ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

আল্লামা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সরব বৈশ্বিক এক্টিভিস্টরা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:৩০:০৪ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:৩০:০৪

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়েই চলছে আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে তোলপাড় চলছে। কখনও পোস্টার আবার ছোট ছোট ভিডিওবার্তায় এই মুক্তির দাবি জানাচ্ছে দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে। এছাড়া সরর হলেন বৈশ্বিক এক্টিভিস্টরাও।

আল্লামা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার টুইট করা হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে। এর সূত্র ধরে টুইটার ট্রেন্ডের শীর্ষে উঠে এসেছে আল্লামা সাঈদীর মুক্তির দাবি। ইতিমধ্যে #FreeSayedee হ্যাশট্যাগটি লক্ষাধিক বার টুইট হয়েছে।

১ মে থেকে বাংলাদেশ ট্রেন্ডে শীর্ষে অবস্থান করছে #FreeSayedee এই হ্যাশট্যাগটি। এরপর থেকে টুইটার ট্রেন্ডে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে হ্যাশ ট্যাগটি। টুইটার ট্রেন্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে #SaveBangladesh.

এই দিকে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Contemporary Islamic Studies বিভাগের প্রফেসর তারিক রামাদান আল্লামা সাঈদীর মু‌ক্তি চে‌য়ে টুইট করেন। তিনি ২ বার আল্লামা সাঈদীর ছবিসহ এই বিষয়টি নিয়ে টুইট করেন এবং কয়েকবার রিটুইটও করেন।

আল্লামা সাঈদী মুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নীরবে মুসলিম আলেম ও কর্মীদের বন্দী, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। এই অমানবিক আচরণকে ন্যায়সঙ্গত করার জন্য তাদের “ইসলামপন্থী” হিসাবে চিহ্নিত করাই যথেষ্ট। এই ইসলামী চিন্তাবিদরা শান্তিপূর্ণ ও বিরোধীমতের । তাদের অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের সাথে মর্যাদার সাথে আচরণ করা উচিত। অসম্মানজনক নীরবতা’।

এরপর তুরস্কের ইসলামীপন্থি দল সাদাত পার্টির এক নেতাও আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চেয়ে টুইট করেন। সাদাত পার্টির যুব শাখার প্রধান আব্দুল কাদির লিখেছেন, আল্লামা সাইদী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর। তিনি একজন সাবেক এমপি এবং মহান চিন্তাবিদ। যিনি গত ১০ বছর ধরে কারাগারে বন্দি। তিনি ৮১ বছরের একজন বয়োবৃদ্ধ এবং তাকে বাংলাদেশী মানুষেরা খুবই ভালবাসেন। এটা মানবতার জন্য লজ্জ্বাজনক যে এমন একজন প্রখ্যাত চিন্তাবিদ জেলে বন্দী।

এছাড়াও বিভিন্ন দেশের ইসলামী স্কলার ও বৈশ্বিক এক্টিভিস্টরা আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চেয়ে টুইট করেন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও শীর্ষ মুফাসসির। বিগত দশ বছর তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাগারে বন্দি। যদিও তিনি এবং তার দল জামায়াত এই অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে। স্কাইপ কেলেঙ্কারি, সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অপহরণ এসব ঘটনা আল্লামা সাঈদীর নির্দোষ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আল্লামা সাঈদীর বর্তমান বয়স আশির অধিক। বৃদ্ধ বয়সে এই শীর্ষ আলেম কারাগার থেকে বিনা শর্তে মুক্তি পাবে এমনটাই আশা করে সাঈদী ভক্তরা। বর্তমান মহামারী সংকটে জাতীয় ঐক্য খুবই দরকার। আল্লামা সাঈদীর মুক্তিই হতে পারে জাতীয় ঐক্যের একটি শক্তিশালী কারণ। প্রবীণ ও শীর্ষ আলেম আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দিয়ে আওয়ামী সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিবে এমনটাই আশা করেন দেশের সচেতন ও বুদ্ধিজীবী মহল।

আরও সংবাদ

ভারতে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা গেল ১০০ জন
নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আড়াই হাজার

ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে সংক্রমিত প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মধ্যে।

করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে একদিনে এত বেশিসংখ্যক রোগী কখনও বাড়েনি ভারতে। খবর আনন্দবাজার ও এনডিটিভির।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুয়ায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ৪৪২ জন। দেশে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬৯৯ জন। গত একদিনে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ১০০ জন। সব মিলিয়ে মৃত ১ হাজার ৩২৩।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক হাজারেরও বেশি করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। সুস্থ হওয়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। এখন তা ২৬.৬৫ শতাংশ। কয়েক দিন আগেও যা কুড়ির আশপাশে ছিল।

মহারাষ্ট্রে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৪৮৫। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব সরকার জানিয়েছেন, লকডাউনের ফলে আটকেপড়া পরিযায়ী শ্রমিক, পর্যটক, তীর্থযাত্রী বা শিক্ষার্থীদের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার ছাড়পত্র দেবেন পুলিশের ডেপুটি কমিশনাররা।

তবে মুম্বাই, পুনে ও পিম্পরি ছিঁচওয়াড়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পৌর কমিশনাররা সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় যাতায়াতের অনুমতি দেয়া হবে না।

এই এলাকাগুলো থেকে অবশ্য মহারাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের কথাই বলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডাক্তারের ছাড়পত্র দেখিয়ে নিকটবর্তী থানায় আবেদন করতে হবে।

সেই আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন ডিসিপিরা। রাজ্যওয়াড়ি সংক্রমণের নিরিখে গুজরাট দ্বিতীয় এবং দিল্লি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দিল্লির কাপাশেরা এলাকার একটি ভবনে ৪১ জনের করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

অর্থনৈতিকভাবে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর হচ্ছে- মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও আহমেদাবাদ– সবই এখন রেড জ়োনে।