ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাধ্য না হলে কেউ যেন দেশে ফিরে না আসে অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর !

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১০:৩৩:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১০:৩৩:৪১

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ, কে. আব্দুল মোমেন প্রবাসী শ্রমিকদের অনুরোধ করেছেন, বাধ্য না হলে কেউ যেন দেশে ফিরে না আসে। তিনি বলেন, এ সময় পার হলে তাদের জন্য ভাল সময় আসবে। প্রবাসীদের কেউ যেন না খেয়ে না থাকে সে জন্য সরকার খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।

সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য গঠিত ‘প্রবাস বন্ধু কলসেন্টার’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মেমেন এসব কথা বলেন।

ভিডিও কনফারেন্সে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংযুক্ত হয়ে ড. মোমেন বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের সম্পদ। তাদের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের সকল বৈদেশিক দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে ২২ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশির বাসায় বসে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে যেখানে অধিক সংখ্যক প্রবাসী আছে সেখানেও এ সেবা চালুর জন্য বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশন প্রধানদের অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেন ড. মোমেন।

তিনি বলেন, নিউইয়র্ক, লন্ডনসহ কয়েকটি দেশে এ সেবা চালু আছে। এসময় প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সেবা নেওয়ার অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এটুআই এবং আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় এ কলসেন্টারটি চালু করা হলো। এ কলসেন্টারের মাধ্যমে প্রবাসী ডাক্তাররা প্রবাসী বাংলাদেশিদের টেলিফোনে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন।করোনা ভাইরাস সনাক্তে র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের মাধ্যমে এন্টিবডি সনাক্তে ৯৯% সফলতা পেয়েছে ইউরোপের চিকিৎসা বিজ্ঞনিরা। এরই ধারাবাহিকতায় সমস্ত ইউরোপ জুড়ে আজ এই পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।নতুন উদ্ভাবিত কিটের মাধ্যমে ১০০০ জনের মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে ব্রিটেনের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ৯৯০ জনের সঠিক ফল নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সুত্র ইন্ডিপেন্ডেন্ট, বিস্তারিত দেখুন https://www.independent.co.uk/news/health/coronavirus-antibody-test-approval-news-europe-uk-accuracy-abbot-a9490026.html

উল্লেখ্য ২০০৩ সালে সর্ব প্রথম বাংলাদেশী গবেষক ড. বিজন কুমার এন্টিবডি পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন যার পেটেন্ড তিনি চীনের কাছে বিক্রি করেন।তার নেতৃত্বেই আরো একদল অভিজ্ঞ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সমন্বয় করে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফ্রুল্লাহ এন্টিবডি ও এন্টিজেনের সমন্বয়ে আরো উন্নত একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এই কিটের মাধ্যমে কোন পরীক্ষা চালায় নি।যুক্তরাষ্ট ইউরোপ এবং ইরানে ট্রায়াল পরীক্ষার জন্য কিটের নমুনা হস্তান্তর করা হয়েছে। এই কিটের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে করনা সনাক্ত করা যাবে বলে দাবি করে আসছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ।

আরো সংবাদ

আরো পড়ুন: করোনায় বাংলাদেশে নতুন করে দরিদ্র হবে ২ কোটি মানুষ: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে মানুষের আয়ে বা ক্রয়ক্ষমতার ২০ শতাংশে করোনা আঘাত করলে নতুন করে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসবে। আর আঘাতের মাত্রা যদি ৫ শতাংশও হয়, সে ক্ষেত্রে ৪০ লাখ মানুষ তাদের আগের অবস্থান থেকে ছিটকে পড়বে।

এসব মানুষ চলে আসবে হতদরিদ্র ও দরিদ্রের তালিকায়। এতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। করোনার মহামারীতে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী নতুন করে কতজন গরিব হবে-এর একটি হিসাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার ‘ইস্টিমেটস অব দি ইমপেক্ট অব কোভিড-১৯ অন গ্লোবাল প্রভার্টি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নতুন ফমুলা ব্যবহার করে এ হিসাব বের করা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, হতদরিদ্র ও দরিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায়।

তবে করোনাভাইরাস প্রত্যেক দেশে ২০ শতাংশ আয়-রোজগার ও ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হানলে বিশ্বব্যাপী ৪২-৫৮ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবে। জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে গরিব মানুষের ঝুঁকি দু’দিকে।

দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করছে, তাদের কাজ বন্ধ। ফলে আয় কমেছে। অপরদিকে নিত্যপণ্য ও মেডিকেল সেবা মূল্য বৃদ্ধির কারণেও তাদের ওপর আঘাত আসছে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা গবেষণা বলেছে, ৩৫ শতাংশ মানুষ হতদরিদ্র হয়েছে।

ফলে এর সঙ্গে আগে ১৫ শতাংশ হতদরিদ্র যোগ করলে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এই করোনায় দরিদ্র ও হতদরিদ্র হয়েছে। তবে এটি অনুমাননির্ভর। তিনি আরও বলেন, এখনও সামনের দিনগুলো নিয়ে অনিশ্চিত। অর্থনীতি কবে সচল হবে কেউ যানে না। এটি দীর্ঘ হলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ আঘাতে দারিদ্র্যের ওপর স্বল্পসময়ের আঘাতের একটি হিসাব বের করা হয়েছে। এ হিসাবটি করা হয়েছে তিন শ্রেণির আয়ের ওপর। হিসাবে আনা হয়েছে প্রথম যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলার (১৬১ টাকা), দ্বিতীয় যাদের দৈনিক আয় ৩ দশমিক ২০ ডলার (২৭২ টাকা) এবং সর্বশেষ দৈনিক আয় ৫ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার (৪৭৬ টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা কোনো দেশের মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ আঘাত করলে যাদের আয় দৈনিক প্রায় ২ ডলারের নিচে তাদের মোট হার নতুন করে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং ৩ দশমিক ২ ডলারের নিচে আয়ের মোট জনসংখ্যার হার নতুন করে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে দৈনিক ২ ডলারের নিচে আয় করছে এমন জনগোষ্ঠী হচ্ছে ২ কোটি ৩৭ লাখ বা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এরা হতদরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু করোনার ২০ শতাংশ মানুষের আয়-রোজগার বা ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হতদরিদ্রের হার আরও ৬ শতাংশ বাড়াবে। অর্থাৎ নতুন করে আরও ৯৬ লাখ মানুষ হতদরিদ্রের তালিকায় যুক্ত হবে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে ১ দশমিক ৯০ ডলারের ওপর বা ৩ দশমিক ৮ ডলারের নিচে দৈনিক আয় করছে এমন মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লাখ (৫৫ শতাংশ)। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০ শতাংশ আয়ে আঘাত করলে এই হার ৫৫ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে উঠবে। অর্থাৎ ৭ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে নতুন করে দরিদ্র হবে আরও ১ কোটি ১২ লাখ লোক।

ফলে করোনার প্রতিঘাতে নতুন করে মোট ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র ও হতদরিদ্রের তালিকায় নাম লেখাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ২০ শতাংশ না হয়ে মাত্র ৫ শতাংশও আঘাত করে ততে হতদরিদ্র (১.৯০ ডলার) ১ শতাংশ এবং দরিদ্র (৩.২০ ডলার)

১ দশমিক ৫২ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে বাংলাদেশে হতদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নতুন করে ৪০ লাখ হবে। এর মধ্যে ১৬ লাখ হতদরিদ্র হবে এবং দরিদ্র বনে যাবে ২৪ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে পৌনে দুই কোটি মানুষ আছে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

এসব মানুষ কাজ হারিয়ে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, মুদি দোকানি, কুলি, মজুর দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করছে। তারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়।

সেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মোট জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ আয়ে করোনাভাইরাস আঘাত করলে বিপরীতে নতুন করে সাড়ে ৮ কোটি থেকে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ হতদরিদ্র হবে। যদি এটি ১০ শতাংশ আঘাত করে সে ক্ষেত্রে নতুন ১৮ কোটি থেকে ২৮ কোটি মানুষ হতদরিদ্র হবে।

সুত্র: যুগান্তর

Share0TweetShare