ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

আগামী শুক্রবার মুসল্লিরা মসজিদ খুলে নিবে: মুফতী ফয়জুল করীমের হুশিয়ারি

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৬ ০৬:১১:০২ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৬ ০৬:১১:০২

আগামী শুক্রবার জুমার নামাজে মুসুল্লিরা মসজিদে খুলে নিবে বলে সরকারকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

সোমবার (৪ মে) মুফতী ফয়জুল করীম তার একান্ত সহকারী আবু বকর সিদ্দিক এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ভিডিও বার্তায় তিনি- ‘গার্মেন্টস খোলা, শপিংমল খোলা, বাজার খোলা কিন্তু মসজিদ কেন বন্ধ থাকবে’ এমন প্রশ্ন তুলে সরকারের কঠোর সামলোচনা করেন।

এছাড়াও কওমী মাদরাসায় সরকারের নামমাত্র অনুদানেরও সমালোচনা করেন তিনি। একেকটা মাদরাসায় মাত্র ১৫ হাজার (প্রায়) টাকার মতো বরাদ্দ দিয়ে সরকার কওমী মাদরাসাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এসময়।

ভিডিও বার্তায় মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন শপিংমল খোলা হয়েছে, এর আগে গার্মেন্টস খোলা হয়েছে, দোকানপাট খোলার অনুমতি দিচ্ছে তাহলে মসজিদ কেন খুলে দিচ্ছে না। আমি বলবো, ইসলাম বিদ্বেষীরা মসজিদ খোলার অনুমতি দিবে না বরং মুসলমানদেরকে মসজিদ খুলতে হবে। ফয়জুল করীম বলেন, মসজিদ খোলার অনুমতি দিবে না বরং মুসলমানদেরকেই মসজিদ খুলতে হবে। যদি সরকার খুলে তো ভালো কথা, যদি না খুলে তবে আগামী জুম্মার মসজিদে আমরা সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে মসজিদে নামাজ পড়বো।

‘শনাক্ত করবেন কিভাবে মসজিদ থেকে সংক্রমণ হয়েছে?’ এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এখনো শপিং মল খোলা, বাজার-ঘাট খোলা, গার্মেন্টস খোলা হয়েছে আগেই। নির্বিঘ্নে মানুষ যাতায়াত করতেছে, ঘুরতেছে, একত্রিত হচ্ছে। সেখানে মসজিদ থেকে সংক্রমণে হবে এই যুক্তি খোড়া যুক্তি, এটা অযৌক্তি যুক্তি- এটা কোনো মুমিন মুসলমান মানতে পারে না।

কাজেই আমি সরকারকে বলবো যদি আপনি আপনার সম্মান ইজ্জত, আপনার অবস্থান আপনি ঠিক রাখতে চান; তাহলে ঘোষণা দিন যে, আগামী শুক্রবার সমস্ত মুসল্লীরা পাক-পবিত্র হয়ে এবং সর্তকতা অবলম্বন করে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করবে। যদি ব্যর্থ হন তাহলে মুসলমানরা তাদের সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে নিবে। কওমী মাদরাসায় নামমাত্র বরাদ্দের সমালোচনা করে মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, কওমী মাদরাসার নামে যে তামাশা করেছে সরকার; আমি মনে করি এই হয় প্রতিপন্ন করা ঠিক হয়নি।

যেখানে অনেক মাদরাসায় প্রতি মাসে ঝাড়ু ক্রয় করার জন্য কিংবা হারপিক ক্রয় করার জন্য হাজার হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় সেখানে মাত্র ১৫ হাজার টাকা করে সরকার একটি বরাদ্দ দিয়েছে, এটা বরাদ্দ না- এটা কওমী মাদরাসাকে হেয় করা। তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদান কিংবা অনুকম্পায় চলে না। কোনো সরকারি অনুগ্রহ গ্রহণ করে না। আল্লাহর উপর ভরসা করে কওমী মাদরাসা আগেও চলছে সামনেও চলবে ইনশাআল্লাহ।

বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের টাকা ও খাদ্রসামগ্রী আত্মসাতের সমালোচনা করে মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, আজকে ত্রাণ নিয়ে যে লুটপাট, যে চুরি চলতেছে। আমরা হতাশ হয়ে গেছি। এরকম যদি হয় দেশ উন্নয়ন হবে কিভাবে? আমি সরকারকে বলবো, চুরি বন্ধ করুন। যাদের মাধ্যমে ত্রাণ প্রাপ্য এমন ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো যায় এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন। যদি আপনি ব্যর্থ হন তাহলে আমি মনে করব সরকারের এই চেয়ারে থাকার অধিকার আপনার নেই। ভিডিও বার্তায় সবশেষে তিনি সামর্থবানদের প্রতি এলাকার দূর্গত, অসহায়, দারিদ্রপীড়িত ও ইমাম-উলামাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানা। তিনি বলেন, অনেক আলেম ইমামতি করতেন, মক্তবে পড়াতেন।

দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তারা হতদরিদ্র অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে। সেহেতু আমি সকল মুমিনদেরকে বলবো এরকম দরিদ্র আলেমদের পাশে আমরা দাঁড়াই। গরীব দুখী মেহনতী মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াই। যেন কোনো অবস্থাতেই কোনো মানুষ না খেয়ে থাকে না। এরকম পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, যেখানে যে ব্যক্তি দুরবস্থায় আছে আমরা খোঁজ নিয়ে তার পাশে দাঁড়াই। আর খাস করে যারা ত্রাণ বিতরণ করতেছেন। যে সংগঠন-সংস্থাই হোক না কেন আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই।

কঠিন বিপদের সময় মুসলমানদের দু’আয় গুরুত্বপূর্ণ ‘পাওয়ার’ রয়েছে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিপদের সময় মুসলমানদের প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার আমি দেখেছি।

তারা বিপদের সময় নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করে তোলেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে শুভেচ্ছা জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মুসলমানগণ দীর্ঘ এক মাস যাবত অনাহার যাপন করেন এবং প্রার্থনা করেন।

তারা এর মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধি অর্জন করেন। আমি এই মহিমান্বিত রমজান মাসে তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, রমজানের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

যার মাঝে আমেরিকায় মুসলিম অভিবাসীদের নিষিদ্ধ করা অন্যতম। এছাড়াও তিনি ফিলিস্তিনে অর্থায়ন বন্ধ, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি ও গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের নামে লিখে দেওয়া সহ নানান মুসলিম বিরোধী কার্যক্রমে অনুমোদন দেন।

আলহামদুলিল্লাহ! মসজিদগুলো খুলে দেয়ার ঘোষণা আসতেছে: মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ

দেশের প্রখাত আলেম দীন, বিশিষ্টি ফকীহ মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে উলামায়ে কেরামের দাবী অনুযায়ী সুস্থ বেক্তিদের জন্য মসজিদগুলো খুলে দেয়ার ঘোষণা আসছে।

তিনি মঙ্গলবার (৫মে) রাত ১০টার দিকে এই স্টাটাস দেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পোষ্টটিতে ১৩০০ মানুষ লাইক করেছে ও ১৮৮টা কমেন্ট দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পোষ্টটি ২৪১জন মানুষ সেয়ার করেছে।

পোষ্টের কমেন্টে গোলাম মোস্তফা লিখেছেন, কোটি কোটি ইমানদারগণের প্রানের দাবী, অবিলম্বে মসজিদ সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হউক।

মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ লিখেছেন, কোটি মুমিনের দিলের তামান্না পূরণের পথে ইনশাআল্লাহ।

সাইট সাব্বির আহমেদ লিখেছেন, সীমিত আকারেত খোলা আছে। নতুন সীমিত আকার কেন? আমভাবে মসজিদে জামাত আদায় করার আনুমতি দেওয়া হোক। ইনশাআল্লাহ মহান রাব্বে কারীম আমাদের এই করোনা মহামারী থেকে হেফাজত করবেন।

আবু বকর সিদ্দীক্ব লিখেছেন, রমজানের পর মাদরাসা গুলোও খোলার ব্যবস্থা নিলে উপকৃত হবো।

আমাদের মতো বেকুব জনগণের বেঁচে থাকার দরকারইবা কী?

ফরিদ কবির (ফেসবুক থেকে): করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ১০ হাজার ছাড়ালো! বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যাটা কতো হতে পারে, আন্দাজ করেন তো? ২০ হাজার? ৩০ হাজার? ৪০ হাজার? আচ্ছা, ধ’রে নিচ্ছি ৩০ হাজারই। এই মে মাসে আক্রা’ন্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সেখানে আমরা সব দরোজা-জানালা একেবারে বন্ধ করে দেয়ার বদলে খুলে দিতে শুরু করেছি!

দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টারগুলি খুলে দেয়ার পর আক্রা’ন্ত ৩০ হাজার রোগীর প্রত্যেকে গড়ে ৭ দিনে ৫ জন লোককে আক্রা’ন্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ৫০ হাজার! তারা প্রত্যেকে পরবর্তী ৭ দিনে আরো ৫ জন করে আক্রা’ন্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজারে! থাক, আরো কম করে বলি। ধ’রেন আক্রা’ন্তের সংখ্যা ঈদের আগেই দাঁড়ালো ৫ লাখ। ধ’রা যাক, এদের মাত্র ১০ শতাংশ মৃ’ত্যুবরণ করলো। তো, মৃত্যুর সংখ্যা কতো দাঁড়াবে?

জ্বি, এ মাসেই আক্রা’ন্তের সংখ্যা চূড়া স্পর্শ করতে পারে। এ সময়ে আমরা সামাজিক দূরত্ব না বাড়িয়ে তাকে সামাজিক ঢলাঢলিতে পরিণত করতে চলেছি। ফলে, যারা করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন বলে আমরা আশংকা করছি, সেটাকে আত্মহ’ত্যা ধরে নেয়াই সঙ্গত হবে। আপনারা দোকানপাট, শপিংসেন্টার, রেস্তোরাঁ খুলে দিলে লোকজন কি সেখানে যাবেন না? বাঙালিরা খুবই ধার্মিক প্রজাতির। তারা বিশ্বাস করেন, ‘রাখে আল্লাহ, মারে কে?’