ঢাকা, আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

আমাদের মতো বেকুব জনগণের বেঁচে থাকার দরকারইবা কী?

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২৬:১৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২৬:১৯

ফরিদ কবির (ফেসবুক থেকে): করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ১০ হাজার ছাড়ালো! বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যাটা কতো হতে পারে, আন্দাজ করেন তো? ২০ হাজার? ৩০ হাজার? ৪০ হাজার? আচ্ছা, ধ’রে নিচ্ছি ৩০ হাজারই। এই মে মাসে আক্রা’ন্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সেখানে আমরা সব দরোজা-জানালা একেবারে বন্ধ করে দেয়ার বদলে খুলে দিতে শুরু করেছি!

দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টারগুলি খুলে দেয়ার পর আক্রা’ন্ত ৩০ হাজার রোগীর প্রত্যেকে গড়ে ৭ দিনে ৫ জন লোককে আক্রা’ন্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ৫০ হাজার! তারা প্রত্যেকে পরবর্তী ৭ দিনে আরো ৫ জন করে আক্রা’ন্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজারে! থাক, আরো কম করে বলি। ধ’রেন আক্রা’ন্তের সংখ্যা ঈদের আগেই দাঁড়ালো ৫ লাখ। ধ’রা যাক, এদের মাত্র ১০ শতাংশ মৃ’ত্যুবরণ করলো। তো, মৃত্যুর সংখ্যা কতো দাঁড়াবে?

জ্বি, এ মাসেই আক্রা’ন্তের সংখ্যা চূড়া স্পর্শ করতে পারে। এ সময়ে আমরা সামাজিক দূরত্ব না বাড়িয়ে তাকে সামাজিক ঢলাঢলিতে পরিণত করতে চলেছি। ফলে, যারা করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন বলে আমরা আশংকা করছি, সেটাকে আত্মহ’ত্যা ধরে নেয়াই সঙ্গত হবে। আপনারা দোকানপাট, শপিংসেন্টার, রেস্তোরাঁ খুলে দিলে লোকজন কি সেখানে যাবেন না? বাঙালিরা খুবই ধার্মিক প্রজাতির। তারা বিশ্বাস করেন, ‘রাখে আল্লাহ, মারে কে?’

ফলে, তারা ভেবে নেন, করোনা আপনার হতে পারে, আমার হতে পারে, কিন্তু কেবল তাদের হবে না। তারা এতোই আল্লাহর খাস বান্দা যে করোনা তাদেরকে খুঁ’জেই পাবে না! কাজেই বেশি বেশি ঈদের শপিং করুন, হে বঙ্গসন্তানেরা। বন্ধু-বান্ধবী, দলবল নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইফতার করুন। সেহরি করুন। বিকেলে বা সন্ধ্যেবেলা ডেটিঙে যান। পানশালাগুলোই বা বাকি থাকবে কেন? সেগুলোও খুলে দেয়া হোক। সতেরো কোটি মানুষের মধ্যে দশ-বিশ হাজার ম’রে গেলে কী এসে যায়!

এটা স্পষ্ট, সরকারকে ভালো বুদ্ধি দেয়ার কেউ নাই! সরকার আছে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায়। একদিকে সাধারণ ছুটি দিচ্ছে, অন্যদিকে সব খুলে দিচ্ছে! আমাদের দেশে স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবী বলতে কি কেউ নাই, যারা সরকারকে একটু সুবুদ্ধি দিতে পারে? আসলেই আমাদের দেশে বুদ্ধিজীবী এখন কারা? দু’-একটা নাম বলেন তো? যার বা যাদের কথায় সরকার কান দেবে?

মানে, গুরুত্বের সঙ্গে তাদের কথা শুনবে? আমি সত্যিই তাদের খুঁ’জছি। সরকারকে সৎ পরামর্শ দেয়ার কেউ কি আছেন? সরকারের ভুল কর্মকাণ্ডের সমালো’চনা করতে পারেন, উচিত কথা কইতে পারেন, এমন আছেন কেউ? নাকি সরকারের কাছে সকলেই মাথা বিক্রি করে দিয়ে বসে আছেন? আমার তো এখন সব বুদ্ধিজীবীকেই মাথাহী’ন মনে হয়। তারা কেবল ধ’রটুকু নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন! বেড়াক তারা।

চলেন আমরা ঈদের শপিং করি, রেস্তোরাঁয় বসে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে খাওয়া দাওয়া করি। তারপর করোনা ভাইরাসের মালা গলায় পরে সদলবলে আত্মহ’ত্যা করি। আমাদের মতো বেকুব জনগণের বেঁচে থাকার দরকারইবা কী? লেখক: কবি ও সাংবাদিকনিউজ ডেস্ক : ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ১১টি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার প্যাক খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১০ হাজার প্যাক খাদ্য বিতরণ শুরু হয়েছে। এভাবে মোট এক লাখ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

সোমবার (৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

এতে বলা হয়, দ্বিতীয় পর্যায়ে গতকাল ঢাকা সিটির আবুল হোটেল, খিলগাঁও, বাসাবো, বাড্ডা, কামরাঙ্গীর চর, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কালশিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার প্যাক খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট আট হাজার প্যাক আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো হবে। প্রতিটি এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগত করে তাদের পরামর্শসহ এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সহায়তা নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সঙ্গে থেকে এই খাদ্য বিতরণ করবেন।

প্রতি প্যাক খাদ্যে রয়েছে ২০ কেজি চাল, ৪ কেজি আটা, ১ কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি খেসারি, ১ কেজি ছোলা, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, আধা কেজি লবণ, ৮০ মিলি সরিষার তেল, আধা লিটার সয়াবিন তেল, ৪০ গ্রাম শুকনা মরিচ ও ১ পিস সাবান।

দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে এই খাদ্য কর্মসূচিতে অর্থ এবং চাল, ডাল, তেল দিয়ে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

1 0 Google +0 0 0