ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে নারায়ণগঞ্জ এসেছেন ডা. মশিউর

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৭ ১৪:৪৯:৪২ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৭ ১৪:৪৯:৪২

আমানুর রহমান রনি: করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের দুর্দশা ও কষ্ট দেখে তাদের চিকিৎসা করানোর জন্য নিজেই আবেদন করে বদলি হয়ে নারায়ণগঞ্জ এসেছেন চিকিৎসক মশিউর রহমান। তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় দীর্ঘ আলাপচারিতায় স্বেচ্ছায় বদলির কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। মশিউর রহমান ৩৯তম বিসিএস’র স্বাস্থ্য ক্যাডারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক। তার নানা একজন বীরউত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। পিলখানার তিন নম্বর গেইটটি তার নানার নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি হলেন বীরউত্তম সুবেদার হাবীবুর রহমান।

মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কর্মরত ছিলাম। কিন্তু সেখানে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও করোনা রোগী ছিল না। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আমাদের চিকিৎসকরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু চিকিৎসক তো সবজায়গায় সীমিত। আমি দেখলাম সিরাজগঞ্জে বসে থেকে কোনও লাভ নেই। তাই মনে মনে ইচ্ছা জন্মালো আমি যদি করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত রোগীর সেবা করতে পারতাম। জাতির এইসময় যদি পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলে আমার মেধা ও পরিশ্রম কাজে লাগবে। কিন্তু হঠাৎ করে উপায় মিলছিল না। তাই উপায় খুঁজতে লাগলাম। যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বদলি হতে চাই, তাহলে ফাইল চালাচালি ও অর্ডার হতে সময় লাগবে। তাই আমি নিজেই ২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতরে মহাপরিচালক বরাবর নারায়ণগঞ্জে বদলি হওয়ার জন্য আবেদন করলাম। এরমধ্যে আমি আমার মায়ের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করছি। মা তখন আমাকে বলল, সব উপজেলা ও জেলাই তো আক্রা’ন্ত হতে পারে। তুমি যদি নারায়ণগঞ্জ যেতে চাও সিদ্ধান্ত তোমার। আমি মাকে বুঝালাম যথাযথ প্রটেকশন পেলে ভাইরাস আক্রা’ন্ত হবো না। আমার পরিবার আমার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন। তারা সায় দিলেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তা কমে না।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর করা আবেদনে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি ডা. মশিউর রহমান, সহকারী সার্জন, দোবিলা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জে কর্মরত আছি। দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা রোগীদের সেবাদানের জন্য আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা নিবেদিত হাসপাতালসমূহে সরকারি ডাক্তারদের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমি, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের যে কোনও জেলায় করোনা টিমে বদলি হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করতে ইচ্ছুক।-বাংলা ট্রিবিউনএক্সক্লুসিভ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের দা’পটে না’জেহাল গোটা বিশ্ব। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রা’ন্ত হচ্ছেন। কিন্তু তাই বলে ছাগল, গাছের ফলেরও করোনা রিপোর্ট পজিটিভ! হ্যাঁ, কিছুকিছু ক্ষেত্রে পশুদেরও যে করোনা সং’ক্রমণ হতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু তাই বলে ফলেরও করোনা! এক কথায় অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবই সম্ভব হয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায়। আর এরপরেই টেস্টিং কিটের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দেশটির রাষ্ট্রপতি নিজেই। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

রবিবার তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি জন মাগুফুলি বলেন, ওই টেস্ট কিটগুলি বিদেশ থেকে আমদানি করা। তবে কোন দেশ থেকে তা এসেছে সেটা তিনি বলেন। মাগুফুলি জানান, টেস্টিং কিটের মান নির্ণয়ের জন্য তিনি নিরাপত্তাবাহিনীর কিছু কর্তাকে ছাগল, ভেড়া, পওপও বলে এক ধরণের ফল থেকে কিছু নমুনা নিয়ে তা মানুষের নাম দিয়ে ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে। নমুনা গুলি কোথা থেকে নেওয়া সেই বিষয়ে কাউকে কিছু বলাও হয়নি।

টেস্টের রেসাল্ট আসার পর দেখা গেছে ওই ফল, ছাগল, ভেড়ার নমুনাও নাকি পজিটিভ এসেছে। আর এতেই ওই টেস্টিং কিটের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, অনেক মানুষ যাদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, তারা হয়তো আদৌ করোনায় আক্রা’ন্ত হননি। ‘অবশ্যই কোথাও একটা গন্ডগোল আছে। আমি আগেও বলেছি বিদেশ থেকে আমদানি করা সব জিনিস ভালো নাও হতে পারে’,বলেন তিনি। উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত তানজানিয়ায় ৪৮০ জন করোনায় আক্রা’ন্ত হয়েছেন আর ১৭ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।