ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

করোনার ‘ভয়ে’ ছাদ থেকে লাফিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহ’ত্যা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২১:৩৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:২১:৩৯

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পুলিশের এক কনস্টেবল আত্মহ’ত্যা করেছেন।

নিহতের নাম তোফাজ্জল হোসেন (৩৯)। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) প্রোটেকশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিলপাপাড়ায় বাসার ৫ তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহ’ত্যা করেন তিনি।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান যুগান্তরকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২৮ এপ্রিল করোনা পরীক্ষা করান তোফাজ্জল। পরদিন তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

‘এরপরও বিষয়টি নিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তোফাজ্জল মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতেন না।’

ওসি বলেন, আজ সকাল ৮টার দিকে তোফাজ্জল বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। এর কিছু সময় পর ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পান তার স্ত্রী। পরে বাসার সামনের রাস্তায় তোফাজ্জলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার যুগান্তরকে জানান, সকাল ৮টায় রুম থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে তাকে নিচে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

তোফাজ্জল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার কনিকা গ্রামের সাহেদ মিয়ার ছেলে।

বর্তমানে ১৬৮/এ খিলগাঁও, তিলপাপাড়ায় স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও দুই মেয়ে তাসফিয়া মিম (১৪) ও তাসফিয়া মৌকে (১২) নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।কাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য শপিংমল খুলে দেওয়া হচ্ছে এটা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকার রমজান ও ঈদের কথা বলে প্রথমে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরে ১০ মে থেকে দোকান-পাট খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু কাকে সুযোগ করে দিচ্ছেন?

মঙ্গলবার (৫মে) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শপিংমল খুলে দিচ্ছেন খুব ভালো কথা। ঈদে আপনার মানুষগুলো যারা কাজ করে, কাপড় তৈরি করে, কেনাবেচা করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী তাদের জন্য প্রয়োজন আছে। সেটা কি মানুষের জীবনের বিনিময়ে? একটা মাস কি সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত না? আসলে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যর্থতার কারণে আজ দেশকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

‘সরকার যে শাটডাউন তুলে নিচ্ছে, এতে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে-এটা কেনো করছে? আমাদের কাছে যেটা মনে হয় সেটা হচ্ছে যে, তাদের অজ্ঞতা, উদাসীনতা ও জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা নেই সেজন্য তারা এটা করতে পারছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা দুইটাই ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু সংক্রমণ যেহেতু এখনো ঊর্ধ্বমুখী, সেহেতু আরো কিছুদিন ধরে অবরুদ্ধ সমাজিক দূরত্ব নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা উচিত ছিল।

‘আজ শুনলাম এক ভদ্রলোক বলছেন, শপিংমল খুলবে না কেনো? অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডতো চালু রাখতে হবে। আমরাও তো চাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে। সেটা কি জনগণের জীবনের মূল্যে। তাদের বাঁচিয়ে রেখেই তো সবকিছু করবেন। এটাই তো রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের দায়িত্ব।

লকডাউনে গার্মেন্ট খোলার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন সবই খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা টেলিভিশনে যেটা দেখছি সেটা ভয়ংকর পরিস্থিতি একটা। প্রায় বেশিরভাগ কারখানায় নিরাপত্তার যে ন্যূনতম ব্যবস্থা, সেগুলো নেই।