ঢাকা, আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

কালী মন্দিরের প্রতিমার হাত, মাথা ও পা ভে’ঙ্গে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২৪:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২৪:০৩

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের কুমুদগঞ্জ বাজার কালী মন্দিরের প্রতিমা ভা’ঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক পল্লী চিকিৎসক ডা. মন্টু চন্দ্র সরকার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমুদগঞ্জ বাজার কালী মন্দিরের বাৎসরিক কালী পুজার জন্য তৈরিকৃত কালী প্রতিমা, ডাকিনী ও যোগিনী প্রতিমার হাত, মাথা ও পা ভে’ঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ প্রতিমাটি বৈশাখের শুরুর দিকে মন্দিরের ভিতরে ঢুকানোর কথা ছিল পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে। দেশব্যাপী লকডাউন হয়ে পড়ায় প্রতিমাটি মন্দিরের সামনে অনেকটা অরিক্ষত অবস্থায় রাখা ছিল। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এ প্রতিমাটি ভে’ঙ্গে ফেলে। মঙ্গলবার ভোর বেলা পূজা দিতে এসে এ বিষয়টি চোখে পড়ে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম, এ এসপি সার্কেল মাহমুদা শারমিন নেলী, দুর্গাপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রতিমা ভা’ঙচুরের সাথে জড়িতদের অচিরেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান ওসি মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, অপরাধীরা যত বড়ই হোক ,তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ অপরাধ করে, আর ইন্ধন যোগিয়ে কেউ রক্ষা পাবে না। যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘা’ত দিয়ে আইন শৃংঙ্খলা পরিবেশ বি’ঘ্ন ঘটাতে চায়, এ সকল অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।দেশে করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে মারা গেছে ৫০ জন। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

করোনার ক্লাস্টার এলাকা নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে কার্যত লকডাউন বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

কয়েক লাখ শ্রমিকের কলরবে মুখর হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চলখ্যাত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুর এলাকা। শ্রমিকদের কাজে যোগদানের কারণে এসব এলাকায় খুলে গেছে মুদি দোকান থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দোকানপাট।

একই সঙ্গে সোমবার মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত আসার পরপরই নারায়ণগঞ্জের কয়েক হাজার রেডিমেড পোশাক কারখানা, হোসিয়ারি কারখানাসহ ছোট ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

তাছাড়া লকডাউনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে আটা-ময়দা, তেল, ডাল, লবণসহ নিত্যভোজ্য ও খাদ্যসামগ্রীর ৪ শতাধিক ফ্যাক্টরি খোলা ছিল, যেগুলো এখনও চলছে। ফলে কর্মের তাগিদে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামছেন।

সোমবার সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে খুলতে শুরু করেছে মার্কেটগুলো। সেখানে ক্রেতা কম থাকলেও বিক্রেতারা উপস্থিত। সড়কে সড়কে ইফতারি নিয়ে বসেছে দোকানিরা।

আছে ভ্রাম্যমাণ হকার। খুলেছে ২৪৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। বন্ধ ঘোষিত সরকারি ঘাটগুলোতে পুলিশ প্রহরা থাকলেও ঘাটের ১০ গজ দূরেই অস্থায়ী ঘাট বানিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

১০ জন ধারণ ক্ষমতার ১টি নৌকায় পারাপার হচ্ছেন কমপক্ষে ৫০ জন। ফতুল্লার বিসিক ও সিদ্ধিরগঞ্জের ইপিজেড এলাকায় গিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের বাড়ি ফেরতের ও কর্মস্থলে যোগদানের দৃশ্য দেখলে বোঝার উপায় নেই নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে ২ দিন আগেই।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সত্যি কথাটা অনেক সময় বললেও বিপদ। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি দেখে অন্তত এটা বলা যায়, গুচ্ছ সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরুর খারাপ সময়ে শিল্প-কারাখানা খোলার মানে হচ্ছে আÍঘাতী।

চলতি মাসে যদি নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দ্বিগুণ করা যায় তবে এর ভয়াবহতা আর বর্ণনা করতে হবে না। এ ব্যাপারে জেলার সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী আবদুল সালাম জানান, মাত্র ১টি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ন্যূনতম ৫শ’ শ্রমিককে করোনা টেস্ট করানো হোক।