ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সবকিছু খুলে দিলে রোগী বাড়বেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৭:৪০ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৭:৪০

সবকিছু খুলে দিলে রোগী বাড়বেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, যেহেতু স্বাভাবিকভাবে এখন কি না মার্কেট খোলা হয়েছে, গার্মেন্ট খোলা হয়েছে, দোকনপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ যে একটু বৃদ্ধি পাবে, এটা আমরা ধরেই নিতে পারি। সব কিছু খুলে দিলে রোগী বাড়বেই’।

মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে এখন ক্রমশ করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংক্রমণ কিছু বাড়ছে। গত ৮-১০ দিন ধরে দেখেছি চার থেকে পাঁচশ রোগী হত, কিন্তু এখন ছয়শও ছাড়িয়ে গেছে, আজ সাতশ ছাড়িয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, “আমাদেরকে যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন ও জীবিকা দুটিই সঙ্গে সঙ্গে যাবে। কাজেই সেভাবেই কাজগুলো হবে। তবে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে যাতে রোগী না বাড়ে। আমাদের দায়িত্ব হল যাতে রোগীগুলো সঠিক চিকিৎসা পায়, সঠিকভাবে রাখতে পারি।”

সংক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে ১০ মে শপিং মল খোলা জরুরি ছিল কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “টেকনিক্যাল কমিটি এই বিষয়টি সভায় তুলে ধরেছেন। কমিটি একটি প্রস্তাবনা দেবেন এবং সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ দেবেন। সেই পরামর্শটা আমরা যথাযথ জায়গায় দিয়ে দেব। খুব শিগগিরই এই মতামত ও পরামর্শ দেবেন।”

চিকিৎসকদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, কেন চিকিৎসকরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর নিয়োগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। টেকনিক্যাল কমিটির আলোচনায়ও এই বিষয়টি উঠে আসে। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এটা একটা প্রসেসে আছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে এই কাজটি এগিয়ে নিতে পারব।”

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথম এক মাস বাইরের সব ধরনের কাজকর্ম, দোকানপাট, কল-কারখানা ও গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কিছু দিন ধরে পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। আগামী ১০ মে থেকে শপিং মলগুলোও খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা এ যাবৎকালে একদিনে সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯২৯ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ব্যাংকার, পুলিশসহ ১৮৩ জন।অভাবের কারণে নবজাতক সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আষাঢ়ীয়ারচর গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত বাবুর্চি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মনি বেগম।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে অভাব-অনটনে ও ধার-দেনা পরিশোধ করতে হতদরিদ্র তিনি সদ্যভূমিষ্ট কন্যা সন্তানকে অল্প টাকায় বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করেন। সোমবার তিনি ওই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম ওই মা ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন।

তাৎক্ষণিক ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর কবির ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ আহম্মেদের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রেরণ করেন চেয়ারম্যান মাসুম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে চলে গেছে তার স্বামী বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম। ৩ সন্তানকে বুকে ধরে একটি কারখানার ম্যাচে রান্নাবান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল মনি বেগম। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কারখানার উৎপাদন এখন বন্ধ। এ কারণে লোক না থাকায় ম্যাচের রান্নাবান্নার কাজও বন্ধ। এরই মধ্যে গত সোমবার অন্তঃসত্ত্বা মনি বেগমকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে সে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়।

বাড়ির মালিক জুয়েল মিয়া জানান, আর্থিক অনটনের কারণে আরও ২ মাস আগে থেকে আমরা ওই অসহায় পরিবারের বাড়ি ভাড়া নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। অভাবে নিজের সন্তান বিক্রির চেষ্টার বিষয়টি আমরা পরে জানতে পেরেছি।

এ দিকে বিষয়টি সোমবার স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে জানার পর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে মনি বেগমকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত ও ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, টাকার অভাবে একজন মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেবেন এটা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এটা একটি হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। শুধু করোনা প্রাদুর্ভাবে নয়, আজীবন আমি ওই অসহায় পরিবারের পাশে থাকব ও সহযোগিতা করব ইনশাআল্লাহ।