ঢাকা, আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

লকডাউনে বেকার হওয়াদের ভাতা দিচ্ছেন ইমরান খান

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:২৭:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৪ ০৯:২৭:৪১

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে চাকরি হারানো বেকারদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তার জন্য একটি কর্মসূচি চালু করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটির নিবন্ধনকৃত বেকারদের সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি দেওয়া হবে।

শনিবার থেকে ইমরান খান এই কর্মসূচির কার্যক্রম চালু করেছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন, বেকারদের তালিকা নিবন্ধনের জন্য ওয়েব পোর্টাল চালু করেছে সরকার। সেখানে এসাস নগদ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি পর্যন্ত নগদ সহায়তা করা হবে।

সরকার প্রধান বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর করোনা ত্রাণ তহবিলে অর্থ জমা দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, এসব অর্থ স্বচ্ছ উপায়ে ব্যয় করা হবে।এসব অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে আপনারা জানতে পারবেন। আমি নিজেই এটা পর্যবেক্ষণ করব এবং সম্পূর্ণ খরচের বিস্তারিত বিবরণ সরবরাহ করব।

তিনি বলেন, যারা শ্রমিক হিসেবে অথবা রেস্টুরেন্টের চাকরি হারিয়েছেন তাদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে সরকার। তবে তাদের আগের চাকরির সব তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

ইমরান খান বলেন, জনসাধারণের চাকরি হারানো থেকে রক্ষা করতে সরকার নির্মাণ, অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন

মুসলিম শরণার্থী এখন কানাডার মন্ত্রী

উন্নত জীবন গড়ার আশায় যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়া থেকে পালিয়ে একদিন শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন কানাডায়। এখন তিনি মন্ত্রী। এমনই সৌভাগ্য আহমেদ হোসেনের। সম্প্রতি কানাডার অভিবাসন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

১৯৯৩ সালে কানাডায় গিয়েছিলেন আহমেদ হোসেন (Ahmed Hussen)। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ১৯৭৬ সালে তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে কানাডা চলে যান। খবর বিবিসি ও এএফপির।
php glass

কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) আহমেদ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মন্ত্রিসভা রদবদল করে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। অহমেদ সাবেক মন্ত্রী জন ম্যাককুলামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
ksrm

আইনজীবী, ফৌজদারি মামলা পরিচালনা এবং অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়ক আইনে অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এ মন্ত্রণালয়টিতে আহমেদ হোসেনকে প্রাধান্য দেন ট্রুডো।

আহমেদ হোসেন মন্ত্রী হওয়ায় দারুণ উৎফুল্ল কানাডার আফ্রিকান কমিউনিটি।

২০১১ সালে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। আহমেদ হোসেন প্রথম সোমালী-কানাডীয় মুসলমান, যিনি ২০১৫ সালে ভোটের মাধ্যমে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন।

এর আগে তিনি বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত কমিটিতে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও হোসেন কানাডা-আফ্রিকা পার্লামেন্টারি কমিটিতেও কাজ করেছেন।

তিনি গ্লোবার এনরিচমেন্ট ফাউন্ডেশনের হয়েও কাজ করেছেন এবং এখানে তার অবদানের কারণেই আজ আফ্রিকার নারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়তে পারছে।গত কিছুদিন আগে সৌদির আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর জেদ্দা। জেদ্দার মাওলানা হিফজুর সোহারভি একাডেমিতে বিভিন্ন দেশের ১২ জন ইসলাম গ্রহণ করে। সেখানে তারা তাদের ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে।

ইসলাম গ্রহণকারী এ নতুন মুসলিম নারীদের জন্য জেদ্দার মাওলানা হিফজুর রহমান সোহারভি একাডেমি এক সুন্দর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যেখানে তারা নিজেদের কথাগুলো প্রকাশ করেন। খবর সৌদি গেজেট।

ইন্ডিয়া, ব্রিটেন, ফিলিপাইন এবং শ্রীলংকা থেকে পবিত্র নগরী সৌদি আরবে আসেন।

ইসলাম গ্রহণকারী নারীরা জানান, শান্তি ও নিরাপত্তার জীবন ব্যবস্থা ইসলাম গ্রহণে তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে হয়েছে। অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে।

এদের মধ্যে দন্তচিকিৎসক ইমান একজন। তিনি অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসতে তাকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। শুধু তাই নয়, ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি তার শহর পল্লীতে একটি গির্জাও নির্মাণ করেন।

জীবনের কোথায় যেন তার অপূর্ণতা রয়েছে। সে অপূর্ণতা থেকেই তিনি ইসলামের শান্তি নিরাপত্তা চাদরে নিজেকে আবৃত করে নেন।

ইসলাম গ্রহণ আরেক নারীর নাম আয়শা। তার জন্য পবিত্র কুরআনুল কারিমের তেলাওয়াত ছিল রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতার বর্ণনা প্রচণ্ড আবেগে তিনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি।

তবে তিনি জানান, সর্ব প্রথম তিনি সুরা ফাতেহা তেলাওয়াত করেছিলেন। যাতে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

দীর্ঘ দিন আগে (২০০১) ইসলাম গ্রহণকারী নারী এলিনা। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ক্যাথলিক ছিলেন। তার সহকর্মীরা তাকে ইসলাম সম্পকে জানার জন্য গাইড দিয়েছিলেন। ইসলামের বিষয়ে পড়াশোনায় তাকে অনেক বই সরবরাহ করেছিল।

অনেক ইসলামি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ পড়ার পাশাপাশি কুরআনের ইংলিশ ভার্ষণে পড়াশোনায় তাকে ইসলামের দিকে ধাবিত করে। এসব বই ও কুরআন পড়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তা অনন্য জীবন ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন >> মুসলিম নারীরা হিজাব পরবে কেন?

ফাতেমা জয় নামে আরেক নারী ইসলাম গ্রহণ করায় অনেক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। তিনি অনেক দৃঢ়তা ও সাহসিকতা দিয়ে সেসব সমস্যার মোকাবেলা করেছেন। ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। যা মহান আল্লাহর একান্ত রহমত ও সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না বলেও জানান তিনি।

জেদ্দার এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উম্মে হুদাইফা। তার ইসলাম গ্রহণও ছিল বিশেষ বিষয়। কারণ তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের ওপর পড়া শোনা করেছেন। কোনো ধর্মই তাকে শান্তি দিতে পারেনি। সন্তুষ্ট করতে পারেনি তাকে।

উম্মে হুদাইফা যখন ইসলমি বই ও সাহিত্যের দিকে নজর দেন, তখনই তিনি ইসলামের প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। আর ইসলামের পেয়ে যান জীবনের সফলতার মূলমন্ত্র ও দুনিয়ার পরকালের যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত ফয়সালা।

২০১৫ সালে সারাবিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন। আর তা সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১জন হলো মুসলিম। আর এতেই ইসলাম ধর্ম অবলম্বনকারীর দ্বিতীয় বৃহৎ জনসংখ্যায় পরিণত হয়।

উল্লেখ্য যে, ইসলাম ৫টি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যার প্রথমটিই তাওহিদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য দেয়া মাধ্যমে শুরু হয়। ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার জন্য এটি প্রধান এবং প্রথম কাজ। অর্থাৎ মহান আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তার কোনো শরিক নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ রাসুল।

জেদ্দার সোহারভি একাডেমী সৌদি আরবে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে কাজ করে থাকে। প্রতি বছর হজ ও ওমরা পালনকারীদের দিয়ে নানা সেবা।

ইসলাম গ্রহণকারী সব নারী-পুরুষের প্রতি রইলো শুভ কামনা। নতুন মুসলিমদের স্পৃহা জাগাতে মাওলানা হিফজুর রহমান সোহারভি একাডেমি হোক সত্যের ঝাণ্ডাবাহী প্রতিষ্ঠান।

আরো পড়ুন: সন্তানের সাফল্যের জন্য মায়ের দোয়াই যথেষ্ট !

পৃথিবীর একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থান হলো মায়ের কোল। যত আবদার যত অ’ভিযো’গ সবই কিছু মায়ের কাছে। শুধু দশ মাস দশ দিন নয়, মা তার পুরো জীবন উৎস’র্গ করে দেন সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে। আমরা সেই মায়ের জন্য কতটুকুই বা করতে পারি?

গায়ের চামড়া দিয়ে মায়ের পায়ের জুতা বানিয়ে দিলেও তার ঋণ কখনো সন্তানরা শোধ করতে পারবে না। মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ সেই বোধ অনেকেরই নেই। আর তাইতো বৃদ্ধাশ্রমে মা রেখেই শান্তিতে থাকেন তারা। আসলেই কি তারা সুখী হতে পারেন?

একটি শিশু তার মায়ের প্রতি যথাযথা দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দোয়া অর্জন করে তার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে। সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের গর্ব তিনি। একদিকে যেমন মাঠ সামলাম অন্যদিকে বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যও নিষ্ঠতার সঙ্গে পালন করেন তিনি। বিশেষ করে মায়ের প্রতি সাকিবের কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই।

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেনছেন, বাবা-মায়ের দোয়া ছাড়া কখনো সফল হওয়া সম্ভব নয়। তারা আমাদের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। জীবনের শেষ দিন অবধি মা তার সন্তানের জন্য দোয়া করে যান। অথচ এর বিনিময়ে কখনোই তিনি কিছু প্রত্যাশা করেননা। ঠিক বাবাও তেমন।

বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা সবচেয়ে খারাপ কাজ হিসেবেও উল্লেখ করেন এই অলরাউন্ডার। আমি বিশ্বাস করি আস্তে আস্তে পৃথিবীর সব বৃদ্ধাশ্রম বন্ধ হয়ে যাবে। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা সবচেয়ে নিকৃষ্ট একটি কাজ। একজন সফল ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মাহতাব। বাবা মা;রা যাওয়ার পর তার মা একা হাতেই তাকে মানুষ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

আজ তিনি এক মস্ত বড় ব্যবসায়ী। তিনিও তার মায়ের সেবা যত্ন কর গেছেন মায়ের মৃ;ত্যুর আগ অবব্দি তিনি তার সেবা যত্ন করে গেছেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার মা ছিলেন বিছানাসহ্যা। তার মল-মূত্র নিজ হাতে শ্রেষ্ঠ সন্তানের ন্যায় পরিষ্কার করেছেন মাহতাব। তিনি জানান, মায়ের জন্য কতটুকু করতে পরেছি তা তিনি জানেন না। তবে নিজের অবস্থান দেখে ক্রমশ তিনি উপলব্ধি করেছেন একমাত্র মায়ের দোয়ার কারণেই এসব সম্ভব হয়েছে।

স্ত্রী-সন্তান ও দুনিয়ার মোহে পড়ে বর্তমানে অনেকেই মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। যা মোটেও ঠিক নয়। এখনো সময় আছে তাদের কাছে মাফ চান। পিতা-মাতা সন্তানের জন্য এক মহান আশীর্বাদ। পৃথিবীর সমস্ত সফলতা একমাত্র মায়ের দোয়ার বদৌলতেই আসতে পারে। সময় থাকতে মায়ের সেবা করে দোয়া আদায় করে নিন।

কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মধুর সম্পর্ক তৈরি করুন। মাতৃ সেবা করার মাধ্যমে পরকালে জান্নাতের পথেও প্রবেশযোগ্য হবে। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কাছে তার মায়ের চেয়ে আপন আর কেউ নেই। শুধু মানুষ কেন? পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীই তার মায়ের কাছে ঋণী। সে ঋণ শোধ করার কোনো উপকরণ আল্লাহপাক দুনিয়ায় সৃষ্টি করেননি। ইসলাম মায়ের মর্যাদাকে মহিমান্বিত করেছেন।

এ ব্যাপারে আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার শুকরিয়া ও তোমার মা-বাবার শুকরিয়া আদায় করো- (সুরা লুকমান : ১৪)। একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ!

আমার কাছে কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার বেশি হকদার? তিনি বললেন, মা। লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা- (বোখারি-মুসলিম)।