ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবেদন

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০১ ২২:০৬:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০১ ২২:০৬:০৯

বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
প্রফেসর আহসান ইমরোজের সই করা ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দেশে বিদেশে কুরআনের তাফসির পেশ করেছেন। জাতীয় সংসদে দু’বার নিজ এলাকা থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তারা বলেন, বহু মানুষ তার তফসির শুনে ইসলামী জীবন যাপনে উৎসাহিত হয়েছেন। লাখো তরুণ আলোর দিশা পাওয়ার পাশাপাশি হয়েছেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। পেয়েছে আল্লাহর পথে চলার প্রেরণা। দেশ-বিদেশের বহু মানুষ হৃদয় দিয়ে তাকে ভালোবাসেন এবং অতীতে ইসলাম ও দেশের প্রতি অসামান্য অবদানের কারণে তাঁর মুক্তির প্রহর গুণছেন।

শিক্ষকেরা বলেন, আমরা শিক্ষকবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, তিনি আজ ১০ বছর যাবৎ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে তার বয়স ৮১ বছর। তিনি বিগত ৪০ বছর যাবত ডায়াবেটিক রুগী। তিনি দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগেও আক্রান্ত। তার হার্টে ৫টি রিং বসানো। তিনি আর্থাইটিস রোগেও আক্রান্ত। যে কারনে তার হাঁটু ও কোমরে আছে তীব্র ব্যথা। এছাড়া বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যাতেও তিনি আক্রান্ত। এহেন অবস্থায় তার সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে মুক্ত জীবনের কোনো বিকল্প নেই।

তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমনে মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

মানুষ তার মুক্তি চায়। ইতোমধ্যে অনেক দেশ কারাবন্দীদের মুক্তি দিয়েছেন। আমরা অবহিত হয়েছি যে, আমাদের দেশেও দীর্ঘকারা ভোগকারী ব্যক্তিদের মুক্তির উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এতে গোটা বিশ্ববাসীর সাথে আমরাও আশান্বিত হয়েছি যে, সর্বজন গ্রহণযোগ্য একজন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও বয়োবৃদ্ধ দেশপ্রেমিক কারাবন্দীকে সরকার মুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তারা বলেন, এহেন পরিস্থিতিতে ধর্মীয়, মানবিক ও বয়সের বিবেচনায় এবং বিরাজমান বৈশি^ক করোনা মহামারী সংক্রমণ থেকে উত্তরোণের লক্ষ্যে আল্লাহ তা’য়ালার রহমতের প্রত্যাশায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

নিম্নোক্ত শিক্ষকেরা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন

প্রফেসর মুজিবুর রহমান, সাবেক কোষাধক্ষ্য এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ; প্রফেসর আসিফ মিজান হেড অব দ্যা ডিপার্টমেন্ট অব জিপি; প্রফেসর মো: আবদুল্লাহ সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক; প্রফেসর মো: মুসা সাবেক প্রফেসর গণিত বিভাগ, আইইউবি; প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ হোসাইন, সাবেক কমনওয়েলথ স্কলার; প্রফেসর ড. আমিনুর রহমান মজুমদার, সোয়েল, ওয়াটার এনভারমেন্টাল সাইয়েন্স; প্রফেসর কামরুল আহসান চৌধুরী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ;

প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, ফার্মেসী অনুষদ; প্রফেসর ড. ফজলুর রহমান, আরবি বিভাগ; প্রফেসর ড.আবদুল মাহবুদ, আরবি বিভাগ; প্রফেসর মোজাম্মেল হক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ; প্রফেসর এটিএম ফজলুল হক জিওলজি বিজ্ঞান বিভাগ; প্রফেসর ড. আবদুল খালেক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আরো সংবাদ

আরো পড়ুন: করোনায় কোনো শ্রমিকের কিছু হলে সব দায়িত্ব আমরা নেব: রুবানা হক

ঈদের আগেই সব তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করছে বিজিএমইএ৷ তারা বলছে, করোনায় কোনো শ্রমিকের কিছু হলে তার সব দায়দায়িত্ব মালিকরা নেবেন৷ যদিও এখনো তিনশ কারখানার শ্রমিকরা বেতন পাননি৷

বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আরশাদ জামাল দিপু জানিয়েছেন,‘ঈদের আগেই সব তৈরি পোশাক কারখানা খুলে যাবে।’আর তৈরি পোশাক মালিকদের এই সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট রুবানা হক বলেছেন,‘করোনায় কোনো শ্রমিকের কিছু হলে সব দায়িত্ব আমরা নেব৷’

কত কারখানা খুলেছে বিজিএমইএ জানিয়েছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা, গাজীপুর, সাভার , আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ৮৯০টি কারখানা চালু হয়েছে৷ শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন৷

মোট শ্রমিকদের ৪২ ভাগ কাজে যোগ দিতে পেরেছেন৷ আরশাদ জামাল দিপু বলেন,‘আমরা ফেস বাই ফেস পোশাক কারখানা খুলে দেব৷ বাইরের জেলাগুলো থেকে যেহেতু যাবাহন চলাচল বন্ধ আছে তাই সেখান থেকে শ্রমিকদের আসতে নিষেধ করছি৷ তবে ৭ তারিখের পরে এই সমস্যা থাকবে না বলে মনে হয়৷ ঈদের আগে অবশ্যই সব পোশাক কারখানা খুলে যাবে৷’

বিজিএমইএ যে কারাখানাগুলোর হিসেব দিচ্ছে সেগুলো আসলে সরাসরি পোশাক রপ্তানি করে৷ বিজিএমই বলছে এই রকম পোশাক কারখানার সংখ্যা দুই হাজার ২৭৪টি ৷ সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোতে ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১৭ জন শ্রমিক আছেন৷

কিন্তু বাস্তবে পোশাক কারখানার সংখ্যা সারাদেশে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি৷ কারণ অনেক কারখানা আছে যারা সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করে৷ এসব কারখানায় ৫০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন৷ শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, সারাদেশে এপর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা খুলেছে৷

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি জানান,‘আমাদের হিসেবে সারাদেশে তিন হাজারের মত পোশাক কারখানা খুলেছে৷ ১ মে এর পর ধীরে ধীরে সব কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷’ পোশাক কারখানা যেভাবে খোলা হচ্ছে বিজিএমইএ বলছে,

পোশাক কারখানাগুলোর ভিতরে এবং শ্রমিকদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কারখানাগুলো খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷ এটা নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে৷ রুবানা হক জানান,‘যেসব কারখানা খোলা হয়েছে তার ভিতরের ছবি আমরা সংগ্রহ করছি যাতে সেখানকার পরিস্থিতি বোঝা যায়৷

কেউ যদি কোভিড আক্রান্ত হন তা যেন গোপন করা না হয়৷ আমাদের ওয়াচ কমিটি আছে৷ আমাদের সাথে চিকিৎসকরা আছেন৷ কোনো শ্রমিক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, বিপদে না পড়েন সেটা আমরা দেখব৷ যদি কোনো শ্রমিকের কোনো কিছু হয় তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার আমাদের৷

আমরা তার খরচ থেকে শুরু করে সবকিছু দেখব৷ আমরা শ্রমিকদের করোনা টেস্টের জন্য চারটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনেরও উদ্যোগ নিয়েছি৷’ তিনি আরো বলেন,‘যেসব শ্রমিক আগেই এসেছেন বা গ্রামের বাড়িতে যাননি তাদের দিয়েই কারখানা খুলছি সীমিতভাবে৷ কোনো কোনো শ্রমিক বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে চাকরির জন্য৷ তাদের আমরা নিরুৎসাহিত করছি৷

তাদের আমরা এপ্রিল মাসের বেতন তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেব৷’ তবে সারাদেশে জরুরি সেবার বাইরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও শ্রমিকরা নানাভাবে পোশাক কারখানায় ফিরছেন৷ বিশেষ করে ফেরিঘাটগুলোতে শ্রমিকদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যাচ্ছে৷ শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সামজিক দূরত্বের কিছু ব্যবস্থা নেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়৷

সব কারখানা মেশিনগুলোর দূরত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি৷ তবে মালিকরা বলেছে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেবেন৷’ তিনি আরো জানান,‘এরইমধ্যে দুইজন পোশাক কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ উচিত ছিলো সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর কারখানায় প্রবেশ করানো৷ এখনো সব মিলিয়ে প্রায় তিনশ কারখানায় শ্রমিকরা মার্চ মাসের বেতনই পাননি৷

এরমধ্যে দেড়শ কারখানায় কোনো বেতনই দেয়া হয়নি৷ আর দেড়শ কারাখানায় বেতনের অর্ধেক দেয়া হয়েছে৷ বৃহস্পতিবারও কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন৷ আর শ্রমিকদের নানাভাবে কাজে যোগ দেয়ার নোটিশ দেয়া হচ্ছে৷’

পোশাক কারখানার কত ক্ষতি গত তিন মাসে পোশাক কারখানার সব মিলিয়ে ৬০ ভাগের মত অর্ডার বাতিল হয়েছে৷ যার পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি৷ তবে এটাকে পুরোপুরি বাতিল বলা যাবে না৷ বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আরশাদ জামাল দিপু জানান,‘৩০ ভাগের মত অর্ডার বাতিল হয়েছে৷

আরো ২৫ থেকে ৩০ ভাগের মত অর্ডার হোল্ড আছে৷ অর্ডার হোল্ড, বাতিল, বিলম্ব সব মিলিয়ে ৬০ ভাগ হবে৷’ তিনি বলেন,‘মাসে দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়৷ সেই হিসেবে তিন মাসে সাত বিলিয়ন ডলার বা কিছুৃ বেশি অর্ডার ছিলো৷’ তবে এই সব অর্ডার শেষ পর্যন্ত বাতিল হবে না৷ অর্ডার ফিরে আসছে৷

আবার কিছু অর্ডার হয়তো পরের বছর অ্যাডজাষ্ট হবে৷ সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৫ ভাগ অর্ডার চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজিএমইএর এই সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট৷ তিনি বলেন,‘ক্রেতারা তো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি৷ ইউরোপে ৬২ ভাগ দোকান বন্ধ৷ কিন্তু চীনে খুলছে৷ আরো কিছু কিছু দেশে ক্রেতারা তাদের ব্যবসা খুলতে শুরু করেছে৷

ফলে ক্যান্সেল বা স্থগিত হওয়া অর্ডার আবার ফিরে আসছে৷ সুইডেনতো বলেই দিয়েছে অর্ডারের টাকা আমাদের দিয়ে দেবে৷’ ‘আমরা আশা করছি পোশাক খাতের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব৷ তবে এজন্য করোনা টেস্টিংটা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন৷ আমরা চাই র‌্যাপিড টেস্টিং৷ তবে শুনছি মে মাসে নাকি করোনা আরো বেড়ে যাবে৷ তাই ভয়ও হয়,’ বলেন আরশাদ জামাল দিপু৷

বিজিএমইএ জানায়, এখন পর্যন্ত অর্ডারের ৩.১৫ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে ক্রেতাদের কাছ থেকে৷ যারা অর্ডার ক্যান্সেল করেছে তাদের কেউ কেউ ১৮০ দিন পরে পেমেন্ট করার কথা বলছে৷ কিন্তু কাঁচামালের দায় কে নেবে?

বাংলাদেশের পোশাক খাতে এখনো নতুন অর্ডার আসা শুরু হয়নি৷ মোটামুটিভাবে দেড় মাসের অর্ডার জমে আছে৷ যেগুলো না দিলেই নয় সেগুলো এখন সীমিত পরিসরে তৈরি করে দেয়া হচ্ছে বলে জানায় বিজিএমইএ৷

সূত্র : ডয়চে ভেলে