যা করবো কিভাবে। এ ছাড়া আমার মাকে রাখার মতো কোনো ঘর নাই। হাঁটতে পারে না তাই ঘরেই প্রস্রাব পায়খানা করে। আমি খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করছি। তাই সৎ ভাইয়ের কাছে রেখে এসেছিলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, এই বয়সে বৃদ্ধাকে তার সন্তানরা বের করে দিয়েছেন এটা অমানবিক। তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। এই অবস্থায় তার সন্তানরাই পারেন তাকে কাছে রাখতে। বিশেষ করে তার যেই মেয়ের কাছে দীর্ঘদিন ছিলো সেই মেয়ের একটু সদয় হওয়া উচিত। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আমরা এলাকাবাসীও সহযোগিতা করবো। কিন্তু তার সেবাযত্নের দায়িত্ব তার সন্তানদেরকেই নিতে হবে।

মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে আমরা বি’পাকে পড়ে গেছি। তার নিজের মেয়ে ও সৎ ছেলে কেউ তাকে নিতে রাজি হচ্ছে না। চাল ডাল দিয়ে আমরা গতকাল তার মেয়ে আজিমার বাড়িতে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ দেখি আবার তাকে বাজারে রেখে গেছে।

মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর আলী বলেন, ওই বৃদ্ধা তার সবকিছু বিক্রি করে সব টাকা পয়সা নিয়ে মেয়ে আজিমার বাড়িতে উঠেন। ভিক্ষা করে যা পেতেন সব মেয়েকে দিয়ে দিতেন। পায়ে আঘা’ত পেয়ে এখন ভিক্ষা করতে পারেন না তাই তাকে তার মেয়ে আর রাখতে চাইছে না। আমরা প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে পারি কিন্তু দেখভালের দায়িত্ব কিন্তু তো তাদেরই নিতে হবে। ওই বৃদ্ধার সন্তানদের ডেকে বিষয়টির সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।-কালের কণ্ঠ