ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

করোনা রোগীদের জন্য সুখবর: ওষুধের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায়ও সাফল্য

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১২:৩২:৩৯ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১২:৩২:৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মহামা’রী করোনাভাইরাসের দাপটে থমকে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব। এই ভাইরাস ইতিমধ্যে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ প্রতিরো’ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও কোনো ওষুধের অনুমোদন দেয়নি।তবে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন বিজ্ঞানীরা করোনা রোগীদের জন্য সুখবর বয়ে আনছেন।যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে রেমদেসিভির নামের একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আশার আলো দেখাচ্ছে। মার্কিন বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা গ্লিড সায়েন্সেসের তৈরি এ ওষুধ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাতেও সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এ সাফল্যকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনা-বিষয়ক টাস্কফোর্সের অন্যতম কর্তাব্যক্তি ও শীর্ষ মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অ্যান্থনি ফসিও। গ্লিড সায়েন্সেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রা’ন্ত রোগীদের রেমদেসিভির ওষুধটি প্রয়োগ করে দেখা গেছে রোগীর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

গ্লিড সায়েন্সেস বলছে, তাদের তৈরি ওষুধটি কোভিড-১৯ আক্রা’ন্তদের যত দ্রুত দেয়া গেছে, তত তাড়াতাড়ি রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। যাদের ওষুধটি দেরি করে দেয়া হয়েছে, তাদের চেয়ে দ্রুত উন্নতি হয়েছে যাদের ওষুধটি শুরুতেই প্রয়োগ করা হয়েছে। এদিকে করোনার সম্ভাব্য ওষুধটির সফলতার খবরে বুধবার একলাফে পাঁচ শতাংশ বেড়ে গেছে গ্লিড সায়েন্সেসের শেয়ারদর।

বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাটি জানিয়েছে, রেমদেসিভির ওষুধ প্রথমেই প্রয়োগে ৬২ শতাংশ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছে। সেখানে যাদের একটু দেরিতে ওষুধটি দেয়া হয়েছে, সে ৪৯ শতাংশ রোগীর অবস্থার উন্নতিও দেরিতে হচ্ছে।

মহামা’রী করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী ২ লাখ ২৮ হাজার ২৩৬ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রা’ন্ত হয়েছেন বিশ্বের ৩২ লাখ ২২ হাজার ৩৪৬ জন। তাদের মধ্যে বর্তমানে ১৯ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৪ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৯ হাজার ৮১১ জন (৩ শতাংশ) আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৭১। এই ভাইরাসের প্রকোপে এখনও পর্যন্ত মৃ’ত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ১৮ হাজার ০২৪ জনের। ভাইরাসের সং’ক্রমণ থেকে বাঁ’চতে লক ডাউন চলছে আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ভারত-সহ সারা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামনে এসেছে একটি চা’ঞ্চল্যকর তথ্য। পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসে মোট আক্রা’ন্ত ও মৃ’তদের মধ্যে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যাই বেশি! দিন সাতেক আগেই ‘জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন হাসপাতালে যে ৫ হাজার ৭০০ জন করোনায় আক্রা’ন্ত রোগী ভর্তি আছেন, তার মধ্যে প্রায় ৬৬.৫ শতাংশই পুরুষ রোগী।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে ‘ওয়েস্টার্ন জার্নাল অব এমারজেন্সি মেডিসিন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিনের উহানের হাসপাতালে মোট করোনা আক্রা’ন্তের মধ্যে প্রায় ৬৬.৭ শতাংশই পুরুষ। ইতালিতে মোট করোনা আক্রা’ন্তের প্রায় ৫৮ শতাংশ পুরুষ।

চিনে প্রায় ৪৫ হাজার করোনা আক্রা’ন্তদের নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, এই ভাইরাসে মৃ’ত্যুর হারেও এগিয়ে রয়েছেন পুরুষরাই। কারণ, আক্রা’ন্ত পুরুষদের মধ্যে ২.৮ শতাংশের মৃ’ত্যু হয়েছে। আর আক্রা’ন্ত মহিলা রোগীদের মধ্যে ১.৭ শতাংশের মৃ’ত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভাইরাসের বিরুদ্ধে মহিলাদের প্র’তিরোধ ক্ষমতা পুরুষের তুলনায় বেশি। কিন্তু কেন পুরুষের রোগ প্র’তিরো’ধ ক্ষমতা মহিলাদের তুলনায় দুর্বল?

অবশেষে জানা গেল করোনায় মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের বেশি মা’রা যাওয়ার আসল কারণ। বিজ্ঞানীদের মতে, স্ত্রী যৌ’ন হরমোন বা ইস্ট্রোজেন মহিলাদের যে কোনও রকম সং’ক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পুরুষের শরীরের কোষে একটি এক্স ক্রোমোজোম ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম থাকে। এ ক্ষেত্রে মহিলাদের শরীরের কোষে থাকা দু’টি এক্স ক্রোমোজোম পুরুষদের তুলনায় যে কোনও রকম সং’ক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়। তবে এই দুই তত্ত্বের বাইরেও দুনিয়ার বেশির ভাগ বিজ্ঞানী ও গবেষকরা পুরুষ ও মহিলাদের জীবনযাত্রার ধরনকেই তাঁদের প্র’তিরোধ ক্ষমতার ভিন্নতার জন্য দায়ি করেছে।