ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

আনসারীর জানাযায় অংশ নেয়া দশ গ্রামের কারো শরীরেই করোনা মিলেনি

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০২ ১৪:১৮:১০ || আপডেট: ২০২০-০৫-০২ ১৪:১৮:১০

আনসারীর জানাযায় অংশ নেয়া দশ গ্রামের কারো শরীরেই করোনা মিলেনি। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ১০টি গ্রামকে সম্পন্ন অবরুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসন। সাথে ছিল ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন আদেশ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে সেই ১৪ দিন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, জানাজার আশেপাশের ১০টি গ্রামে গত ১৪ দিনে কোনো উপসর্গ না পাওয়ায় কোনো ব্যক্তি শনাক্ত হয় নি।

গ্রামগুলো আপাতত ঝুঁকিমুক্ত ও স্বাভাবিক মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ১৭ই এপ্রিল শুক্রবার বিকালে মার্কাস পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাওলানা জোবায়ের।

তার মৃত্যুর খবরে সারাদেশের আলেম উলামাদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া ।

পরেরদিন সকালে সরাইলের জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দেশ এবং জেলার শীর্ষ আলেমরা ছাড়াও মাদ্রাসা ছাত্র এবং এলাকার সাধারন মানুষ এতে যোগ দেন।

মাদ্রাসা অতিক্রম করেও জানাজার সারি দীর্ঘ হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। জুবায়ের আহমদ আনসারীর বাড়ি জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে। ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন।

আরো পড়ুন

কওমী মাদরাসা নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না : শীর্ষ ৭১ আলেমের বিবৃতি

গত (২৬ এপ্রিল) রোববার দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘এই প্রথম সরকারি অনুদান চাইছে কওমী মাদরাসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭১ জন হক্কানি ওলামা-মশায়েখ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে আলেমগণ বলেছেন, উপমহাদেশ ব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

গতকাল (২৯ এপ্রিল) বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোন পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ করা যাবে না”। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোন কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। যারা কওমী মাদরাসার নীতি-আদর্শ ও পরিচিতি বহন করে সরকারী অনুদান চেয়েছে, আমরা দারুল উলূম দেওবন্দের দ্বীনী খেদমতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তাদের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আমরা একমত নই।

বিবৃতিতে শীর্ষ ওলামা মশায়েখগণ আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তারা বলেন, মৌলিকভাবে কওমী মাদরাসাসমূহের মূল শক্তিই হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোনভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না। কওমী উলামা-মাশায়েখগণ আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে আল্লাহ তা’আলা দ্বীনদার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাহায্য সহোযোগিতার মাধ্যমে এই দ্বীনী প্রতিষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কুদরতি সাহায্যের মাধ্যমে এই কাওমী প্রতিষ্ঠানগুলো হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সামান্য সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব হুজুর), আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী,

আল্লামা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রাম হুজুর), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (শায়েখে দেওনা), আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহমুদুল আলম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী (জামিল মাদরাসা), মুফতী মোবারকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মাহফুজুল হক (রাহমানিয়া), মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ), মুফতী শফিকুল ইসলাম (সাইনবোর্ড), মাওলানা নুরুল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী,

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (বারিধারা), মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী (হাটহাজারী), মাওলানা খুরশেদ আলম কাসেমী (খতীব, আল্লা করীম), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মুফতি মুনির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বছির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী (মৌলভীবাজার),

মাওলানা বশির উদ্দিন (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা বশির আহমদ (সৈয়দপুর, মুন্সিগঞ্জ), মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (ময়মনসিংহ), মাওলানা মাহবুব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল আবসার মাসুম, মাওলানা আবুল কাশেম (জামালপুর), মুফতি মুহিউদ্দীন মাসুম (লক্ষীপুর), মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ খান, মুফতি আবু তাহের (নেত্রকোনা), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জামী (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী (বরিশাল-মাহমূদিয়া), মাওলানা আতাউর রহমান কাসেমী,

মাওলানা লোকমান মাযহারী (কুমিল্লা), মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা শাহজালাল, মাওলানা আব্দুল আজিজ (টাঙ্গাইল), মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), মুফতি কামরুজ্জামান, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার, মাওলানা সাখাওয়াত হোছাইন (খুলনা), মুফতি শহিদুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ (মিরপুর), মাওলানা আলী আকবর (সাভার), মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা সুলাইমান নোমানী, মাওলানা আজিমুদ্দিন, মুফতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ। – বিজ্ঞপ্তি।