ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

গার্মেন্টস মালিকরা কি রাষ্ট্রের চেয়েও ক্ষমতাধর ?

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:৫৯:০১ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:৫৯:০১

শিরোনামের মন্তব্যটি করেছিলেন বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। গার্মেন্টস মালিকদের প্রতারণা এবং আইনের প্রতি অবজ্ঞার প্রতীক হলো বিজিএমইএ ভবন। সোনারগাঁ হোটেলের পাশে হাতিরঝিলে অবস্থিত এই অবৈধ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে তাঁরা চ্যালেঞ্জ করেছিল। আপিল বিভাগ যখন রায় দেয় বিজিএমইএ ভবন ভেঙ্গে ফেলতে হবে, তখন একের পর এক সময় নিতে থাকে গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা।অবশেষে ১২ এপ্রিল ২০১৯ সালে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ এনিয়ে অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে। বারবার সময়ক্ষেপণ এবং কেন আপিল বিভাগের নির্দেশের পরও বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গা হবে না এটা জানতে চান সুপ্রীম কোর্ট। এই সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, পোষাক শিল্পের মালিকরা কি রাষ্ট্রের চেয়েও ক্ষমতাধর? বারবার বলার পরও তারা কেন সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ প্রতিপালন করছে না! এরপর আর সময় না বাড়িয়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের মালিকদের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের প্রতীক হলো এই বিজিএমইএ ভবন। এই বিজিএমইএ ভবনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের লেজুড়বৃত্তি করে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নেয়, তারও একটি বড় প্রতীক হলো এই বিজিএমইএ ভবন। কারণ ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তাকে দিয়ে এই বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। আর ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন তাকে দিয়ে এই ভবনের উদ্বোধন করা হয়। অর্থাৎ যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের সঙ্গেই এদের ভাব। এখন বিজিএমইএ ভবনের পোষাক শিল্পের মালিকরা আওয়ামী লীগার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগার হয়ে মন্ত্রী এমপি মেয়র হচ্ছেন। কিন্তু যখন যে সরকার আসে তখন সেই সরকারেরই তারা আজ্ঞাবহ হয়। সেই সরকারের কাছ থেকে নানা রকম সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য যত রকম ছলাকলা কৌশল করার দরকার তার সবই করে।

২০১১ সালে বিজিএমইএ ভবনকে হাতিরঝিলের টিউমার হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্ট বিভাগ একটি রায় দেয়। নব্বই দিনের মধ্যে বিজিএমইএ- ভবন ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়।এই নির্দেশের বিরুদ্ধে পোষাক শিল্পের মালিকরা আপিল করে। ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশকে বহাল রাখে। এটি অবিলম্বে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপর দফায় দফায় সময় বাড়াতে থাকে। কালক্ষেপণের নীতি গ্রহণ করতে থাকে। আর সর্বশেষ ২০১৮ সালের এপ্রিলে তৃতীয় এবং শেষবারের মতো সময় বাড়িয়ে দেয়। ১২ এপ্রিল ২০১৯ সালে এটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

বিজিএমইএ- ভবনের ক্ষেত্রে মালিকরা যা করেছেন, একই কাজ করছে এখন করোনা সংক্রমণের সময় গার্মেন্টস শিল্পগুলো খোলার ক্ষেত্রেও। তারা প্রথমে বলেছে, তাদের বিদেশি অর্ডার আছে। এই অর্ডারগুলো শেষ না করতে পারলে আর নতুন করে অর্ডার হবে না। কিন্তু এটি অসত্য ছিল। দেখা গেছে যে, তারা গার্মেন্টস খুলে নতুন নতুন অর্ডার নিচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, তারা বলেছেন যে শুধুমাত্র ঢাকার শ্রমিকদের নিয়ে সীমিত আকারে গার্মেন্টসগুলো চালু করা হবে। এখানেও তারা অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বাইরে থেকে শ্রমিক এনেছে এবং এখন তারা মহাপরিদর্শক শিল্পকারখানাকে দিয়ে বলতে বাধ্য করছে, কারখানার পরিচয়পত্র দেখানো ছাড়া কেউ ঢাকায় আসতে পারবে না। এরকম একটি উদ্ভট আদেশ জারি করতে বিজিএমইএ ভবন বাধ্য করেছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

তৃতীয়ত, তারা বলেছিল শ্রমিকদের বেতন দিয়ে দেবে ঠিক সময়। কিন্তু মার্চ মাসের বেতনও অনেক কারখানা এখনো দেয়নি।

চতুর্থত, তারা বলেছিল কোন কারখানা লে অফ করা হবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনেকগুলো কারখানা লে অফ করার খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ তারা বলেছিল যে, শ্রমিক ছাঁটাই করবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রচুর শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। শ্রমিকরা তাদের ছাটাইয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছে।

সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের ওই প্রশ্নটি এখন আবার সামনে এসেছে। পোষাক মালিকরা কি রাষ্ট্রের চেয়েওে ক্ষমতাধর? তারা বারবার মিথ্যাচার জালিয়াতি করে পার পেয়ে যাবে? রাষ্ট্রের সরকারের কি তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করার নেই?কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ায় বক্তব্য না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)’র সব শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে।

আজ রবিবার (০৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে গতকালের তারিখ উল্লেখ থাকলেও আজ তা প্রকাশ্যে এসেছে।

এতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে এখন থেকে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য ও বিবৃতি প্রদান না করার জন্য অনুরোধ করা হলো। টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস/শেয়ার প্রদান করার ক্ষেত্রে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় সে সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

এর আগে সরকারি হাসপাতালের নার্সদেরও গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গত ১৫ এপ্রিল নার্সদের প্রতি এই নির্দেশনা আসার কয়েক দিনের মাথায় অনুমতি ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও কোনো বিবৃতি না দিতে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।