ঢাকা, আজ রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো’, মৃত্যুর আগে বলেছিল শিশুটি

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০২ ১৪:১৩:২৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-০২ ১৪:১৩:২৬

ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস অনেকের হৃদয়ে হাহাকারের প্রতিধ্বনি তুলছে অবিরাম। মানুষ কতোটা পাষাণ হলে সইতে পারে এমন রোদন! কতোটা কঠিন হলে চোখের পানিতেও হাসতে পারে হায়েনার হাসি!বিশ্বমোড়লরা দেশে দেশে যুদ্ধ করে হাজার-কোটি প্রাণ হরণেও গর্বের হাসি হাসতে জানে। কিন্তু বিবেকবান মানুষের মন এসব অত্যাচারে…আর্দ্র হয়, চাপা কান্নায় মরে কিন্তু বুক ফুলিয়ে প্রতিবাদ করতে পারে না।

একটা রক্তাক্ত শিশুর কান্নায় ভারাক্রান্ত হয়েছিল মানুষ। সামাজিক মাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে স্ট্যাটাসটি পড়ে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি অনেকে।সিরিয়ার তিন বছরের এক যুদ্ধাহত শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বলেছিল ‘আমি আল্লাহকে বলে দিবো, তোমরা আমার প্রতি অন্যায় করেছো’।

সে কান্না স্তব্দ করে দিয়েছিলো শান্তির নামধারী অশান্ত বিশ্ব মোড়লদের। সিরিয়ান এই শিশুটি সভ্যতা, যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব, আদর্শ- এগুলো হয়তো পরিষ্কার করে বুঝতে পারেনি। কিন্তু তার ‘বিশ্বাস’ কতো প্রবল! ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ সে নিশ্চিত সে আল্লাহর কাছে ফিরে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়; আল্লাহর কাছে সে নালিশ করবে!বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারি। প্রতিবাদের পোট্রোট হয়ে যাওয়া সে শিশুর বিচারের জন্য যেনো মহান আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এমন প্রাণঘাতি রোগ। ধর্মপ্রাণ অনেকের ধারণা, নিস্পাপ সে শিশুর কান্না পৌঁছে গিয়েছে মহান আল্লাহর দরবারে।

পৃথিবীর কেউ সিরিয়ার এ রক্তখেলার বিষয়ে মাথা না ঘামালেও আল্লাহ তার বিচারে ঠিকই আসামী চিহ্নিত করেছেন। তাইতো বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশগুলো কাঁপছে মহামারী সংক্রমণে। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল।অনেকেই বলছেন, পৃথিবীর কারো কাছে সে অভিযোগ করেনি শিশুটি। কারো কাছে সে তাকে মারার বিচার চায়নি। সে জানে এবং সবাইকে জানিয়ে দিয়ে গেল- এই আদর্শহীন একচোখা বিবেকহীন বিশ্বের কাছে মুসলিমদের কিছু চাইতে নেই।

এ এমনই এক বিশ্ব যেখানে মানবাধিকারের ডেফিনিশনই নির্মিত হয় কিছু মানুষকে ‘অমানুষ’ বিবেচনা করে। তাইতো শিশুটি যারা তাকে মেরেছে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে যারা তাকে রক্তাক্ত করেছে, যারা তার আদর্শকে আদর্শ দিয়ে প্রতিহত না করে বুলেট ছুড়ে মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে সে আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। এছাড়া আর কীইবা করার ছিলো ছোট্ট এই শিশুটির! কিন্তু মহান দয়ালু আল্লাহ হয়তো তার আদালতে উপযুক্ত বিচারটি রেখেছিলেন পৃথিবীবাসির জন্য। (তথ্যসূত্র: অনলাইন)।গত (২৬ এপ্রিল) রোববার দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘এই প্রথম সরকারি অনুদান চাইছে কওমী মাদরাসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭১ জন হক্কানি ওলামা-মশায়েখ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে আলেমগণ বলেছেন, উপমহাদেশ ব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

গতকাল (২৯ এপ্রিল) বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোন পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ করা যাবে না”। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোন কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। যারা কওমী মাদরাসার নীতি-আদর্শ ও পরিচিতি বহন করে সরকারী অনুদান চেয়েছে, আমরা দারুল উলূম দেওবন্দের দ্বীনী খেদমতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তাদের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আমরা একমত নই।

বিবৃতিতে শীর্ষ ওলামা মশায়েখগণ আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তারা বলেন, মৌলিকভাবে কওমী মাদরাসাসমূহের মূল শক্তিই হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোনভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না। কওমী উলামা-মাশায়েখগণ আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে আল্লাহ তা’আলা দ্বীনদার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাহায্য সহোযোগিতার মাধ্যমে এই দ্বীনী প্রতিষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কুদরতি সাহায্যের মাধ্যমে এই কাওমী প্রতিষ্ঠানগুলো হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সামান্য সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব হুজুর), আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী,

আল্লামা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রাম হুজুর), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (শায়েখে দেওনা), আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহমুদুল আলম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী (জামিল মাদরাসা), মুফতী মোবারকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মাহফুজুল হক (রাহমানিয়া), মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ),

মুফতী শফিকুল ইসলাম (সাইনবোর্ড), মাওলানা নুরুল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (বারিধারা), মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী (হাটহাজারী), মাওলানা খুরশেদ আলম কাসেমী (খতীব, আল্লা করীম), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ),

মুফতি মুনির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বছির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী (মৌলভীবাজার), মাওলানা বশির উদ্দিন (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা বশির আহমদ (সৈয়দপুর, মুন্সিগঞ্জ), মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (ময়মনসিংহ),

মাওলানা মাহবুব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল আবসার মাসুম, মাওলানা আবুল কাশেম (জামালপুর), মুফতি মুহিউদ্দীন মাসুম (লক্ষীপুর), মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ খান, মুফতি আবু তাহের (নেত্রকোনা), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জামী (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী (বরিশাল-মাহমূদিয়া), মাওলানা আতাউর রহমান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাযহারী (কুমিল্লা), মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা শাহজালাল, মাওলানা আব্দুল আজিজ (টাঙ্গাইল), মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), মুফতি কামরুজ্জামান,

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার, মাওলানা সাখাওয়াত হোছাইন (খুলনা), মুফতি শহিদুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ (মিরপুর), মাওলানা আলী আকবর (সাভার), মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা সুলাইমান নোমানী, মাওলানা আজিমুদ্দিন, মুফতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ। – বিজ্ঞপ্তি।