ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

দুঃস্থরা আটার প্যাকেট খুলতেই দেখেন নগদ ১৫,০০০ টাকা!, যা বললেন আমির খান!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:৩১:৪৫ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:৩১:৪৫

বিনোদন ডেস্ক :লকডাউনের পরি’স্থিতিতে চ’রম আ’র্থিক সং’কটে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে অনেক পরিচিত মুখ। পিছিয়ে নেই বলিউড তারকারা। সাহায্য করেছেন আমির খানও। দুঃস্থদের এক কিলোগ্রাম করে আটার প্যাকেট দেন তিনি। শুধু তাই নয়, সবার অলক্ষ্যে প্যাকেটের মধ্যে ১৫,০০০ টাকা নগদ রেখে দিয়েছেন।

দিনকয়েক ধ’রে সোশ্যাল মিডিয়ায় এরকম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, আটার পরিমাণ কম হওয়ায় তা অনেকেই নিতে অস্বী’কার করেছেন। তবে অনেকেই সেই প্যাকেট নিয়েছেন। আর প্যাকেট খুলতেই তারা চমকে ওঠেন। কারণ প্যাকেটের মধ্যে নগদ ১৫,০০০ টাকা রয়েছে। যাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন, শুধুমাত্র তারা যাতে সাহায্য পান, তা নি’শ্চিত করতে আমির এরকম কাজ করেছেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সোশ্যাল মিডিয়ার আমিরের চিন্তাভাবনা তারিফ করেন অনেকেই। তবে সোমবার খোদ আমির জানিয়ে দিলেন, গমের প্যাকেটে তিনি টাকা দেননি। একটি টুইটবার্তায় মিস্টার পারফেকশনিস্ট বলেন, ”বন্ধুরা, আটার প্যাকেটে আমি টাকা রাখা ব্যক্তি আমি নই। এটা পুরোপুরি ভুয়ো খবর বা রবিন হুড নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।”

সেই টুইটের পর আমিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। তাদের বক্তব্য, টাকা না দিয়েও টাকা দেওয়ার প্রচারের সুযোগ অনেকেই হাতছাড়া করতেন না। কিন্তু আমির সেই পথে হাঁটলেন না। বরং সত্যিটা সবাইকে জানিয়ে দিলেন। সেজন্যই তিনি মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমসঅভাবের কারণে নবজাতক সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আষাঢ়ীয়ারচর গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত বাবুর্চি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মনি বেগম।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে অভাব-অনটনে ও ধার-দেনা পরিশোধ করতে হতদরিদ্র তিনি সদ্যভূমিষ্ট কন্যা সন্তানকে অল্প টাকায় বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করেন। সোমবার তিনি ওই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম ওই মা ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন।

তাৎক্ষণিক ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর কবির ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ আহম্মেদের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রেরণ করেন চেয়ারম্যান মাসুম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে চলে গেছে তার স্বামী বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম। ৩ সন্তানকে বুকে ধরে একটি কারখানার ম্যাচে রান্নাবান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল মনি বেগম। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কারখানার উৎপাদন এখন বন্ধ। এ কারণে লোক না থাকায় ম্যাচের রান্নাবান্নার কাজও বন্ধ। এরই মধ্যে গত সোমবার অন্তঃসত্ত্বা মনি বেগমকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে সে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়।

বাড়ির মালিক জুয়েল মিয়া জানান, আর্থিক অনটনের কারণে আরও ২ মাস আগে থেকে আমরা ওই অসহায় পরিবারের বাড়ি ভাড়া নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। অভাবে নিজের সন্তান বিক্রির চেষ্টার বিষয়টি আমরা পরে জানতে পেরেছি।

এ দিকে বিষয়টি সোমবার স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে জানার পর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে মনি বেগমকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত ও ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, টাকার অভাবে একজন মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেবেন এটা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এটা একটি হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। শুধু করোনা প্রাদুর্ভাবে নয়, আজীবন আমি ওই অসহায় পরিবারের পাশে থাকব ও সহযোগিতা করব ইনশাআল্লাহ