ঢাকা, আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কাকে সুযোগ দিতে শপিংমল খুলছেন, প্রশ্ন ফখরুলের

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৪:৩২ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৪:৩২

কাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য শপিংমল খুলে দেওয়া হচ্ছে এটা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকার রমজান ও ঈদের কথা বলে প্রথমে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরে ১০ মে থেকে দোকান-পাট খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু কাকে সুযোগ করে দিচ্ছেন?

মঙ্গলবার (৫মে) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শপিংমল খুলে দিচ্ছেন খুব ভালো কথা। ঈদে আপনার মানুষগুলো যারা কাজ করে, কাপড় তৈরি করে, কেনাবেচা করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী তাদের জন্য প্রয়োজন আছে। সেটা কি মানুষের জীবনের বিনিময়ে? একটা মাস কি সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত না? আসলে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যর্থতার কারণে আজ দেশকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

‘সরকার যে শাটডাউন তুলে নিচ্ছে, এতে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে-এটা কেনো করছে? আমাদের কাছে যেটা মনে হয় সেটা হচ্ছে যে, তাদের অজ্ঞতা, উদাসীনতা ও জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা নেই সেজন্য তারা এটা করতে পারছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা দুইটাই ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু সংক্রমণ যেহেতু এখনো ঊর্ধ্বমুখী, সেহেতু আরো কিছুদিন ধরে অবরুদ্ধ সমাজিক দূরত্ব নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা উচিত ছিল।

‘আজ শুনলাম এক ভদ্রলোক বলছেন, শপিংমল খুলবে না কেনো? অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডতো চালু রাখতে হবে। আমরাও তো চাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে। সেটা কি জনগণের জীবনের মূল্যে। তাদের বাঁচিয়ে রেখেই তো সবকিছু করবেন। এটাই তো রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের দায়িত্ব।

লকডাউনে গার্মেন্ট খোলার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন সবই খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা টেলিভিশনে যেটা দেখছি সেটা ভয়ংকর পরিস্থিতি একটা। প্রায় বেশিরভাগ কারখানায় নিরাপত্তার যে ন্যূনতম ব্যবস্থা, সেগুলো নেই।বরাবরই ফেসবুকে সরব থাকেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যদিও বছর খানেক আগে অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসার পর কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে স্যোশাল মিডিয়ায়। তবে গত ১ মে ফেসবুক ওয়ালে নিজের বেশ কয়েকটি ছবি আপলোড করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘দি ওয়ার্স্ট ইজ ইয়েট টু কাম’। অর্থাৎ নিকৃষ্ট অবস্থা এখনো আসেনি।

এমন ছোট্ট স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য পড়ে যায় ফেসবুক পাড়ায়। ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। শেয়ার হয়েছে ১ হাজার। মন্তব্য করেছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। অনেকে অনেক প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু কোনোটিরই জবাব দেননি ওবায়দুল কাদের। অধিকাংশ মন্তব্যের মোদ্দাকথা হল- ছয় শব্দের এমন ছোট্ট মন্তব্য ইঙ্গিত করে অনেক কিছু। এই অল্প কথার মধ্যেই দেশের করোনা পরিস্থিতি বিস্তর বলে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

সত্য তুলে ধরার জন্য মন্তব্যের ঘরে অনেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই রাজনীতিবিদকে। খালিদ রাফসান নামে একজন লিখেছেন, দয়া করে এতটা ভয়ংকর বার্তা দেবেন না, আমি হার্টের রোগী। কামরুজ্জামান মিয়াজী লিখেছেন, যত নিকৃষ্টই হোক, আমরা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। উম্মে মরিয়ম লিখেছেন, সমস্যা নেই, আমরা দুনিয়াকে বিব্রত করতে প্রস্তুত আছি।