ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

গাছে বেঁধে মাদরাসার ছাত্রকে নি’র্যাতন

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০১ ২২:১৭:৩৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০১ ২২:১৮:০৫

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মো. মিনহাজ (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে গাছে বেঁধে নি’র্যাতন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ কেরানীপাড়ার মো. ছইদুল ইসলামের ছেলে মো. মিনহাজ (১৫) দিনাজপুর জেলা সদরে অবস্থিত ফরিদপুর গোরস্তান মাদরাসায় নাজেরা ক্লাসের ছাত্র। করোনা মহামারির কারণে মাদরাসা বন্ধ থাকায় সে বাড়িতে অবস্থান করছিল। প্রতিবেশী মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রমেনা বেগম, মেয়ে পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা খাতুন (১০) এবং ছেলে একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুহান ইসলামকে (৮) আরবি পড়াত সে।

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় আরবি পড়াতে যায় মিনহাজ। তখন আবু সিদ্দিকের পরিবারের সদস্যরা তার মেয়ে আফরোজা খাতুনকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার ”অ’ভিযোগে মিনহাজকে মা’রধর শুরু করে। সে সময় আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যায় মিনহাজ। আত্মগোপনের থাকা মিনহাজকে দুপুর ১টায় বাড়ি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে তার নানার বাড়ি নাটুয়াপাড়া থেকে ধরে আনা হয়।

এরপর মো. আবু বক্কর সিদ্দিক তার বাড়ির সামনে সুপারি গাছে মিনহাজকে বেঁধে ফেলেন। শুরু করেন মধ্যযুগীয় কায়দায় নি’র্যাতন। এমন সময় মিনহাজকে উদ্ধার করতে আসা পরিবারের লোকজনের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজন মিনহাজকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে মিনহাজ জানায়, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ওই পরিবারে আরবি পড়িয়ে আসছে সে। এ পর্যন্ত এক মাসে বেতন পেয়েছে। ঘটনার দিন আফরোজা খাতুন পড়া ভুল করলে তাকে দুটি মার দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মার দেয় এবং আমার সাথে তর্কে জড়িয়ে যায়। পরে সে কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তার মাকে গিয়ে বলে। পরে পরিবাবের লোকজন এসে আমাকে মারধর শুরু করে। আমি পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করি। পরে দুপুরে আমাকে আবার ধরে নিয়ে এসে গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রমেনা বেগম জানান, আরবি পড়ার একপর্যায়ে আমি বাড়ির বাইরে যাই। তখন মিনহাজ আমার মেয়েকে আরবি বই শপথ করিয়ে না বলার শর্তে টিউবল পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে সে শরীরের কাপড় খোলার চেষ্টা এবং ধ’র্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়ের চিৎকারে আমরা ছুটে এলে সে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আ’টক করে শাসন করেছি। তাকে পুলিশে না দিয়ে নিজে শাসন করা ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

মিহাজের বাবা মো. ছইদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি বৃহস্পতিবার বীরগঞ্জ থানায় হবিবর রহমানের ছেলে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৫) তার স্ত্রী রমেনা বেগম (৪০) এবং মো. রমজান আলীর ছেলে ও আবু বক্কর সিদ্দিকের শ্যালক মো. আশরাফুল ইসলামতে (২৫) আসামি করে মামলা করেছি। এখন আসামি পরিবারের লোকজন আমার ছেলে ও আমার পরিবারসহ যারা ভিডিও করেছে তাদের বিরুদ্ধে নারী নি’র্যাতন মামলা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি পেশায় কৃষি শ্রমিক। আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে জীবন চলে। মা মরা ছেলেকে নির্মমভাবে গাছে বেঁধে মেরেছে। আমি ছেলের নির্যাতনে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এসআই আলন চন্দ্র রায় জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নি’র্যাতনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. আবু বক্কর (৪৫) ও মো. আশরাফুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতার করেছে। পুলিশ।

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মতিন প্রধান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মিহাজের বাবা মো. ছইদুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৫), তার স্ত্রী রমেনা বেগম (৪০) এবং মো. রমজান আলীর ছেলে ও আবু বক্কর সিদ্দিকের শ্যালক মো. আশরাফুল ইসলামকে (২৫) আসামি করে মামলা করেছে। মামলার তদন্ত চলছে। মামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত শাস্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ

রংপুরে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন ৮০ বছরের মোসলেম উদ্দিন

করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন মোসলেম উদ্দিন (৮০)। বুধবার দুপুরে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএম নূরুন্নবী।
১৩ দিন রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তার বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের আউলিয়াগঞ্জ।

তিনি জানান, একমাস ঢাকায় অবস্থান শেষে গত ৩১ মার্চ রংপুরে ফেরেন মোসলেম উদ্দিন। এসময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। রংপুরে পৌঁছে শহরের খামার মোড়ে জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সেখানে থাকা অবস্থায় জ্বর, সর্দি, ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ১৪ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিআই কর্নারে চিকিৎসা নিতে যান মোসলেম উদ্দিন।

এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার রোগের লক্ষণ ও ইতিহাস জেনে করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। ওইদিন তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৬ এপ্রিল করোনা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।পরে ২০ এপ্রিল সেখান থেকে তাকে ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

তিনি আরও জানান, ৯ দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তাকে হাসপাতাল হতে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তির সময় যেভাবে ফুল ও চিঠি দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়, সেভাবেই ছাড়পত্র দেয়ার সময়ও চিঠি ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএম নূরুন্নবীসহ কর্মরত চিকিৎসকবৃন্দ।

রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালের প্রথম রোগী হিসেবে ভর্তি এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ায় মোসলেম উদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের সাহস, আশার সঞ্চার ও অভিজ্ঞতা কয়েকগুণ বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে।