ঢাকা, আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাহস হারাবেন না, আমাদের আছে শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব : কাদের

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০১ ২১:৫৮:৩৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-০১ ২১:৫৮:৩৬

খুব শিগগিরই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে নিজের বাসায় প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, সাহস হারানোর কোনো কারণ নেই।

আমাদের রয়েছে শেখ হাসিনার মতো একজন সাহসী ও সৎ নেতৃত্ব। সেতুমন্ত্রী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে অচিরেই করোনার কালো মেঘ কেটে যাবে ইনশাল্লাহ। চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়ানো অচেনা ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় ৮ মার্চ।

সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হলেও এখন এই সংখ্যাটা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া ভাইরাসটির সংক্রমণে মারা গেছেন ১৬৮ জন। বাংলাদেশে প্রতিদিনই শত শত মানুষ প্রাণসংহারি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে দেশে সরকারি ছুটি চলছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ।

এছাড়া গণপরিবহন-নৌযান চলাচল ও রেল যোগযোগও বন্ধ রয়েছে। করোনার এই দুর্যোগ মোকাবেলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমকে সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, করোনা সংক্রমণ বিষয়ে টেস্টিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সামনে থেকে করোনাযুদ্ধে যারা সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার।

এ সময় মহান মে দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান সেতুমন্ত্রী।

তবে কি সিরিয়ার শিশুটি আল্লাহকে সব বলে দিয়েছে?

সিরিয়ার তিন বছরের যুদ্ধাহত সেই শিশুটির কথা অনেকেরই হয়তো মনে আছে। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বলেছিল, ‘আমি আল্লাহকে গিয়ে সব বলে দেবো।’ তার এই কথাটিতে বিশ্ববাসীর ওপর প্রচণ্ড অভিমান ও ক্ষোভ ঝরে পড়েছে। এই অভিমান ও ক্ষোভ শুধু জালিমদের বিরুদ্ধেই ছিল না। তা ছিল এই সব জুলুম ও অবিচার সহ্য করা সমগ্র মানব গোষ্ঠীর ওপর।

করোনাক্রান্ত বিশ্ববাসীর আতঙ্কিত ও ভীত বিহ্বল চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, ও সত্যি সত্যি আল্লাহকে সব বলে দিয়েছে। মর্ত্যবাসীর মনে একটি ধারণা জন্মে গিয়েছিল যে, গণমৃত্যু শুধু সিরিয়ায় আসবে, শুধু ইরাকে আসবে, শুধু ইরানে আসবে, শুধু ইয়েমেনে আসবে কিংবা অন্যান্য মুসলিম নামধারী দেশগুলোতেই আসবে।

কিন্তু কোভিড-১৯ সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। প্রকৃতি থেকে এমন একটি পদক্ষেপের জন্য অনেকেই অপেক্ষমাণ ছিল। কিন্তু বিষয়টি হয়ে পড়েছে- গাছের আগা পর্যন্ত পানি উঠে গেলে দেখি কাক কোথায় বসে- শিয়ালের সেই কামনার মতো।

গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের প্রায় আট’শ কোটি মানুষের মৃত্যু আতঙ্ক কেন যেন উপরের ধারণাটি পোক্ত করেছে। ওই শিশুটির ফরিয়াদ ছিল সম্ভবত আট’শ কোটি মানুষের বিরুদ্ধেই। এটা ঠিক যে এই আট’শ কোটির সবাই অপরাধী নয়। কেউ কেউ অপরাধ করছে, কিন্তু বাকিরা সহ্য করেছে!

একজন ম্যানুফেকচারার যখন দেখবেন তার প্রডাক্ট দিয়ে কাক্সিক্ষত কাজটি হচ্ছে না বরং উল্টো হচ্ছে তখন সেই ম্যানুফেকচারের মনে প্রডাক্ট বন্ধ বা ধ্বংস করার চিন্তা আসতেই পারে! জানি না মানবজাতি তার ম্যানুফ্যাকচারের পক্ষ থেকে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে গিয়েছে কি না!

মানবজাতির কিছু সদস্যের অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, অহঙ্কার এবং ঔদ্ধত্য সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ওই সব অমানবিকতা ও ঔদ্ধত্যের যেমন বৈশ্বিক একটি চেহারা রয়েছে তেমনি রয়েছে এই রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় চেহারা।

কোভিড-১৯ না এলে পুরো উন্মাদ ট্রাম্প এবং অর্ধ উন্মাদ মোদিরা একটি পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতো। কাজেই প্রকৃতির মালিক তার নেচারাল প্রটেকশনের উপায় হিসাবে এই করোনার করুণা (?) দিয়ে দুনিয়াবাসীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছেন?

কারণ ট্রাম্প ইরানকে আক্রমণ করলে এবং মোদি পাকিস্তানকে আক্রমণ করলে তা খুব দ্রুতগতিতে পারমাণবিক সংঘর্ষে রূপ নিতো তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ট্রাম্পের মতো উন্মাদের টেবিলে আছে হাজার হাজার পারমাণবিক বোমার বাটন! আরেক অর্ধ উন্মাদের হাতে কয়েক শত পারমাণবিক বোমা। যে পৃথিবী একটি করোনার আঘাতে নুইয়ে পড়েছে সেই পৃথিবী পারমাণবিক হিংস্রতার আঘাত কীভাবে সইত? এই হুঁশ জাগাতেই কি করোনার আবির্ভাব?

করোনা সারা বিশ্বের টনক নাড়িয়ে দিলেও এ দেশের বেয়াক্কলদের হুঁশটি সময়মতো জাগাতে পারেনি। পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এবং জি-সেভেনভুক্ত দেশ ইতালির প্রেসিডেন্ট আকাশের পানে চেয়ে যখন বলেন, এখন উপরওয়ালার সাহায্য ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। ওই সময়েও আমাদের ডন কিহোতেরূপী গবুচন্দ্ররা কোভিড-১৯ কে যথারীতি মাসল দেখিয়ে চলেছেন।

আমরা নাকি কোভিড-১৯ এর চেয়েও মহাশক্তিশালী! কোভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের প্রস্তুতি নাকি বিশ্বের যে কোনো উন্নত দেশের চেয়ে ভালো। গল্পের ডন কিহোতে যেমন ভাঙা বর্ম এবং ভাঙা তলোয়ার নিয়ে উইন্ড মিলের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন,

তেমনি আমাদের এসব ডন কিহোতেরা যথাযথ পিপিই (পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) ছাড়াই ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছেন। সময়ে দেখা গেল এই গবুরা যত চাপাবাজি করেছেন তার সবই বোগাস! সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়ার সময় টের পেলেন লাইফ জ্যাকেট সব ফোটা/অকেজো!