ঢাকা, আজ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

১৫ টন চাল আ’ত্মসাৎ নিয়ে চেয়ারম্যান-ইউএনও মু’খোমুখি

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১৬:১৮:১৪ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১৬:১৮:১৪

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ক’রোনা পরিস্থিতিতে টৈটং ইউনিয়নের শ্রমজীবী ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ত্রাণের ১৫ টন চাল। কিন্তু ওই চাল বিতরণ না করে পেকুয়া উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত ও টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর যোগসাজসের মাধ্যমে কালোবাজারি করেছে বলে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে উঠেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গো’য়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা এবং জে’লা প্রশাসনের দৌঁড়ঝাপের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান জাহেদকে আ’সামি করে পেকুয়া থানায় একটি মা’মলা রুজু করে উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। পরে বুধবার দুপুরে স্থানীয় স’রকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ম’ন্ত্রণালয়ের স্থানীয় স’রকার বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক ব’হিষ্কারাদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এদিকে সচেতন লোকজনের প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কোনো পরিস্থিতি টৈটং ইউনিয়নে সৃষ্টি হয়েছিল, যার কারণে শুধুমাত্র ওই ইউনিয়নের জন্য ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। যদিও বিশেষ কারণে ইউএনও এসব চাল বরাদ্দ দিয়ে চুপ থেকেছিলেন কেন? কেনই বা তিনি (ইউএনও) এসব চাল যথাযথভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে কি-না তা তদারকি করেননি। এক্ষেত্রে ত্রাণের এই চাল নয়-ছয়ের ঘটনার নাটের গুরু ইউএনও না কি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। সেই র’হস্য বের করার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আবারো সরব হয়ে উঠেছে।

অনেকেই বলছেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের ও’পর দোষ চা’পিয়ে ইউএনওকে বাচিয়ে নিয়েছেন। যা এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজে’লা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গতবছর ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আ’ঘাত হানলে পেকুয়া উপজে’লার জন্য জে’লা প্রশাসন থেকে ৪০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই ৪০ টন চাল থেকে ২৫ টন চাল ক্ষ’তিগ্রস্তদের মাঝে বিলি করে বাকী ১৫ টন চাল রেখে দেওয়া হয়।

এবার ম’হামা’রি ক’রোনা পরিস্থিতিতে নতুন করে পেকুয়ার জন্য জে’লা প্রশাসন থেকে প্রায় ৯০ টন মতো চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই সুযোগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় রেখে দেওয়া ১৫ টন চাল টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে উপ-বরাদ্দপত্র দিয়ে তার মাধ্যমে খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন ইউএনও। এখানে চেয়ারম্যান উপ-বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর এবং খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করলেও তিনি বলির পাঁঠা হয়েছেন মাত্র।

১৫ টন চাল উত্তোলনের পর কালোবাজারী এবং আত্মসাতের অভিযোগ এনে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর বি’রুদ্ধে পেকুয়া থানায় মা’মলা করেন নবনিযুক্ত উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম।

চাল বিতরণের মাষ্টাররোল জমা প্রদান প্রসঙ্গে পিআইওর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনি চাল বিতরণ করেছেন। কিন্তু মাস্টাররোল জমা দিতে পারেননি। হয়তো নানা ব্যস্ততার কারণে তিনি মাস্টাররোল জমা দিতে সময় পাননি। এর পরেও অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, সেহেতু ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক চেয়ারম্যানের বি’রুদ্ধে মা’মলা রুজু করা হয়েছে।’

অ’ভিযুক্ত টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি চাল উত্তোলনের পর ইউনিয়নের হতদরিদ্র এবং শ্রমজীবী প্রায় ২২০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করেছি। যার মাস্টাররোল আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এমনকি সেই মাস্টাররোল পিআইওর কাছে জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার পত্রও নিয়েছি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে একটি দুষ্টুচ’ক্র আমার বি’রুদ্ধে গভীর ষ’ড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যার ফল হিসেবে ইতিমধ্যে আমার বি’রুদ্ধে মা’মলাও রুজু করেছেন এবং পদ থেকে সাময়িক ব’হিষ্কারও করা হয়েছে।’

পেকুয়া উপজে’লার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র টৈটং ইউনিয়নের জন্য একসঙ্গে ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়ার বি’ষয়টি র’হস্যজনক বলেও মনে করছেন একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। অন্য কোন ইউনিয়ন একসঙ্গে এতটন চাল বরাদ্দ পায়নি কেন? তাদের ভাষ্য মতে- শুধুমাত্র আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই ইউএনও টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সঙ্গো’পনে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় বরাদ্দকৃত চাল ক’রোনা পরিস্থিতিতে কালোবাজারি করে টাকা হাতিয়েছেন। এখন শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের ঘাঁড়ে দোষ চা’পিয়ে ইউএনও সাধু সেজেছেন।

এদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জে’লা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার গত সোমবার সরজমিন পেকুয়ায় আসেন চাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। এ সময় তিনি বলেন, ‘১৫ টন চালের উপ-বরাদ্দ যে চেয়ারম্যানের নামে দেওয়া হয়েছে, তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পেলেই মূল র’হস্য হয়তো বের হয়ে আসবে, চালগুলো কোথায় গেছে।’

তবে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের দাবি, চালগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নামে উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে উত্তোলনের পর সেই চাল কি করেছেন তা তিনি অবগত নন। বি’ষয়টির যথাযথ অনুসন্ধান চলছে।করোনায় দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে সঠিক নিয়মে ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক রেখে সীমিত আকারে কিছু শিল্প কলকারখানা খুলে দেয়ার পক্ষে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, করোনার কারণে দেশের কিছু মানুষ কর্মহীন হয়ে অনাহারে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক রেখে সীমিত পরিসরে কিছু শিল্প কলকারখানা খুলে দেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন- যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বহুদেশে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড তো লকডাউন তুলে নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু করে দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরাও সামনেই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের হাতে এখন ২০ হাজারেরও বেশি করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন- করোনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বেড, আইসিইউ সেন্টার, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বৃদ্ধিসহ নতুনভাবে আরও ২ হাজার চিকিৎসক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এদের পাশাপাশি বেশকিছু মেডিকেল টেকনোলজিস্টও আপাতত আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার, ডিএনসিসি মার্কেট ও দিয়া বাড়ির ৪টি ফ্লোরে নতুন আরও সাড়ে চার হাজার করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হয়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই করোনা আইসোলেশন হাসপাতালগুলো উন্মুক্ত করা সম্ভব।

করোনা আইসোলেশন বেডের সংখ্যা উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, করোনা প্রতিরোধে আরও নতুন সাড়ে চার হাজার করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হয়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো স্বাস্থ্যখাতের হাতে বুঝিয়ে দেয়া হবে। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২০০০ বেড, ডিএনসিসি মার্কেটে ১৩০০ ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে ১২০০ উন্নত নতুন বেড এখন প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে- এই সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো উদ্বোধন করে উন্মুক্ত করা যাবে। এগুলোর পাশাপাশি দেশের রাজধানীসহ জেলা-উপজেলায় আরও ৬০১টি প্রতিষ্ঠান করোনা আইসোলেশনে প্রস্তুত রয়েছে। সব মিলিয়ে করোনা মোকাবেলায় দেশে এখন ২০ হাজারেরও বেশি করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হয়ে গেছে। এর থেকেও বেশি প্রয়োজন হলে তারও ব্যবস্থা সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে নতুন করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে তিনি এসব তথ্য জানান।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।