ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘আমরা সরকারের কথার বাইরে যাবো না, ১০ তারিখেই দোকান খুলব’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১২:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ ২০:১২:০৩

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ মে তারিখেই দোকান খোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।

আজ সোমবার (৪ মে) তিনি এ কথা জানান। এর আগে এক ভিডিও বার্তায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই দোকান খোলার ঘোষণা দিয়েছিল সমিতি।

সরকারি আদেশ পরিবর্তনের পর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের কথার বাইরে যাব না, ১০ তারিখেই দোকান খুলবো। যেহেতু সরকারি আদেশ তাই আমাদের কিছু করার নেই।’

মো. হেলাল উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘একদিনে দুই আদেশ, এটা কেমন করে হয়। আবার সকাল ১০টা থেকে ৪টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এটা কি করে হয়! কারণ এই সময়ে এই লকডাউনের মধ্য গণপরিবহনও বন্ধ কেউ আসবে না কেনাকাটা করতে।’

এর আগে ভিডিওবার্তায় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি দোকানপাট খোলা রাখার জন্য কিছু শর্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ক্রয়-বিক্রয়ে পারস্পরিক দূরত্ব বজার রাখতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। শপিংমলে প্রবেশের সময় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনসমূহকে জীবণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

সেইসঙ্গে যেসব মার্কেটে অথবা দোকানে এই ব্যবস্থাগুলো থাকবে না সেসব মার্কেট ও দোকান পরিহার করার অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানার জন্য দোকানে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে দাগ টানা, ঘর আঁকা, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাসহ সব কাজ করবেন। এসব কাজ শেষ হলেই সীমিত আকারে বিক্রি শুরু করতে পারবেন।

এর আগে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে সীমিত পরিসরে আগামী ১০ মে থেকে দোকান-পাট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেয় সরকার। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে একই দিন আরেক আদেশে ৭ মে থেকে দোকান-পাট ও শপিংমল খোলার কথা বলা হয়েছিল।কাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য শপিংমল খুলে দেওয়া হচ্ছে এটা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকার রমজান ও ঈদের কথা বলে প্রথমে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরে ১০ মে থেকে দোকান-পাট খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু কাকে সুযোগ করে দিচ্ছেন?

মঙ্গলবার (৫মে) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শপিংমল খুলে দিচ্ছেন খুব ভালো কথা। ঈদে আপনার মানুষগুলো যারা কাজ করে, কাপড় তৈরি করে, কেনাবেচা করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী তাদের জন্য প্রয়োজন আছে। সেটা কি মানুষের জীবনের বিনিময়ে? একটা মাস কি সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত না? আসলে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যর্থতার কারণে আজ দেশকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

‘সরকার যে শাটডাউন তুলে নিচ্ছে, এতে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে-এটা কেনো করছে? আমাদের কাছে যেটা মনে হয় সেটা হচ্ছে যে, তাদের অজ্ঞতা, উদাসীনতা ও জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা নেই সেজন্য তারা এটা করতে পারছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা দুইটাই ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু সংক্রমণ যেহেতু এখনো ঊর্ধ্বমুখী, সেহেতু আরো কিছুদিন ধরে অবরুদ্ধ সমাজিক দূরত্ব নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা উচিত ছিল।

‘আজ শুনলাম এক ভদ্রলোক বলছেন, শপিংমল খুলবে না কেনো? অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডতো চালু রাখতে হবে। আমরাও তো চাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে। সেটা কি জনগণের জীবনের মূল্যে। তাদের বাঁচিয়ে রেখেই তো সবকিছু করবেন। এটাই তো রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের দায়িত্ব।

লকডাউনে গার্মেন্ট খোলার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন সবই খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা টেলিভিশনে যেটা দেখছি সেটা ভয়ংকর পরিস্থিতি একটা। প্রায় বেশিরভাগ কারখানায় নিরাপত্তার যে ন্যূনতম ব্যবস্থা, সেগুলো নেই।