ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় রেললাইনে ঘুম, ১৫ শ্রমিককে পিষে দিল ট্রেন

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৮ ১১:৫০:৩৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৮ ১১:৫০:৩৮

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৫) বিস্তার ঠেকাতে ভারতে লকডাউনে সবচেয়ে বিপাকে পড়েন ভিন্ন রাজ্যে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকরা। এবার এক নির্মম পরিস্থিতির শিকার হলেন ১৫ শ্রমিক।শুক্রবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে মহারাষ্ট্রের একটি রেল ট্র্যাকে ১৫ অভিবাসী শ্রমিককে পিষে ফেলেছে একটি ট্রেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিবাসী ওই শ্রমিকরা মধ্যপ্রদেশে ফিরছিলেন।কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই সময় জানায়, বাড়ি ফেরার পথে রেললাইনের ট্র্যাক ধরে হাঁটছিলেন শ্রমিকরা। রাতে সেই ট্র্যাকের ওপরই তারা ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর শুক্রবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাদের ওপর দিয়ে চলে যায় ট্রেন।

লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে শুরু হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। তবুও অনেককেই দেখা গেছে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন।কয়েকশ’ কিলোমিটার হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়েছেন অনেকেই। সে রকমই আরও এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলো মহারাষ্ট্র।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রেলের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।গত সোমবার থেকে ভারতে তৃতীয় দফার লকডাউন শুরু হয়েছে। আপাতত আগামী ২ সপ্তাহ অর্থাৎ ১৭ মে পর্যন্ত এ লকডাউন চলবে।এর আগে গত ২৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট দুই দফায় লকডাউনের সাক্ষী থেকেছে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশটির মানুষ।

এদিকে ভারতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৫৫ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৮০০ জন।করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের পর থেকে পুরোপুরি লকডাউন। বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের ক্ষেতেও যেতে পারছেন না আক্রান্ত ওই ব্যক্তি। এদিকে ঘামঝরানো ফসল ঘরে তোলার সময় হয়ে গেছে।

আবাদি জমির ভুট্টা একেবারে পরিপক্ব। করোনা আক্রান্তের পর থেকে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকায় জমির ফসল ঘরে তোলার উপযুক্ত হলেও নিরুপায় তিনি। সেই নিরুপায় অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে একদল পুলিশ।

জমির পরিপক্ব ভুট্টা কর্তন করে ঘরে তুলে দিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। বুধবার (০৬ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের করোনা আক্রান্ত ওই যুবকের ভুট্টাক্ষেতের পরিপক্ব ভুট্টা কর্তন করে দেয় জেলা পুলিশের একটি দল।

এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কলিমুল্লাহ। তিনি বাংলানিউজকে জানান, কয়েকদিন আগে করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে ওই ব্যক্তির। তারপর থেকেই তার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে দেয় পুলিশ।

লকডাউনের পর থেকেই তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকেও বিরত আছেন। এরমধ্যে পুলিশ জানতে পারে তার আবাদি একখণ্ড জমির ভুট্টা পরিপক্ব হয়ে গেছে। অথচ তিনি হোম আইসোলেশনে থাকায় তা কাটতে পারছেন না।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশের প্রধান জাহিদুল ইসলাম সিদ্ধান্ত নেন তার ক্ষেতের ভুট্টা কেটে দেওয়ার। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশের একটি দল ওই ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে ভুট্টা কর্তন করে। এরপর তা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পৌঁছে দেওয়া হয় তার বাড়িতে।

এ কাজে আরও অংশ নেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ও পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবীরসহ গ্রামের কিছু স্বেচ্ছাসেবী। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।

কিন্তু করোনা আক্রান্তের পর থেকে কাজ করতে না পেরে অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে পরিবারটি। তাই পুলিশ চেষ্টা করছে পরিবারটির পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার। তাই তার বাড়িতে নিয়মিত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দেবেন

পবিত্র মাহে রমজানের রোজা গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের ওপর রমজান মাসে রোজা পালন ফরজ করে দিয়েছেন।

রোজাদারদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত সওয়াব। রোজার বিনিময় স্বয়ং আল্লাহ দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। (মুসলিম: ২৭৬০)।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান উপস্থিত হয়েছে। রমজান এক বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ করেছেন।

এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শিকলবদ্ধ করা হয়। এ মাসে আল্লাহ এমন একটি রাত রেখেছেন, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত’। (নাসায়ি : ২১০৬)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১৫৫১)।

হজরত সাহল বিন সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সা.) এরশাদ করেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বোখারি : ১৭৯৭)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যারা হিদায়াতকে বর্জন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর শক্তিকে ভয় করেন এবং তার নির্দেশকে সত্য প্রতিপন্ন করার কারণে রহমতের আশা ছাড়েন না তারাই মুত্তাকি।

মাসব্যাপী রোজা পালন করে যদি তাকওয়া অর্জন করা না যায়, তা হলে এ রোজা অর্থহীন উপবাস ও নিছক আত্মপ্রবঞ্চনায় পর্যবসিত হয়। (মুসলিম: ২১৩৪)।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন– যে ব্যক্তি বাজে কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ নিছক উপবাস ছাড়া আর কিছু নয়’। (বোখারি: ১৮০৪)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে আরও এরশাদ করেন-শুধু পানাহার বর্জনের নাম রোজা নয়। রাজা হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ বর্জন করার নাম। কেউ তোমাকে গালি দিলে বা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তুমি তার সঙ্গে তেমনটি না করে কেবল এটুকুই বলো– আমি রোজাদার’। (মুসলিম: ২৪১৬)।

শুধু না খেয়ে থাকাই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মুখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখতে হবে। সংযমের পরিচয়ে দিতে হবে সবক্ষেত্রে।

পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা রোজাদারদের অপরিহার্য কর্তব্য।