ঢাকা, আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভারতীয় পাগলকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৩ ১৪:২৬:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৩ ১৪:২৬:০৯

খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় এক পাগল ব্যক্তিকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে চরম উত্তেজনার বিরাজ করে। উভয় দেশ সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সেদেশের এক পাগল ব্যক্তিকে (৪০) রামগড় সীমান্তের থানাঘাট এলাকা দিয়ে জোরপূর্বক ফেনীনদী পার করে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে।

নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা বিষয়টি বিজিবিকে জানানোর পর তারা এসে বিএসএফকে বাধা দেয়। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে বিএসএফ জোরপূর্বক ওই পাগলকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করে।

এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে দুপক্ষ। সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

রামগড়ের দারোপাড়ার ফেনীনদীর তীরবর্তী বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, একদল বিএসএফ সাব্রুমের স্থানীয় কয়েকজন লোক নিয়ে ওই পাগলকে পিটিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তারা কয়েকজন নদীর এ পার থেকে প্রতিবাদ জানায়।

এতে বিএসএফ তাদের গুলি করার হুমকি দেয়। পরে তারা বিজিবিকে খবর দেন। এদিকে, চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামগড়-সাব্রুম সীমান্তের মৈত্রীসেতু এলাকায় জরুরি পতাকা বৈঠকে বসেন বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে বিজিবির গুইমারার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিএইচএম সেলিম হাসান ও বিএসএফর উদয়পুরের ডিআইজি জামিল আহমেদ নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে ভারতীয় পাগলকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। বিএসএফ ওই পাগল ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলে এর সত্যতা প্রমাণের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আরো পড়ুন : শ্রমিক ছাঁটাই থেকে বিরত থাকুন: ওবায়দুল কাদের

বৈঠক শেষে বিজিবির গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিএইচএম সেলিম হাসান জানান, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে একের পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- ওই পাগল ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তথ্য প্রমাণ না দেয়া পর্যন্ত বিএসএফের হেফাজতে থাকবে। ভবিষ্যতে পতাকা বৈঠক ছাড়া কাউকে জোরপূর্বক অথবা গোপনে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করবে না বিএসএফ। উভয় সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সৈন্য দুপক্ষই প্রত্যাহার করবে।

এদিকে, শনিবার সীমান্ত এলাকা ঘুরে শান্ত ও স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে। তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে অতিরিক্ত সৈন্য ক্যাম্পে ফিরে গেছে।

ইত্তেফাকমুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাসহ দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসা অংশটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। দলের নাম ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ বা এবি পার্টি।

সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরীকে আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মুজিবুর রহমান মনজুকে সদস্য সচিব করে নতুন দলের ২২২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) ডা. আবদুল ওহাব মিনার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলামসহ ৭ জনকে যুগ্ম আহবায়ক, ৯ জনকে সহকারী সদস্য সচিব করে ২২২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

গত বছরের এপ্রিলে জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের যে অংশটি ‘জন-আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করেছিল, তাদের উদ্যোগেই নতুন এই দল এবি পার্টি। তাদের সঙ্গে যুক্ত আছে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে উপেক্ষিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

নবগঠিত দলের আহবায়ক সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুবিচার এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে আমাদের দলীয় গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি প্রণীত হয়েছে। দেশের যে কোনো নাগরিক আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশ গঠনে অবদান রাখতে পারেন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাই।

‘করোনার এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইনশাআল্লাহ এই চ্যালেঞ্জে আমরা সফলকাম হব।’ দলের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মনজু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ভৌগলিক সীমানার ভিত্তিতে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি সত্য, কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। অধিকারভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে এ রাষ্ট্র অপূর্ণাঙ্গ রয়ে গেছে। ন্যায়বিচার, সুশাসন এগুলো এখনও আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

ছাত্র ও তরুণদের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা আছেন তারা বয়সে ও মননে সবাই তরুণ। আমরা এ দেশকে নতুন করে পুনর্গঠনের ডাক দিচ্ছি। আগামী এক বছর করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টরগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারুণ্য হবে আমাদের পরিবর্তনের হাতিয়ার। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারকে আমরা উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করব। মানুষের খাদ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য আমরা কার্যকর সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, কল্যাণরাষ্ট্রের কী সুবিধা তা আজ উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে বোঝা যায়। তাদের দেশে হাজার হাজার লোক মারা গেলেও সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশে ত্রাণ লুটপাট, চিকিৎসার সীমাহীন সঙ্কট এবং অব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে এক আশঙ্কাজনক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। করোনাকাল বুঝিয়ে দিয়েছে এদেশটাকে কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে না পারলে এর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কিছুই অর্থবহ হবে না। তিনি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীকে এবি পার্টিকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের সাত দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার। দলের গঠনতন্ত্র উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।

এছাড়া ২২২ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিটির পক্ষে দলের তরুণ নেতা ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ ভুঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের কর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিত সংবাদকর্মী ও অনলাইনে দর্শকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নেতৃবৃন্দ।