ঢাকা, আজ রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১

আপনার ভালো না লাগলে দূরে গিয়ে মরেন। কাছে মরলে গন্ধ আসবে।

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৯ ১৯:৪০:৫৮ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৯ ১৯:৪০:৫৮

আমি বংশগত ভাবে আলেম ফ্যামিলির ছেলে। নিজেও মাদ্রাসার ছাত্র। সেদিন আমাকে আমার বড় আপু বলতেছিলেন যে আমার ভাগ্নে কে হিফজ বিভাগে ভর্তি করাবেন। আমি স্বভাবে ঠোঁট কাটা, তাই রাখঢাক না রেখেই বলে দিলাম- আনাস তো দেখতে কিউট তাই হোস্টেলে দেয়া ঠিক হবে না। যে মাদ্রাসায় দিবেন সে মাদ্রাসার পাশেই বাসা নিবেন। পাঠ শেষে সোজা যেন বাসায় চলে আসে- সেদিকে খেয়াল রাখবেন। পরে আপুর কথা শুনে অবাক হয়ে খেয়াল করলাম- আমার মতো তিনিও একই ব্যাপারটা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। আমি বলাতে আপু তার টেনশনের কথাটা আমাকে অকপটে বলতে পারলেন। আমি আগ বাড়িয়ে না বললে হয়তো ভেতরেই চেপে রাখতেন। খুব স্বভাবিক ভাবে কথা শেষ করে ফোন রেখে আমি নিজেই অবাক। স্বভাবগত ভাবেই এইটা নিয়ে এসপার ওসপার ভাবতে লাগলাম। আমার ভাবার কারনটা এতক্ষনে আপনাদের বুঝে ফেলার কথা। হ্যাঁ, একদিকে মাদ্রাসায় বাচ্চাদেরকে পড়ানোর জরুরত যেমন আমরা অস্বীকার করতে পারছি না আবার এই অঙ্গনটা নিয়ে আস্থার জায়গাটাও ধরে রাখা যাচ্ছে না। অথচ আমরা বংশগত ভাবেই মাদ্রাসা প্রজন্ম। দাদা একাধিক মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, বাবাও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা- এর পরেও আমাদের আস্থার জায়গাটা কোথায় যেন উবে যায়। ভাবতে পারেন!

মাদ্রাসার সম্মান, হুজুরদের সম্মান আর মানুষের আস্থা চলে যাওয়ার ভয়ে আমরা কথা বলি না। কিন্তু একটা সমস্যা বড় হতে হতে প্রকান্ড হাতির আকার ধারণ করেছে সেটা নিয়ে কথা বলা যাবে না- কি আশ্চর্য! আরে ভাই ইসলামের মান ইজ্জত চলে যাচ্ছে গুটিকয় রুচিহীন হুজুরের কারণে আর আপনি সম্মান ধুয়ে পানি খাবেন? সম্প্রতি মাদ্রাসায় সমকামিতা ও যৌনতার একাধিক ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় অনেকেই কথা বলতে শুরু করেছেন। ফেসবুকে জেনারেল শিক্ষিত, মাদ্রাসা শিক্ষিত এমনকি ইমামের খুতবায় পর্যন্ত প্রসঙ্গটা উঠে এসেছে। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলাম কিছু মাদ্রাসার ছাত্র এসব সহ্য করতে না পেরে বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করছে। এগুলো করে এরা কি অর্জন করবে?

আচ্ছা ভাই, হুজুররা যে ধরা খেয়েছে সেটা কি অস্বীকার করতে পারবেন? একই যৌনতার অভিযোগে স্কুল শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুলিশ, ছাত্রনেতা- কোন শ্রেনীর লোক ধরা খাচ্ছে না বলেন? সোজা বাংলায়- এই কুরুচিপূর্ন অমানুষ গুলো যে যার সামনে যেইটা পাচ্ছে সেইটারে ধরে লাগাচ্ছে। হুজুর বেশে ঘুরে বেড়ানো পশু গুলো মেয়ে পায় না তাই ছেলেদের উপর চালিয়ে দিচ্ছে, অন্যরা মেয়ে পাচ্ছে তাই সেটাই কাজে লাগাচ্ছে। আপনি আমি যে মান সম্মান আর জনআস্থা হারানোর ভয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না তাঁদের অবস্থা হল ঐ বলদ লোকটির মতো যাকে ৪০ টি জুতার বাড়ি দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু ২০ টি জুতার বাড়ি দিয়ে ছেড়ে দেয়ার পরে সে মনে করছে “যাক বাবা মানির মান আল্লাহই রাখেন, মাত্র ২০ টা জুতার বাড়িতেই ছাড়া পাইলাম ৪০ টা দিলে মান ইজ্জত সব যাইতো”।

এই পাশবিক যৌনতা কোনও একক অঙ্গনের সমস্যা না। এটা মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস আদালত, গাড়ি, বাড়ি- সব জায়গায় হচ্ছে। এখানে যে সম্মানের হানি হয়েছে সেটা আমাদের সবার, গোটা জাতির। এখন আপনি সম্মান বেঁচে পানি খান, মুড়ি খান বাট ইট হ্যাজ টুবি স্টপড রাইট নাউ। এখন আমাদেরকেই সেকটর বাই সেক্টর এটাকে প্রতিহত করার জন্য কাজ করতে হবে। এই কাজের প্রথম ধাপ হল কথা বলা, সাহস ও সততার সাথে সমস্যাটা নিয়ে আলোচনা করা। আপনার ভালো না লাগলে দূরে গিয়ে মরেন। কাছে মরলে গন্ধ আসবে।