ঢাকা, আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার জানাজা পড়ালেন এমপি

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০১ ০৪:২৪:৫১ || আপডেট: ২০২০-০৫-০১ ০৪:২৪:৫১

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে মরহুমের নিজ বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালি গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

দাফনের আগে মরহুম আব্দুল খালেকের জানাজার নামাজ পড়ান বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত হাচানুর রহমান রিমন। জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন, বেতাগীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহসান, বেতাগী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন তপু প্রমুখ। এছাড়াও জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন মরহুমের স্বজনরা।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন এএসআই আব্দুল খালেক (৩৬)। তিনি ঢাকার মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এ কর্মরত ছিলেন। জানাজার নামাজ শেষে তার স্বজনরা মৃতদেহ দাফন করেন।

এরপর মরহুমের ছেলে মেয়ে এবং স্ত্রীসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এমপি ও এসপিসহ উপস্থিত পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা মরহুমের স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার পাশাপাশি বিপদ আপদসহ সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় মরহুমের পরিবারকে নগদ অর্থসহ খাদ্র সহায়তা প্রদান করা হয় বরগুনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

ব্রেকিং নিউজ ঃ অবশেষে করোনার ওষুধ পাওয়া গেছে!

পৃথিবীর প্রায় সব মানুষের মনে সম্ভবত এখন একটাই প্রশ্ন, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার ওষুধ পাওয়া যাবে কবে? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদদাতা জেমস গ্যালাহার লিখছেন, ওষুধটি হয়তো পাওয়া গেছে! আমেরিকান সরকারের সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলছেন, করোনা ভাইরাসের পরীক্ষমূলক চিকিৎসায় ট্রায়াল রান অর্থাৎ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিক যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে তিনি আশাবাদী।

জিলেড নামের একটি আমেরিকান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ওষুধ রেমডিসিভির নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে, তবে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেয়নি। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর চালানো এক পরীক্ষা থেকে ইতিবাচক উপাত্ত পাওয়া গেছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন তারা। রেমডিসিভির হচ্ছে এমন একটি অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ যা ইবোলা রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়েছিল।

জেমস গ্যালাহার জিলেডের এই বিবৃতি ব্যাখ্যা করে বলছেন, কঠিন মেডিকেল শব্দ বাদ দিয়ে সোজা কথায় বলা যায়, জিলেড জানাচ্ছে যে রেমডিসিভিরে কাজ হয়। তবে আমরা যা জানি না, তা হলো কতটা ভালোভাবে এটা কাজ করে, এবং তাদের তথ্যপ্রমাণ কতটা জোরালো।
জিলেড জানিয়েছে, ‍শুরুতেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এমন শতকরা ৬২ ভাগ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। আর যেসব রোগীকে দেরিতে দেয়া হয়েছে তাদের শতকরা ৪৯ ভাগ হাসপাতাল ত্যাগ করেছে।

আমেরিকার করোনা ভাইরাস টাস্ক ফোর্সের ডাক্তার এ্যান্থনি ফাউচি বলেন, প্রাথমিক ফল খুবই আশাব্যঞ্জক। সূত্র: বিবিসি

অবশেষে করোনার ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণিত!

অবশেষে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ডা. অ্যান্থনি ফাউচি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. অ্যান্থনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ’-এর পরিচালক এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশেষজ্ঞ।

ভিন্নি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ডা. অ্যান্থনি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রেমডেসিভিরের কার্যকারিতার ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ’ পাওয়া গেছে।

এ স্বনামধন্য বিজ্ঞানী একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সূত্রে জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে রেমডেসিভির গ্রহণকারীরা অন্যদের তুলনায় কম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে এই ওষুধ মৃত্যুহার কমাতে ভূমিকা রাখে কিনা, তা এখনও প্রমাণিত নয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ-এর তত্ত্বাবধানে হোয়াইট হাউসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১০৬৩ মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন ফাউচি। সেখানে এ তথ্য তুলে ধরেন।

ফাউচি বলেন, করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার সময়সীমাকে কমিয়ে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে রেমিডেসিভির সুস্পষ্ট, গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে তা প্রাপ্ত তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

অবশেষে খোঁজ মিলল তার, যার শরীর থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে করোনা

মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৯৯টি দেশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৪৭ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছেন ৩৬ হাজার ২২৬ জন মানুষ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এক্ষেত্রে তারা হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন সেই রোগীকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীকে। তারা মনে করেন ‘পেশেন্ট জিরো’ রোগীকে ভালভাবে পরীক্ষা করলে প্রতিরোধের উপায় এবং ভ্যাকসিন বের করা সহজ হবে। অবশেষে মিলেছে সেই পেশেন্ট জিরো রোগী।

ইন্ডিয়া টাইমস জানায়, প্রথম করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে ৬৭ বছর বয়সী এক চীনা মহিলা। নাম ওয়েই গুইশিয়ান। তিনি চীনের উহান শহরের বাজারে চিংড়ি মাছ বিক্রি করতেন।

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ওয়েই গুইশিয়ান গত বছরে ১০ ডিসেম্বর হুনান সি ফুড মার্কেটে চিংড়ি বিক্রির সময় অসুস্থ হয়েছে পরেন। প্রথমে ফ্লুয়ের মতো উপসর্গ নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে যান ওয়েই। প্রথমে তাঁকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু দিনের পর দিন ক্রমশ দুর্বল হতে থাকেন গুইশিয়ান। দিন দুয়েক পরই উহানের ইলেভন্থ হাসপাতালে যান। সেখানেও ধরা পড়েনি এই মারণ-ভাইরাস। ১৬ ডিসেম্বর ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় উহান ইউনিয়ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান গুইশিয়ান। আর সেই হাসপাতালেই তাঁকে বলা হয় যে, শরীরে কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে।

এরপরই ওই হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা, যাদের সবার শরীরেই একই ধরনের উপসর্গ। গুইশিয়ানের দেখাদেখি ওই হাসপাতালে ছোটেন হুনান মার্কেটের আরও অনেক মানুষ। এমনকি অনেক ক্রেতাও আক্রান্ত হয়ে পড়েন ওই রোগে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে ওয়েই গুইশিয়ানকে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়। তাঁর শরীরে মেলে COVID-19 ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। সে সময় ডাক্তারদের ধারণা, উহানের ওই সামুদ্রিক খাবার বিক্রির মার্কেট থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

চীনের চিকিৎসকরা মনে করেন, উহানের ওই মার্কেটের টয়লেট ব্যবহার করাতেই তাঁর শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

উহান মিউনিসিপ্যাল হেলথ কমিশনের তরফে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন যে ২৭ জন রোগী তাঁদের মধ্যে প্রথমেই ছিলেন ওয়েই গুইশিয়ান।