ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে ইসলামের ছায়াতলে ডক্টর গ্যারি মিলার

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১৬:২৪:৫১ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১৬:২৪:৫১

ড. গ্যারি মিলার ছিলেন কানাডার একজন খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারক। তিনি পবিত্র কুরআনের ভুল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে ইসলাম ও কুরআন বিরোধী প্রচারণা চালানো সহজ হয়। কিন্তু ফল হয়েছিল বিপরীত। তিনি বলেন, আমি কোন একদিন কুরআন সংগ্রহ করে তা পড়া শুরু করলাম।

প্রথমে ভেবেছিলাম কুরআন নাযিল হয়েছিল আরবের মরুচারীদের মধ্যে। তাই এতে নিশ্চয় মরুভূমি সম্পর্কে কথা থাকবে। কুরআন নাযিল হয়েছিল ১৪০০ বছর আগে।

Horizontal Ad
তাই খুব সহজেই এতে অনেক ভুল খুঁজে পাব ও সেসব ভুল মুসলিমদের সামনে তুলে ধরব বলে সংকল্প করেছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে কুরআন পড়ার পরে বুঝলাম আমার এসব ধারণা ঠিক নয়, বরং এমন একটা গ্রন্থে অনেক আকর্ষণীয় তথ্য পেলাম। বিশেষ করে সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতটি আমাকে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে।

সেখানে আল্লাহ বলেন, ‘এরা কী লক্ষ্য করে না কুরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে নাযিল হ’ত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত’। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারক গ্যারি মিলার এভাবে ইসলামের দোষ খুঁজতে গিয়ে মুসলিম হয়ে যান।

তিনি বলেছেন, ‘আমি খুব বিস্মিত হয়েছি যে, কুরআনে ঈসা (আঃ)-এর মাতা মারিয়ামের নামে একটি বড় পরিপূর্ণ সূরা রয়েছে। আর এ সূরায় তাঁর এত ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান করা হয়েছে যে, এত শ্রশংসা বাইবেলেও দেখা যায় না।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নাম মাত্র ৫ বার এসেছে। কিন্তু ঈসা (আঃ)-এর নাম এসেছে ২৫ বার। আর এ বিষয়টি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে আমার ওপর ব্যাপক প্রভাব রেখেছে’।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা : ইসলাম মানুষের জীবনকে করে লক্ষ্যপূর্ণ। কারণ এ ধর্মের দৃষ্টিতে মানুষের জীবনের রয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থ ও লক্ষ্য। কিন্তু পশ্চিমা সরকারগুলো ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা মুসলিমদেরকে পাশ্চাত্যের জন্য বিপজ্জনক বলে তুলে ধরছে।

আর এই অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিমা সমাজে মুসলিমদের উপর আরোপ করা হয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। ইউরোপ-আমেরিকার ক্ষমতাসীন সরকার ও ইসলাম-বিদ্বেষী দল বা সংস্থাগুলো এভাবে মুসলিম ও ইসলামের উপর আঘাত হানার পাশাপাশি নিজেদেরকে পশ্চিমা সভ্যতা এবং পশ্চিমা জনগণের সমর্থক হিসাবে জাহির করার পাশাপাশি জনগণকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

পাশ্চাত্যে ইসলামের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব ক্রমেই বাড়তে থাকায় ইসলাম বিরোধী মহলগুলোর ইসলাম-বিদ্বেষী তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। বর্তমানে মুসলিমদের নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও জনমত ব্যাপক বিতর্কে মেতে রয়েছে। পাশ্চাত্যের উগ্র লেখক ফিলিপ রনডু বলেছেন, ‘মুসলিমরা হচ্ছে বিস্ফোরণের বোমার মত এবং ইসলাম বহু মানুষকে, বিশেষ করে ইউরোপের বহু মানুষকে আকৃষ্ট করছে’।

বহুল প্রচারিত এক টাইম ম্যাগাজিনগুলোতে ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘ইউরোপের পরিচিতির সংকট’ বলে অভিহিত করেছে। ২০১০ সালের শেষের দিকে সুইজারল্যান্ডে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইন চালু করার লক্ষ্যে এক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এই পদক্ষেপের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ নামের একটি উগ্র খ্রিষ্টানপন্থী দল। মুসলিমদের ব্যাপারে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত এই আইন পাশ করতে সফল হয় দলটি। দলটির পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম এই আইন চাপিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সুইস রাজনীতিবিদ ড্যানিয়েল স্ট্রিচ।

তিনি পুরো সুইজারল্যান্ডে ইসলাম-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দেন এবং জনগণের মধ্যে ইসলাম-অবমাননার বীজ বপন করেন। ফলে সুইস জনগণ মসজিদের মিনার নির্মাণের বিরোধী হয়ে পড়ে এবং মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম পাশ্চাত্যে পূর্বের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠে। ফলে এক পর্যায়ে তিনি ইসলামের যৌক্তিক শিক্ষাগুলো ও পবিত্র কুরআন নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন এবং ইসলামের অকাট্য যুক্তি ও বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এভাবেই সুইজারল্যান্ডে ইসলাম-বিদ্বেষী আন্দোলনের প্রধান নেতা সুইস রাজনীতিবিদ ড্যানিয়েল স্ট্রিচ নিজেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ড্যানিয়েল স্ট্রিচ এখন একজন সামরিক প্রশিক্ষক এবং পৌরসভার সদস্য ও অঙ্গীকারাবদ্ধ মুসলিম। তিনি নিয়মিত মসজিদে আসেন, কুরআন অধ্যয়ন করেন ও পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করেন। ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ইসলাম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক জবাব দেয়, যা আমি কখনও খ্রিষ্ট ধর্মে খুঁজে পাইনি। আমি ইসলামের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছি জীবনের বাস্তবতা’।
ড্যানিয়েল স্ট্রিচ এখন তার অতীতের কাজের জন্য লজ্জিত। তিনি সুইজারল্যান্ডে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

দেশটিতে এখন ৪টি মসজিদ সক্রিয় রয়েছে। ড্যানিয়েলের স্বপ্নের মসজিদটি নির্মিত হ’লে সুইজারল্যান্ডে মসজিদের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫টিতে। তিনি দেশটিতে ইসলাম বিরোধী যে তৎপরতা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এভাবেই তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। ড্যানিয়েল এখন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আন্দোলন গড়ে তোলারও চেষ্টা করছেন।

‘ওপিআই’ নামের একটি ইসলামী সংস্থার প্রধান আবদুল মজিদ আদলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ইউরোপের জনগণ ইসলাম সম্পর্কে জানতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী। তাদের অনেকেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে চান। ঠিক যেভাবে সুইজারল্যান্ডের ড্যানিয়েল এ পথে সচেষ্ট হয়েছিলেন।

তিনি ইসলামের মোকাবেলা করতে গিয়ে পবিত্র কুরআনের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশুনা শুরু করেন। তিনি চেয়েছিলেন ইসলামের সঙ্গে খুব কঠোর আচরণ করবেন। কিন্তু এর ফল হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত’।

ড্যানিয়েল বলেন, ‘মহান ধর্ম ইসলামের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হ’ল, যারাই এর মোকাবেলা করতে চায় তাদেরকে এই পবিত্র ধর্ম চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার মাধ্যমে এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহবান জানায়।

ফলে ইসলামের খুঁত বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা এ যে খাঁটি আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম. তা বাস্তবতা বুঝতে পারে। কারণ ইসলাম মানুষের প্রকৃতির চাহিদার আলোকে প্রণীত হয়েছে। সত্য অনুসন্ধানের ইচ্ছা নিয়ে যারাই ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করেন তারা এই আসমানী ধর্মের সত্যতা অস্বীকার করতে পারেন না।

বিশিষ্ট ইংরেজ গবেষক জন ডেভেনপোর্ট বলেছেন, ‘কুরআন ভুল-ত্রুটিমুক্ত হওয়ায় এতে কোন ছোটখাট সংশোধনেরও দরকার নেই। তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কুরআন পড়ার পরও সামান্যতম বিরক্তিও সৃষ্টি হবে না কারো মধ্যে। বছরের পর বছর ধরে পাদ্রীরা আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের বাস্তবতা ও মহত্ত্ব থেকে দূরে রেখেছেন।

কিন্তু আমরা যতই জ্ঞানের পথে এগুচ্ছি ততই অজ্ঞতা ও অযৌক্তিক গোঁড়ামির পর্দা মুছে যাচ্ছে। শিগগিরই এ মহাগ্রন্থ, যার প্রশংসা ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য কারো নেই। বিশ্বকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে এবং বিশ্বের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে ও শেষ পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের চিন্তা-চেতনার প্রধান অক্ষে পরিণত হবে’।

সুসংবাদ নিয়ে এলো মাহে রমজান!

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি। তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মাস হলো মাহে রমজান। এটা ফযিলাতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, সবচেয়ে বেশি সওয়াব অর্জনের মাস।

মাহে রমজানকে বলা হয় মুসলমানদের জন্য নেকি অর্জন করার মৌসুম। মাহে রমজানের প্রধান আমল হলো ফরজ রোজা। রোজা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ ‘বিরত থাকা’।

আরবিতে বলা হয় সিয়াম, অর্থ ‘বিরত থাকা’, ‘আত্মসংযম করা’ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।

Horizontal Ad
আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ও বিধান দেওয়া হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা:১৮৩) রমজান মাস আসে মানুষের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে।

তাইতো রাসুল (সা:) বলেন, রমজান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। (নাসায়ী, আল মুসতাদরাক) এই মাস মুমিনের অতীতের গুনাহ সমূহকে মুছে দেয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী ও মুসলিম) রমজান মাস সহানুভূতির মাস। রমজান মাস এলে রাসূল (সা:) দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রতি দান সদকা করতে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) লোকদের মধ্যে অতিদানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান মাস এলে তার দানশীলতা অনেক বেড়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে কোন রোজাদারকে ইফতার করানোর কারণে অনেক নেকি লাভ হয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যদি কেউ রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সে উক্ত রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে, তবে রোজাদারের নেকি একটুও কমবে না। (তিরমিজি) রমজান মাসে নফলের বিনিময় ফরজ সমতুল্য এবং একটি ফরজের বিনিময় সত্তরটা ফরজের নেকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু মাহে রমজানের রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য আর উহার প্রতিদান আমিই দিব। (বুখারী) ফযিলতের মাস এই মাহে রমজানেই সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাস।

এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা:১৮৫) সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার নিজের মধ্যে আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কাজেই নিজেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা:) ঘোষণা করেছেন;

যে লোক ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)।

এই মাসেই লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রাত, যে রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম। (সূরা কদর:২) তাইতো এই মাস অন্য সকল মাস থেকে ফজিলত পূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, আসুন সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও সকল খারাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করি।

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে এলো মাহে রমজান!

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি। তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মাস হলো মাহে রমজান। এটা ফযিলাতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, সবচেয়ে বেশি সওয়াব অর্জনের মাস।

মাহে রমজানকে বলা হয় মুসলমানদের জন্য নেকি অর্জন করার মৌসুম। মাহে রমজানের প্রধান আমল হলো ফরজ রোজা। রোজা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ ‘বিরত থাকা’।

আরবিতে বলা হয় সিয়াম, অর্থ ‘বিরত থাকা’, ‘আত্মসংযম করা’ ইত্যাদি। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ও বিধান দেওয়া হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা:১৮৩) রমজান মাস আসে মানুষের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে।

তাইতো রাসুল (সা:) বলেন, রমজান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। (নাসায়ী, আল মুসতাদরাক) এই মাস মুমিনের অতীতের গুনাহ সমূহকে মুছে দেয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী ও মুসলিম) রমজান মাস সহানুভূতির মাস। রমজান মাস এলে রাসূল (সা:) দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রতি দান সদকা করতে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) লোকদের মধ্যে অতিদানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান মাস এলে তার দানশীলতা অনেক বেড়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে কোন রোজাদারকে ইফতার করানোর কারণে অনেক নেকি লাভ হয়। রাসুল (সা:) বলেন,

যদি কেউ রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সে উক্ত রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে, তবে রোজাদারের নেকি একটুও কমবে না। (তিরমিজি) রমজান মাসে নফলের বিনিময় ফরজ সমতুল্য এবং একটি ফরজের বিনিময় সত্তরটা ফরজের নেকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু মাহে রমজানের রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য আর উহার প্রতিদান আমিই দিব। (বুখারী) ফযিলতের মাস এই মাহে রমজানেই সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাস।

এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা:১৮৫) সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার নিজের মধ্যে আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কাজেই নিজেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা:) ঘোষণা করেছেন;

যে লোক ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)।

এই মাসেই লাইলাতুল কদর অর্থাৎ কদরের রাত, যে রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম। (সূরা কদর:২) তাইতো এই মাস অন্য সকল মাস থেকে ফজিলত পূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, আসুন সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও সকল খারাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করি।

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।