ঢাকা, আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

দুই পুলিশকে কু’পিয়ে জ’খম করলেন ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৩ ১৪:৩১:৫০ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৩ ১৪:৩১:৫০

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কু’পিয়ে জ’খম করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ সোহান আহমেদ মুসা। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আ’হত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নবীগঞ্জ শহরের সালামতপুর এলাকায় ব্র্যাক অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

অ’ভিযুক্ত শাহ সোহান আহমেদ মুসা পৌর এলাকার তালিকাভুক্ত স’ন্ত্রাসী।

গুরুতর আহত অবস্থায় থানা পরিদর্শক (তদন্ত) উত্তম কুমারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহত এসআই ফখরুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নবীগঞ্জ শহরের সালামতপুর এলাকায় ব্র্যাক অফিসের কাছে তালিকাভুক্ত স’ন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি মুসার দোকানে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় তাকে গ্রে’ফতার করতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতামুসা দোকান থেকে একটি ধারালো রা’মদা নিয়ে পুলিশের ওপর এলোপাথাড়ি কু’পাতে থাকে।

হা’মলায় পরিদর্শক (তদন্ত) উত্তম কুমার এবং এসআই ফখরুজ্জামান গুরুতর আ’হত হন। তাদের কু’পিয়ে মুসা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর অবস্থায় ওসি তদন্ত উত্তম কুমারকে সিলেটে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

নবীগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, মুসা একজন তালিকাভুক্ত স’ন্ত্রাসী এবং ই’য়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকায় পুলিশ গ্রেফতার করতে তার দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় সে ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে কু’পিয়ে দুই কর্মকর্তাকে ‘আ’হত করেছে। মুসাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় এক পাগল ব্যক্তিকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে চরম উত্তেজনার বিরাজ করে। উভয় দেশ সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সেদেশের এক পাগল ব্যক্তিকে (৪০) রামগড় সীমান্তের থানাঘাট এলাকা দিয়ে জোরপূর্বক ফেনীনদী পার করে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে।

নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা বিষয়টি বিজিবিকে জানানোর পর তারা এসে বিএসএফকে বাধা দেয়। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে বিএসএফ জোরপূর্বক ওই পাগলকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করে।

এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে দুপক্ষ। সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

রামগড়ের দারোপাড়ার ফেনীনদীর তীরবর্তী বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, একদল বিএসএফ সাব্রুমের স্থানীয় কয়েকজন লোক নিয়ে ওই পাগলকে পিটিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তারা কয়েকজন নদীর এ পার থেকে প্রতিবাদ জানায়।

এতে বিএসএফ তাদের গুলি করার হুমকি দেয়। পরে তারা বিজিবিকে খবর দেন। এদিকে, চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামগড়-সাব্রুম সীমান্তের মৈত্রীসেতু এলাকায় জরুরি পতাকা বৈঠকে বসেন বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে বিজিবির গুইমারার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিএইচএম সেলিম হাসান ও বিএসএফর উদয়পুরের ডিআইজি জামিল আহমেদ নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে ভারতীয় পাগলকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। বিএসএফ ওই পাগল ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলে এর সত্যতা প্রমাণের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আরো পড়ুন : শ্রমিক ছাঁটাই থেকে বিরত থাকুন: ওবায়দুল কাদের

বৈঠক শেষে বিজিবির গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিএইচএম সেলিম হাসান জানান, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে একের পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- ওই পাগল ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তথ্য প্রমাণ না দেয়া পর্যন্ত বিএসএফের হেফাজতে থাকবে। ভবিষ্যতে পতাকা বৈঠক ছাড়া কাউকে জোরপূর্বক অথবা গোপনে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করবে না বিএসএফ। উভয় সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সৈন্য দুপক্ষই প্রত্যাহার করবে।

এদিকে, শনিবার সীমান্ত এলাকা ঘুরে শান্ত ও স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে। তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে অতিরিক্ত সৈন্য ক্যাম্পে ফিরে গেছে।

ইত্তেফাক