ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

অবশেষে জানা গেল করোনায় মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের বেশি মা’রা যাওয়ার আসল কারণ

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১২:৩৪:৩৮ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১২:৩৪:৩৮

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৭১। এই ভাইরাসের প্রকোপে এখনও পর্যন্ত মৃ’ত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ১৮ হাজার ০২৪ জনের। ভাইরাসের সং’ক্রমণ থেকে বাঁ’চতে লক ডাউন চলছে আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ভারত-সহ সারা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামনে এসেছে একটি চা’ঞ্চল্যকর তথ্য। পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসে মোট আক্রা’ন্ত ও মৃ’তদের মধ্যে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যাই বেশি! দিন সাতেক আগেই ‘জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন হাসপাতালে যে ৫ হাজার ৭০০ জন করোনায় আক্রা’ন্ত রোগী ভর্তি আছেন, তার মধ্যে প্রায় ৬৬.৫ শতাংশই পুরুষ রোগী।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে ‘ওয়েস্টার্ন জার্নাল অব এমারজেন্সি মেডিসিন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিনের উহানের হাসপাতালে মোট করোনা আক্রা’ন্তের মধ্যে প্রায় ৬৬.৭ শতাংশই পুরুষ। ইতালিতে মোট করোনা আক্রা’ন্তের প্রায় ৫৮ শতাংশ পুরুষ।

চিনে প্রায় ৪৫ হাজার করোনা আক্রা’ন্তদের নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, এই ভাইরাসে মৃ’ত্যুর হারেও এগিয়ে রয়েছেন পুরুষরাই। কারণ, আক্রা’ন্ত পুরুষদের মধ্যে ২.৮ শতাংশের মৃ’ত্যু হয়েছে। আর আক্রা’ন্ত মহিলা রোগীদের মধ্যে ১.৭ শতাংশের মৃ’ত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভাইরাসের বিরুদ্ধে মহিলাদের প্র’তিরোধ ক্ষমতা পুরুষের তুলনায় বেশি। কিন্তু কেন পুরুষের রোগ প্র’তিরো’ধ ক্ষমতা মহিলাদের তুলনায় দুর্বল?

অবশেষে জানা গেল করোনায় মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের বেশি মা’রা যাওয়ার আসল কারণ। বিজ্ঞানীদের মতে, স্ত্রী যৌ’ন হরমোন বা ইস্ট্রোজেন মহিলাদের যে কোনও রকম সং’ক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পুরুষের শরীরের কোষে একটি এক্স ক্রোমোজোম ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম থাকে। এ ক্ষেত্রে মহিলাদের শরীরের কোষে থাকা দু’টি এক্স ক্রোমোজোম পুরুষদের তুলনায় যে কোনও রকম সং’ক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়। তবে এই দুই তত্ত্বের বাইরেও দুনিয়ার বেশির ভাগ বিজ্ঞানী ও গবেষকরা পুরুষ ও মহিলাদের জীবনযাত্রার ধরনকেই তাঁদের প্র’তিরোধ ক্ষমতার ভিন্নতার জন্য দায়ি করেছে।নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে কভিড-১৯ করোনাভাইরাস জয় করে শতাধিক মানুষ ঘরে ফিরেছেন। তাদের সেই করোনা জয়ের গল্প অন্য সকলের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার। মহামা’রী করোনাকে যারা হারিয়ে দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগেরই শেষ পর্যন্ত মনোবল অটুট ছিল। হার না মানার প্রতিজ্ঞাই তাদের সাহায্য করে করোনার বিরুদ্ধে ল’ড়াইয়ে।

কিশোরগঞ্জে ভৈরবে এক পরিবারের তিন সদস্য করোনাকে হারিয়ে দিয়েছেন। দুই মেয়ে ও তাদের বাবা এবার শুনিয়েছেন করোনাজয়ের গল্প। পরিবারের অভিভাবক কাজী আবুল হোসেন ব্যবসায়ী। তার দুই মেয়ে হালিমা তুর্য স্নিগ্ধা ও নওশিন শার্মিলী নিরা। গত ১৭ এপ্রিল করোনায় আক্রা’ন্ত হন স্নিগ্ধা। আক্রা’ন্ত হওয়ার পর রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। পরদিন ডাক্তার তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নমুনা পরীক্ষা করে ঢাকায় পাঠায়। ১৯ এপ্রিল তার বাবা আবুল হোসেন ও ছোটবোন নিরার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। তাদেরও একই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায় প্রশাসন। বাবাকে নিয়ে বেশি চিন্তায় পড়েন স্নিগ্ধা। কারণ তার ৬০ বছর বয়সী বাবার হৃদরোগসহ শরীরে আরও কিছু রোগ রয়েছে।

হাসপাতালে থেকে নিয়মিত তারা ওষুধ খাওয়াসহ সব নিয়ম মেনে চলেছেন। এরপর গত শুক্রবার আবারও বাবা-মেয়েদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। সোমবার তিনজনেরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। স্নিগ্ধা জানান, নিয়ম মেনে চলায় এটা সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ৫ বার গরম পানিতে ভাপ নেয়াসহ গারগিল করা, লেবুর শরবত, আদা-লং লেবু দিয়ে দৈনিক ৮-১০ বার চা পান, ফলমূল খাওয়া সবই করেছি। ডাক্তারদের দেয়া ওষুধ নিয়মিত সেবন করেছি। চিকিৎসকদের কথা মেনে চলেছি। আবারও আমাদের তিনজনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তখন নেগেটিভ আসলে আমরা হাসপাতাল থেকে রিলিজ পাব।

4 0 Google +0 0 0

18 0 Google +0 0 0