ঢাকা, আজ বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০

বহু বছর ধরে হজের জন্য জমানো অর্থ দিয়ে অনা’হারিদের খাবার কিনে দিলেন খামার শ্রমিক

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১৬:৩০:২৫ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১৬:৩০:২৫

ভারতের কর্নাটকের মঙ্গলুরুর নামক অঞ্চলের বাসিন্দ আবদুর রহমান। তিনি একজন খামার শ্রমিক। বহু বছর ধরে ক’ঠোর পরিশ্রম করে অর্থ জমা করছিলেন।

জমানো সেই অর্থ দিয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন পূরণ করবেন। মক্কা ও মদীনায় হজ পালন করতে যাবেন তিনি।

Horizontal Ad
আবদুর রহমান এই স্বপ্ন হয়তো আগামী বছরই পূরণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি উপলব্ধি করলেন, করোনা মহমা’রিজনিত কারণে জীবিকা হারিয়েছেন বা খাবার খেতে পারছেন না; এমন ব্যক্তির মুখে খাবার তুলে দেওয়া এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই হজের জন্য জমানো অর্থ দিয়ে কিনে নিলেন খাবার সামগ্রী। তুলে দিলেন অনাহারীদের মুখে।

আবদুর রহমানের ছেলে ইলিয়স। তিনি বলেন, অন্যান্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মতো আমার বাবাও হজে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চিন্তা করলেন এই দুঃ’সময়ে যারা না খেয়ে আছেন তাদের হাতে খাবার তুলে দেওয়া উচিত।

আবদুর রহমানের ছেলে ইলিয়স বলেন, আমার বাবা একজন খামার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং আমার মা বাড়িতে বিড়ি তৈরি করেন। আমার বাবা বহু বছর ধরে ইসলামের পবিত্র স্থানগুলো দেখার জন্য অর্থ জমাচ্ছিলেন। হজ পালন করতে চেয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, আমার বাবা এই দুঃ’সময়ে অনুভব করলেন যে অর্থ জমিয়ে রাখলে অ’ভিশাপ বয়ে আনবে। তাই তিনি নিজের সঞ্চয় দিয়ে ক্ষু’ধার্তদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আবদুর রহমানের বানটওয়াল তালুকের গুডিনাবালি গ্রামে ২৫টি পরিবারের মাঝে চাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে যারা অর্থ উপার্জন করতে পারছেন না তাদের দুর্দশা দেখে আমি দুঃখ পেয়েছিলাম। তাই আমি তাদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কিন্তু তিনি কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছেন; সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডয়া।

সুসংবাদ নিয়ে এলো মাহে রমজান!

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি। তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মাস হলো মাহে রমজান। এটা ফযিলাতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, সবচেয়ে বেশি সওয়াব অর্জনের মাস।

মাহে রমজানকে বলা হয় মুসলমানদের জন্য নেকি অর্জন করার মৌসুম। মাহে রমজানের প্রধান আমল হলো ফরজ রোজা। রোজা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ ‘বিরত থাকা’।

আরবিতে বলা হয় সিয়াম, অর্থ ‘বিরত থাকা’, ‘আত্মসংযম করা’ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ও বিধান দেওয়া হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা:১৮৩) রমজান মাস আসে মানুষের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে।

তাইতো রাসুল (সা:) বলেন, রমজান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। (নাসায়ী, আল মুসতাদরাক) এই মাস মুমিনের অতীতের গুনাহ সমূহকে মুছে দেয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী ও মুসলিম) রমজান মাস সহানুভূতির মাস। রমজান মাস এলে রাসূল (সা:) দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রতি দান সদকা করতে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) লোকদের মধ্যে অতিদানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান মাস এলে তার দানশীলতা অনেক বেড়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে কোন রোজাদারকে ইফতার করানোর কারণে অনেক নেকি লাভ হয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যদি কেউ রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সে উক্ত রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে, তবে রোজাদারের নেকি একটুও কমবে না। (তিরমিজি) রমজান মাসে নফলের বিনিময় ফরজ সমতুল্য এবং একটি ফরজের বিনিময় সত্তরটা ফরজের নেকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু মাহে রমজানের রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য আর উহার প্রতিদান আমিই দিব। (বুখারী) ফযিলতের মাস এই মাহে রমজানেই সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাস।

Horizontal Ad
এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা:১৮৫) সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার নিজের মধ্যে আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কাজেই নিজেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা:) ঘোষণা করেছেন;

যে লোক ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)।

এই মাসেই লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রাত, যে রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম। (সূরা কদর:২) তাইতো এই মাস অন্য সকল মাস থেকে ফজিলত পূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, আসুন সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও সকল খারাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করি।

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে এলো মাহে রমজান!

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি। তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মাস হলো মাহে রমজান। এটা ফযিলাতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, সবচেয়ে বেশি সওয়াব অর্জনের মাস।

মাহে রমজানকে বলা হয় মুসলমানদের জন্য নেকি অর্জন করার মৌসুম। মাহে রমজানের প্রধান আমল হলো ফরজ রোজা। রোজা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ ‘বিরত থাকা’।

আরবিতে বলা হয় সিয়াম, অর্থ ‘বিরত থাকা’, ‘আত্মসংযম করা’ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ও বিধান দেওয়া হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা:১৮৩) রমজান মাস আসে মানুষের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে।

তাইতো রাসুল (সা:) বলেন, রমজান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। (নাসায়ী, আল মুসতাদরাক) এই মাস মুমিনের অতীতের গুনাহ সমূহকে মুছে দেয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী ও মুসলিম) রমজান মাস সহানুভূতির মাস। রমজান মাস এলে রাসূল (সা:) দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রতি দান সদকা করতে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) লোকদের মধ্যে অতিদানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান মাস এলে তার দানশীলতা অনেক বেড়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে কোন রোজাদারকে ইফতার করানোর কারণে অনেক নেকি লাভ হয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যদি কেউ রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সে উক্ত রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে, তবে রোজাদারের নেকি একটুও কমবে না। (তিরমিজি) রমজান মাসে নফলের বিনিময় ফরজ সমতুল্য এবং একটি ফরজের বিনিময় সত্তরটা ফরজের নেকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু মাহে রমজানের রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য আর উহার প্রতিদান আমিই দিব। (বুখারী) ফযিলতের মাস এই মাহে রমজানেই সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাস।

এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা:১৮৫) সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার নিজের মধ্যে আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কাজেই নিজেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা:) ঘোষণা করেছেন;

যে লোক ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)।

এই মাসেই লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রাত, যে রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম। (সূরা কদর:২) তাইতো এই মাস অন্য সকল মাস থেকে ফজিলত পূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, আসুন সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও সকল খারাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করি।

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।