ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

গার্মেন্ট শ্রমিকদের কেন আনা হচ্ছে, জানতে চান ওবায়দুল কাদের !

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ২০:১৪:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ২০:১৪:৪৩

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে শ্রমিকদের কেন কর্মস্থলে আনা হচ্ছে, তা তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার বাইরে থেকে শ্রমিক না এনে, ঢাকার মধ্যে থাকা শ্রমিকদের দিয়ে সীমিত আকারে গার্মেন্ট চালানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য মালিকদের আমি অনুরোধ করছি।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,

‘করোনাভাইরাসের সংকটে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্ডার বাতিল হয়ে যাবে- এমন আশঙ্কা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা ও আশপাশের এলাকার ফ্যাক্টরি সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।’

‘যেসব শ্রমিক ঢাকায় অবস্থান করছে, তাদের কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছিল, মালিকরা তা মেনে নিয়েছেন। অথচ চাকরি হারানোর ভয়ে ঢাকার বাইরে থেকে অসংখ্য শ্রমিক ঢাকায় প্রবেশ করছেন। এখন গার্মেন্ট মালিকরা বলছেন, তাঁরা ঢাকায় অবস্থানকারীদেরই কাজে লাগাচ্ছেন।‘

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই শ্রমিকরা বলছেন, তাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে আসার জন্য। আমি জানি না, এই বিষয়ে গার্মেন্ট মালিকরা কী চিন্তা করছেন। ঢাকার মধ্য থেকে শ্রমিকদের কাজে লাগানোর কথা থাকলেও কেন প্রতিদিন বাইরে থেকে চাকরি হারানোর ভয়ে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরিতে আসছেন? কাজেই এই বিষয়ে গার্মেন্ট মালিকদের সিদ্ধান্তের বিষয় আছে।

আমি মালিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অনুরোধ করছি। যারা কাজ করছে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব মেনে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ লকডাউনে ভাসমান মানুষের তালিকা করার আহ্বান জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এদেশে অনেক মানুষ আছে, যাদের ঘর নেই।

যারা রেলস্টেশন, ফ্লাইওভারের নিচে, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। অনেক মানুষ গৃহহীন। মুজিববর্ষে গৃহহীনদের গৃহ দেওয়ার যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজকে মনে রাখতে হবে- ঘরে থাকার নির্দেশনা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি নিজেও ঘরে আছি। কিন্তু যাদের ঘর নেই, তারা থাকবে কোথায়?

এদের ব্যপারেও আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে।। প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকার পূরণে তালিকা প্রণয়নে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এই ভাসমান মানুষের তালিকা প্রণয়ন করার জন্য, এদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য।

সুত্র: ntv.net

আরো পড়ুন-করোনায় বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসোগলু সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

মহামারি মোকাবেলায় তুরস্ক নিজ দেশে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন মেনে চলাসহ অনেক দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করে চলেছে।

এ ব্যাপারে গত ১৩ এপ্রিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ব্যাথা অনুভব করার অর্থ আপনি বেঁচে আছেন। অন্যের বেদনা অনুভব করতে পারলেই আপনি মানুষ। তিনি আরো বলেন, মহামারির এই সময়টি তিনি তার বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান। আগামীতেও তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

দেশটি প্রায় শতাধিক দেশের কাছ থেকে সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে। তুরস্ক সরকার যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনেসহ পাঁচটি মহাদেশে চিকিৎসা ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

তুরস্কের চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, কিরগিজস্তান, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, কলোম্বিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইরাক, লিবিয়া। এছাড়াও জার্মান, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, মলদোভা, আজারবাইজান, জর্জিয়া, আলবানিয়া, মন্টিনিগ্রো, বুলগেরিয়া, কোসোভো, বসনিয়া, সার্বিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করেছে।

মহামারি মোকাবেলায় আফ্রিকার ছয়টি দেশেও তুরস্কের পক্ষ থেকে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে করোনা টেস্টিং কিট, মেডিক্যাল মাস্ক, পিপিই, জীবাণুনাশক।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো তুরস্কের কাছ থেকে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স কুলগে তুরস্ককে এই মহামারিকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহু দেশকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি