ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

এক মাসের বেশি সময় পর মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৮ ১২:১৩:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৮ ১২:১৩:০৯

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে এক মাসের বেশি সময় পর মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা। করোনাভাইরাস সং’ক্রমণ ঠে’কাতে গত ৪ এপ্রিল ধর্মমন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মসজিদে দশজনের অধিক ব্যক্তির অংশ গ্রহণে জামাত আদায়ে নিষে’ধাজ্ঞা জারি করে। এরপর ২৩ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা এবং রমজান মাসের তারাবির জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

তবে বুধবার (৬ মে) আরেক আদেশের মাধ্যমে সে নিষে’ধাজ্ঞা তুলে নিলে মুসল্লিরা আজ জোহর থেকে জামাতে নামাজ আদায় শুরু করেন।
আজ জোহরের নামাজের সময় জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে মুসল্লিদের সরকারের নির্দেশনা মেনে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। জামাতে নামাজ পড়ে মুসল্লিরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে নামাজ পড়ে যে শান্তি পাওয়া যায়, ঘরে নামাজ পড়ে সেই শান্তি পাওয়া যায় না। তাই করোনা নিয়ে ভ’য় থাকলেও মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছি।করোনাভাইরাস কি ইমাম মাহদির আবির্ভাবের পূর্বাভাস? কোনো কোনো বিভ্রান্ত তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন গুজব ছড়িয়ে চলেছে।

কাকরাইল মসজিদের সামনে থেকে ১৭ জনকে সদ্য গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম। এমন আরও কত হাজার লাখ মানুষ ইমাম মাহদির দলে যোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তার হিসাব কে রাখে?

দাজ্জাল ও ইমাম মাহদিকে নিয়ে গুজবের কোনো শেষ নেই। মুসলিম সমাজে হাজার বছর ধরেই চলছে এ ধরনের গুজব। তবু সম্প্রতি যেন এর চর্চা অনেক বেড়ে গেছে। জঙ্গি সংগঠনগুলো এ সব বিষয় নিয়ে বেশ প্রচারণা চালাচ্ছে।

যারা এ নিয়ে খুব মাতামাতি করছে, আপনি চোখ বন্ধ করে বলতে পারবেন, তাদের কোনো না কোনো উগ্রবাদী সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।

সাধারণ মুসলিমদের মনে ইমাম মাহদি নিয়ে কৌতূহল আছে। আসলে ইমাম মাহদির বিষয়টি কী? মাহদি কবে আসবেন কোথায় আসবেন এবং তার অবস্থান কেমন হবে ইত্যাদি বিষয়ে অনেক প্রশ্ন মানুষের মনে।

কেবল সাধারণ মানুষ নয় বিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ আলেম-উলামাও ধাঁধায় পড়ে যান। খুব কম সংখ্যক লোকই এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

ইমাম মাহদি কবে আসবেন? এর সরল উত্তর কেয়ামতের আগে।

কেয়ামত কবে হবে? কেউ বলতে পারে না। তাহলে ইমাম মাহদি কবে আসবেন সে কথাও কেউ বলতে পারবে না। যারা এ বিষয়ে কোনো ভবিষ্যৎ বাণী করতে যায় তাদেরকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখুন। তাদের কথা যাচাই করারও প্রয়োজন নেই। ফালতু কথা যাচাই করে সময় নষ্ট করা অর্থহীন ব্যাপার।

এই মুহূর্তে যদি ইমাম মাহদি আরবে আবির্ভূত হন আমরা কী করব? কোটি টাকার প্রশ্ন। দুশ’ কোটি মুসলিম সবাই ইমাম মাহদির দলে যোগ দেয়ার জন্য আরব ছুটে যাবে? আরবে তো এত মুসলমানের জায়গা হবে না।

আরও পঞ্চাশ বছর পর যদি আসেন মাহদি। তখন তো মুসলমানদের সংখ্যা আরও বেশিও হতে পারে। তিনশ’ কোটি মুসলিমকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মাহদি কি ঘুরে বেড়াবেন?

আপনি যে কোনো সাধারণ মুসলমানকে আজকের দিনে যদি প্রশ্ন করেন, যদি জানতে পাও আজ ইমাম মাহদি এসে গেছেন কে কে তার দলে যোগ দিবে? দেখবেন এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না যে লোকটা সেও হাত তুলে ইমাম মাহদির দলে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে।

আমাদের কথা হচ্ছে নামাজের বিধানের চেয়েও কি ইমাম মাহদির দলে যোগ দেয়ার গুরুত্ব বেশি? করোনাভাইরাসের সময় অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবায় এগিয়ে যাওয়ার চেয়েও কি ইমাম মাহদির দল অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলাম সম্পর্কে যারা ন্যূনতম জ্ঞান রাখে তারা বুঝতে পারবে মূলত এ সব বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত।

ইমাম মাহদিকে না মানলে কী ইমান নষ্ট হয়ে যাবে? এটাও একটা প্রশ্ন। এ সব প্রশ্ন করা হচ্ছে, তার কারণ, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা আমাদের সামনে নেই। হাদীসে মাহদি সম্পর্কে কিছু কথা আছে। কিন্তু এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা দেয়া নেই। বিভ্রান্ত প্রচারকরা এ জন্যই এ নিয়ে নানা প্রচারণা চালানোর সুযোগ পায়।

কিছু কিছু বিষয় কমোনসেন্স থেকেই আমাদের বুঝতে হবে। ইমাম মাহদি যদি সারা বিশ্বের মুসলিমকে নির্দেশ দেন তোমরা যে যেখানে আছ যার যার কাজে ব্যস্ত থাক আমার এখানে দল ভারি করার দরকার নেই। যাদেরকে তিনি কাছে ডেকে নেন কেবল তারাই তখন সেখানে যাবে।

সবাই বিনা প্রয়োজনে ভিড় করা হবে তখন তার নির্দেশ লংঘন। তার বিষয়টি ইসলামের মৌলিক আকিদাগত বিষয় নয়। এটা এক বাস্তবতার কথা বলা হয়েছে। তিনি যখন আসবেন তাকে নিয়ে মুসলিমদের মাঝে বিতর্ক হওয়ার কথা নেই।

এমন হবে না যে, কয়েকশ’ লোক মাহদি দাবি করবে আর দলাদলি ও মারামারি করে যে টিকে যাবে সেই আসল মাহদি সাব্যস্ত হবে। এমন কোনো ব্যাপার ঘটবে না। মনে করুন করোনাভাইরাসকে যেমন কেউ অস্বীকার করছে না মাহদি যখন আসবেন তাকে নিয়ে সংশয়ের মতো কোনো পরিবেশ থাকবে না। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিই বলে দিবে কী হবে?

এ নিয়ে মনগড়া বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চরম মূর্খতা। অনেক জাল হাদীসও রয়েছে তাকে নিয়ে। এ সম্পর্কিত সহি হাদীস খুবই কম। সে সব হাদীসের মর্ম ও ব্যাখ্যা নিয়ে মতানৈক্যের সুযোগও রয়েছে। যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নিয়ত ভালো বলা যায় না। কারণ এ ধরনের মানুষ মনে করে, যারা ইমাম মাহদির সঙ্গে থাকবে তারাই কেবল সঠিক অন্য সবাই ভুল।

এই সতেরজন যেহেতু ইমাম মাহদির দলে যোগ দিতে যাচ্ছিল তাই তারা এবং তাদের মতো আরও গুটি কয় বিভ্রান্ত উজবুক যারা আছে কেবল তারাই তাদের ধারণা মতে সত্যের পতাকাবাহী।

পৃথিবীর আর সব মুসলিম হচ্ছে মুনাফিক। এমন উদ্ভট চিন্তার লোকদের উন্মাদ বলা গেলেও ভালো নিয়ত ওয়ালা মানুষ বলা যায় না। প্রকৃত প্রস্তাবে অজ্ঞতা ও মূর্খতার কোনো চিকিৎসা হয় না। জাহালাত হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে পচা বস্তু। সমাজের জন্য অজ্ঞতার চেয়ে বড় অভিশাপ কিছু নেই।

নির্বুদ্ধিতার একটা সীমা থাকা উচিত। ভালো ভালো পড়াশোনা করা যুবকও এ ধরনের বিভ্রান্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। সরকার এদের গ্রেফতার করে কোনো ফায়াদ হবে না। প্রয়োজন গণসচেতনতা সৃষ্টি।

তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের কারণে যে কোনো কুচক্রী সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। এতে করে মূর্খ অসচেতন লোক যে কোনো নাশকতামূলক কার্যক্রমেও জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই সতেরজন যদি মনে করে থাকে পৃথিবীতে তারা ছাড়া সব শয়তান ও দাজ্জালের দলের, তাহলে তারা যে কোনো সাধারণ মানুষকে হত্যাও করতে পারে। যে কারো অর্থ আত্মসাৎ করতে পারে গণিমতের মাল বলে। কোনো অপরাধই তাদের কাছে অপরাধ থাকবে না। কাজেই এদেরকে মামুলি মনে করা মোটেও ঠিক হবে না।

এরা সমাজে যে কোনো ধরনের বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারে যে কোনো সময়। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য এমন অজ্ঞ-মূর্খ অহংকারী লোক হুমকি বলা চলে। আমাদের সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে এ ধরনের মানুষ নামের পশু থেকে। আল্লাহ হেফাজত করুন। ইসলামকে হেয় করার এমন অপচেষ্টা থেকে এ সব অবুঝদের ফিরিয়ে আনুন। আমীন।করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের পর থেকে পুরোপুরি লকডাউন। বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের ক্ষেতেও যেতে পারছেন না আক্রান্ত ওই ব্যক্তি। এদিকে ঘামঝরানো ফসল ঘরে তোলার সময় হয়ে গেছে।

আবাদি জমির ভুট্টা একেবারে পরিপক্ব। করোনা আক্রান্তের পর থেকে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকায় জমির ফসল ঘরে তোলার উপযুক্ত হলেও নিরুপায় তিনি। সেই নিরুপায় অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে একদল পুলিশ।

জমির পরিপক্ব ভুট্টা কর্তন করে ঘরে তুলে দিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। বুধবার (০৬ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের করোনা আক্রান্ত ওই যুবকের ভুট্টাক্ষেতের পরিপক্ব ভুট্টা কর্তন করে দেয় জেলা পুলিশের একটি দল।

এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কলিমুল্লাহ। তিনি বাংলানিউজকে জানান, কয়েকদিন আগে করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে ওই ব্যক্তির। তারপর থেকেই তার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে দেয় পুলিশ।

লকডাউনের পর থেকেই তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকেও বিরত আছেন। এরমধ্যে পুলিশ জানতে পারে তার আবাদি একখণ্ড জমির ভুট্টা পরিপক্ব হয়ে গেছে। অথচ তিনি হোম আইসোলেশনে থাকায় তা কাটতে পারছেন না।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশের প্রধান জাহিদুল ইসলাম সিদ্ধান্ত নেন তার ক্ষেতের ভুট্টা কেটে দেওয়ার। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশের একটি দল ওই ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে ভুট্টা কর্তন করে। এরপর তা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পৌঁছে দেওয়া হয় তার বাড়িতে।

এ কাজে আরও অংশ নেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ও পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবীরসহ গ্রামের কিছু স্বেচ্ছাসেবী। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।

কিন্তু করোনা আক্রান্তের পর থেকে কাজ করতে না পেরে অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে পরিবারটি। তাই পুলিশ চেষ্টা করছে পরিবারটির পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার। তাই তার বাড়িতে নিয়মিত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দেবেন

পবিত্র মাহে রমজানের রোজা গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের ওপর রমজান মাসে রোজা পালন ফরজ করে দিয়েছেন।

রোজাদারদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত সওয়াব। রোজার বিনিময় স্বয়ং আল্লাহ দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। (মুসলিম: ২৭৬০)।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান উপস্থিত হয়েছে। রমজান এক বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ করেছেন।

এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শিকলবদ্ধ করা হয়। এ মাসে আল্লাহ এমন একটি রাত রেখেছেন, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত’। (নাসায়ি : ২১০৬)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১৫৫১)।

হজরত সাহল বিন সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সা.) এরশাদ করেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বোখারি : ১৭৯৭)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যারা হিদায়াতকে বর্জন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর শক্তিকে ভয় করেন এবং তার নির্দেশকে সত্য প্রতিপন্ন করার কারণে রহমতের আশা ছাড়েন না তারাই মুত্তাকি।

মাসব্যাপী রোজা পালন করে যদি তাকওয়া অর্জন করা না যায়, তা হলে এ রোজা অর্থহীন উপবাস ও নিছক আত্মপ্রবঞ্চনায় পর্যবসিত হয়। (মুসলিম: ২১৩৪)।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন– যে ব্যক্তি বাজে কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ নিছক উপবাস ছাড়া আর কিছু নয়’। (বোখারি: ১৮০৪)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে আরও এরশাদ করেন-শুধু পানাহার বর্জনের নাম রোজা নয়। রাজা হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ বর্জন করার নাম। কেউ তোমাকে গালি দিলে বা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তুমি তার সঙ্গে তেমনটি না করে কেবল এটুকুই বলো– আমি রোজাদার’। (মুসলিম: ২৪১৬)।

শুধু না খেয়ে থাকাই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মুখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখতে হবে। সংযমের পরিচয়ে দিতে হবে সবক্ষেত্রে।

পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা রোজাদারদের অপরিহার্য কর্তব্য।