ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও ছাত্রীকে নিয়ে উধাও স্কুলশিক্ষক

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:৩৭:২৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:৩৭:২৭

সিরাজগঞ্জ থেকে : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও এক স্কুলছাত্রীকে নিয়ে উ’ধাও হয়েছে আইয়ুব আলী নামে এক স্কুলশিক্ষক। এঘটনায় ওই স্কুল শিক্ষকের স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষো’ভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সাকুয়াদিঘী গ্রামের ইউসুব আলীল ছেলে আইয়ুব আলী একই উপজেলার কালিদাস নিলী গ্রামের জহরুল ইসলামের মেয়ে ও তার স্কুলছাত্রী জাকিয়া সুলতানাকে প্রাইভেট পড়াত। প্রাইভেট পড়ানোর নামে ১৬ মার্চ স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে আ’পত্তিকর অবস্থায় আ’টক করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়।

এ অবস্থায় শুক্রবার সকালে আইয়ুব আলী ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আইয়ুবের স্ত্রী তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযো’গ দায়ের করে। অপ্রাপ্ত একজন স্কুলছাত্রীকে নিয়ে উ’ধাও হওয়ায় ওই শিক্ষকের দৃষ্টা’ন্তমূলক শা’স্তি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়টি নি’শ্চিত করে তাড়াশ থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর বিষয়। তাই সামাজিক ভাবে বসে এ বিষয়ে মিমাং’সার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে চ’রম ক্ষো’ভ বিরাজ করছে। শিক্ষক নামের ক’ল’ঙ্ক আইয়ুব আলীর দৃষ্টা’ন্তমূলক শা‘স্তি দাবি করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নানা ছলনা করে ওই শিক্ষক আরও কয়েজন ছাত্রীর জীবন ন’ষ্ট করেছে। এ বিষয়ে রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউজ্জামান নান্নু ঘটনাটি ন্যা’ক্কারজনক উল্লেখ করে জানান, এ বিষয়ে আইয়ুবের স্ত্রী লিখিত অভিযো’গ দিয়েছে। স্কুল কমিটির সাথে মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিউজ ডেস্ক : বাবার বয়স ৬০। তিনি লিভারের কঠিন রোগে আক্রান্ত। সুস্থ করার জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। আর না করলে ডাক্তার দুই বছরের সময় বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু কে দেবে লিভার? এগিয়ে এলেন ছোট ছেলে উচ্ছল। আবদুল্লাহ আল হুবায়ের উচ্ছল। বাবার প্রিয় ছেলে। বললেন, বাবার জন্য তিনি নিজের লিভারের অংশবিশেষ দান করবেন! অবশেষে সেই সাহসী ছেলের কারণেই নতুন জীবন পেলেন বাবা!

বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। লিভারের চিকিৎসা করাচ্ছেন ভারতের দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে। ডাক্তার সুভাস গুপ্তা ও তাঁর টিম দেখছেন তাকে। ডাক্তার বলছেন, হয় লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করুন না হয় দুই বছরের বেশি বাঁচবেন না। তার ছোট ভাই কালের কণ্ঠের ভৈরব প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মনসুর লিভার সিরোসিসে কিছুদিন আগে মা’রা যান। বাবা ভেঙে পড়েন! আর হয়তো বাঁচবেন না। বাবার এমন কঠিন রোগে সন্তানেরাও ভেঙে পড়েন।

বড় ছেলের জন্ডিস, মেয়ে সিজার করেছে দুইবার। বাবা আর ছোট ছেলের সম্পর্ক সব সময়ই একটু আবেগমাখা হয়ে থাকে। উচ্ছলের ক্ষেত্রেও তাই ছিল। বাবার এমন কঠিন রোগ হয়েছে শুনে প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন উচ্ছল। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় পুরো ব্যাপারটা ভেবে দেখেন। তার জীবনে বাবার প্রয়োজন আছে। বাবাকে অনেক ভালোবাসেন উচ্ছল। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের লিভারের ৭০% দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সন্তান উচ্ছল বেসরকারি টেলিভিশন এসএ টিভি’র মাল্টিমিডিয়া কো-অর্ডিনেটর। তিনি বাবার চিকিৎসার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। ছেলের আগ্রহে বাবাও চিকিৎসা করানোর জন্য স্বেচ্ছায় অবসর নেন। লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য ফের চলে যান দিল্লি। দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় উচ্ছল ও তার বাবাকে। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় জটিল এক অপারেশনের আয়োজন। ডাক্তার সুভাস গুপ্তা ও তার টিম টানা ১৪ ঘণ্টার এই জটিল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন। সুস্থ হয়ে ওঠেন বাবা।

কথা হয় উচ্ছলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবার লিভারের অসুখটা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছিল। তার ওপর কিছুদিন আগে লিভার সিরোসিসে ছোট কাকা মা’রা যান। টেনশনে ঘুমাতে পারছিলাম না। চোখের সামনে ছোট কাকার মৃ’ত্যু মেনে নিতে পারিনি। বাবার ক্ষেত্রে এমনটি হবে, সেটা কিভাবে মানব! সিদ্ধান্ত নিই লিভার আমি নিজেই দেব।

অপারেশনের সময় উচ্ছলের স্ত্রী আন্নী আজমাইন তাদের সঙ্গেই ছিলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৪ ঘণ্টা অপারেশনের পর রাত ৮টায় খানিকটা জ্ঞান ফেরে উচ্ছলের। ওটিতে সেন্স আসার পর থেকেই আমাদের দেখার জন্য উদগ্রীব হওয়ায় ডাক্তার আমাদের কল করে। ওটি থেকে আইসিইউতে নিয়ে যাচ্ছে এ সময় মাত্র এক মিনিটের জন্য দেখতে পেরেছিলাম। আমাকে দেখে হাত উঁচু করে ভিক্টরি সাইন দেখাল এবং বুঝাল যে সে ভালো আছে। আধখোলা চোখে প্রথমেই তার বাবা কেমন আছে প্রশ্ন করতেই আমি বললাম, ভালো আছে, মাকে দেখতে চাইল। আর এ রকম আধা সেন্সের জড়ানো বুলিতে আমাকে বলল, তোমাকে সুন্দর লাগছে। কাঁদতে কাঁদতে আমার চোখ-মুখ ফুলে যাচ্ছিল।

লিভার দান করা প্রসঙ্গে ডা. সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান মানুষ তার লিভার বা যকৃতের অর্ধেকের বেশি অংশ দান করে দিতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে তার নিজের লিভার রি-জেনারেট করে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।

পেটে অপারেশনের গভীর চিহ্ণের ছবি দেখিয়ে উচ্ছল বলেন, বাবাও এখন সুস্থ। আমিও এখন সুস্থ। তবে ডাক্তারের পরামর্শে আরো একমাস পর ইনডিপেনডেন্ট টিভিতে যোগদান করব। ৩০ বছরের ছেলেটির দুর্দান্ত সাহস আর ভালোবাসার প্রশংসা না করে উপায় আছে