ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঘরে ব’ন্দি করোনায় আক্রা’ন্ত মা, উঁকি দিয়ে মাকে খুঁ’জছে একমাত্র শিশু সন্তান

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২৮:১৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২৮:১৮

চাঁদপুর: উঁকি দিয়ে খুঁ’জছে মাকে শিশু সন্তান, সাড়া দিচ্ছেন না মা। ছোট্ট কোমলমতি পা দুটি উঁচু করে, নরম তুলতুলে হাত দিয়ে শ’ক্ত করে জানালার গ্রিল ধ’রে উঁকি-ঝুঁ’কি’ মে’রে মাকে দেখার চেষ্টা করছে। ডাকছে মা মা বলে এই বছর তিনেকের শিশু ছেলে। তবু সাড়া মিলছে না। মায়ের সাড়া না পেয়ে, চিৎ’কার, চেঁ’চামে’চি তারপর কাঁদতে শুরু করা। এমনই এক চিত্র ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়ার ঘরে। করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না তিনি।

সারাদিন বাচ্চাটি কেবল মাকে ডাকছে। মায়ের কাছে যেতে চাওয়া ছাড়া আর একটি কথাও বলে না। অথচ মা পাশের কক্ষে থেকেও একবার কোলে তু’লে নিতে পাড়ছেন না অবুঝ শিশুটিকে। ছেলের কান্নাকে উপেক্ষা করে ঘরে দরজা বন্ধ করে থাকার য’ন্ত্র’না কেবল সেই মা বলতে পারেন!

হঠাৎ করে কেউ দেখলে বলবেন, এ কেমন মা! ঘরে থেকেও সন্তানের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না। তিনি কি অভিমান করে বসে আছেন? নাকি লু’কোচু’রি খেলছেন?

না তিনি (মা) অভিমানও করেননি, আর লু’কোচু’রি খেলছেন না। তবে ভবনের একটি কক্ষে বসে নীরবে কাঁদছেন। কারণ তিনি করোনা পজিটিভ। তাই শিশু সন্তান দ্বিজরাজসহ পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা রয়েছেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়ার দৈনিক জীবনযাপনের গল্প এখন এটি।

তিনি করোনা ঠে’কাতে, প্রান্তিক মানুষের সেবা নিশ্চিতকরণে ত্রাণ বিতরণ, কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সম্মুখভাগের যো’দ্ধা হয়ে মাঠ প্রশাসনে প্রজাত’ন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট সত’র্ক থাকলেও সং’ক্র’মণ এ’ড়ানো সম্ভব হয়নি তার। গত ২৯ এপ্রিল ইউএনও’র করোনা পজিটিভের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সা’র্জন। এরপর থেকেই তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এর আগে ২৭ এপ্রিল ন’মুনা পরীক্ষা করান তিনি। তবে কোনো উপসর্গ না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন, সেই কৌতু’হলবশত নমুনা পরীক্ষা করান।

এদিকে সরকারি বাসভবনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা থাকতে হয় ইউএনওকে। কিন্তু তার একমাত্র শিশু সন্তান কি বোঝে হোম কোয়ারেন্টাইন কি? সারাক্ষণ মা মা বলে চিৎকার-চেঁ’চামে’চি, তারপর কাঁদতে থাকা। তাকে কে বোঝাবে, কতটা ভালোবাসা নিয়ে তার মা দরজা বন্ধ করে বসে আছেন।চেইম ক্যানিভস্কি নামে একজন ইহুদি ধর্মযাজক দাবি করেছেন, পৃথিবীতে দাজ্জালের আবির্ভাব হয়ে গেছে। তিনি আরো দাবি করেছেন, দাজ্জালের সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তবে দাজ্জাল এই মূহূর্তে কোথায় অবস্থান করছেন তা এই ধর্মযাজক প্রকাশ করেন নি।

চেইম ক্যানিভস্কি নামের এই যাজক হযরত মুহাম্মদ (সঃ) একটি হাদিসও বিশ্লেষণ করেছেন, হাদিসটির আলোকেই তিনি দাবি করেছেন দাজ্জাল খুব দ্রুত সবার সামনে নিজেকে প্রকাশ করবেন।

হাদিসটিতে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, তামিম আদ-দারি ছিল একজন খ্রিস্টান। সে আমার কাছে আগমণ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছে, যা তোমাদের কাছে আমার বলা দাজ্জালের ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।

তামিম আদ-দারি বলেছে, কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে আমি একবার সমুদ্রভ্রমণে বের হই। একসময় ঝড়ের কবলে পড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে যাই। এক মাস পর্যন্ত সমুদ্রের ঢেউ আমাদের নিয়ে খেলা করতে থাকে। পরিশেষে, ঢেউ পশ্চিম দিকের একটি দ্বীপে আমাদেরকে নিয়ে পৌঁছায়। তারপর আমরা ছোট ছোট নৌকায় চড়ে দ্বীপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। সেখানে এক বিশেষ প্রাণীর সন্ধান পাই। প্রাণীটি স্থূল ও ঘনচুলবিশিষ্ট। কথপকথনে সে জানাল, সে জাসসাসাহ (সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা)। বলল, তোমরা ওই ঘরের দিকে যাও সেখানে একজন তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেখানে আমরা দীর্ঘকায় এক মানবকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলাম। এমন ভয়ংকর মানুষ আমরা ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি। তার হাত দু’টিকে ঘাড়ের সঙ্গে একত্রিত করে হাঁটু এবং গোড়ালির মধ্যবর্তী স্থানে লোহার শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছে।

সে শুরুতে আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমরা পরিচয় দিলে সে বলে, আমাকে তোমরা ‘বাইসান’ সম্পর্কে সংবাদ দাও। সেখানের খেজুর গাছগুলো কি এখনও ফল দেয়? আমরা জানাই, হ্যাঁ। সে বলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন গাছগুলোতে কোন ফল ধরবে না। এরপর সে বলল, আমাকে তাবরিয়া উপসাগর সম্পর্কে সংবাদ দাও। সেখানে কি এখনও পানি আছে? বললাম, প্রচুর পানি আছে। সে বলল, অচিরেই সেখানকার পানি শেষ হয়ে যাবে। সে আবার বলল, আমাকে যুগার কূপ সম্পর্কে সংবাদ দাও, সেখানে কি এখনও পানি আছে? বললাম, প্রচুর পানি রয়েছে। লোকেরা সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে। আমাকে উম্মিদের নবি সম্পর্কে জানাও- সে প্রশ্ন করলে আমরা বলি, তিনি মক্কায় আগমন করে বর্তমানে মদিনায় হিজরত করেছেন। আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে? তার প্রশ্নের জবাবে আমরা বলি, হ্যাঁ। পার্শ্ববর্তী আরবদের ওপর তিনি জয়লাভ করেছেন। ফলে তারা তার আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, তার আনুগত্য করাই তাদের জন্য ভালো।

এরপর সে বলল, এখন আমার কথা শোনো- আমি হলাম দাজ্জাল। অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের ভেতরে পৃথিবীর সব দেশ ভ্রমণ করব। তবে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করা আমার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে।

এরপর রাসুল (সা.) সাহাবিদের লক্ষ্য করে বললেন, ‘তামিম আদ-দারির বর্ণনাটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। তার বর্ণনা আমার বর্ণনার অনুরূপ হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা সম্পর্কে। শুনে রাখো! সে আছে সিরিয়ার সাগরে (ভূমধ্যসাগরে) অথবা ইয়েমেন সাগরে। না! বরং পূর্ব দিকে আছে, সে পূর্ব দিকে আছে। এই বলে তিনি পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন।

দাজ্জালের সঙ্গে ইহুদিদের যোগাযোগ হতে পারে কিনা এ নিয়ে কিয়ামত বিষয়ে ইসলামি গবেষক ও বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহিম বলেন, দাজ্জাল ইতিমধ্যেই ইহুদি জাতিকে বুদ্ধি পরামর্শ দিতে শুরু করেছে পেছন থেকে। অর্থাৎ সে সামনে আসছে না কিন্তু কর্মকান্ড শুরু করেছে এবং আত্নপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় হলে সামনে এসেই ইহুদিদের নেতৃত্ব দেবে।