ঢাকা, আজ রোববার, ১ নভেম্বর ২০২০

সোনারগাঁয়ে অভাবে নবজাতক বিক্রির চেষ্টা মায়ের, অতঃপর…

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৮:৫৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৮:৫৮

অভাবের কারণে নবজাতক সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আষাঢ়ীয়ারচর গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত বাবুর্চি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মনি বেগম।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে অভাব-অনটনে ও ধার-দেনা পরিশোধ করতে হতদরিদ্র তিনি সদ্যভূমিষ্ট কন্যা সন্তানকে অল্প টাকায় বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করেন। সোমবার তিনি ওই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম ওই মা ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন।

তাৎক্ষণিক ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর কবির ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ আহম্মেদের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রেরণ করেন চেয়ারম্যান মাসুম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে চলে গেছে তার স্বামী বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম। ৩ সন্তানকে বুকে ধরে একটি কারখানার ম্যাচে রান্নাবান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল মনি বেগম। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কারখানার উৎপাদন এখন বন্ধ। এ কারণে লোক না থাকায় ম্যাচের রান্নাবান্নার কাজও বন্ধ। এরই মধ্যে গত সোমবার অন্তঃসত্ত্বা মনি বেগমকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে সে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়।

বাড়ির মালিক জুয়েল মিয়া জানান, আর্থিক অনটনের কারণে আরও ২ মাস আগে থেকে আমরা ওই অসহায় পরিবারের বাড়ি ভাড়া নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। অভাবে নিজের সন্তান বিক্রির চেষ্টার বিষয়টি আমরা পরে জানতে পেরেছি।

এ দিকে বিষয়টি সোমবার স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে জানার পর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে মনি বেগমকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত ও ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, টাকার অভাবে একজন মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেবেন এটা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এটা একটি হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। শুধু করোনা প্রাদুর্ভাবে নয়, আজীবন আমি ওই অসহায় পরিবারের পাশে থাকব ও সহযোগিতা করব ইনশাআল্লাহ।ফেনী নদীর নোম্যান্সল্যান্ডে এক মাস ধরে অবস্থান করা মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ফিরে গেছে আপন ঠিকানায়। দুই বছর পর বিজিবি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় অবশেষে ফিরে পেয়েছে ঠিকানা।

সোমবার বিকালে কুড়িগ্রামে নিজ ঠিকানায় পৌঁছে দেয়ার জন্য ঢাকা থেকে আগত রেড ক্রিসেন্ট দলের কাছে ওই নারীকে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ও বিজিবির গুইমারা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল জি এইচ এম সেলিম হাসান।

গত ২ এপ্রিল নারীটিকে ভারতের বিএসএফ রামগড় সীমান্তের ফেনী নদী দিয়ে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও এলাকাবাসী বাধা দেয়। বাধা পেয়ে নারীটি নদীর মাঝখানে বালুর চরে আটকা পড়ে। বিজিবি-বিএসএফের একাধিক পতাকা বৈঠকের পর উভয়পক্ষ নারীটির ছবি দিয়ে পোস্টারিং করে ঠিকানার খোঁজে প্রচারণা চালায়।

পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিকরাও নারীটিকে নিয়ে মিডিয়ায় নিউজ করে। এক সময় বেরিয়ে আসে নারীটির পরিচয়। তার নাম শাহানাজ পারভিন (৩৫)। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দইখাওয়ারচর গ্রামের হাতেম আলী শেখ ও ওমেলা খাতুনের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও নারীটির খবর জানতে পারেনি পরিবার।

এক সপ্তাহ আগেই নারীটি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল আপনজনের কাছে। কিন্তু করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা নিলে গতকাল জানা যায় রিপোর্ট নেগেটিভ। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল তারিকুল হাকিম, উপ-অধিনায়ক মেজর হাসান, জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা, থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুজ্জামান, রামগড় রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।