ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

গার্মেন্টস, মন্দিরে গেলে যদি মানুষ না মরে, “মসজিদে” গেলে কেন মানুষ মারা যাবে?

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১০:৩১:৫১ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১০:৩১:৫১

গার্মেন্টস মন্দির খুলতে যদি বাংলাদেশে আইনের প্রয়োজন না হয়। তাহলে রহমতের মাস মসজিদে আইন কেন?
মসজিদে গেলে যদি মানুষ মারা যায় তাহলে মৃত্যুর জন্য মসজিদের চেয়ে উত্তম জায়গা দুনিয়াতে আর কোথাও নেই।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।(সংগৃহিত)

ঢাকার যেসব থানা আংশিক লকডাউন করা হয়েছে

বাংলাদেশে ৫১ তম দিনে মৃতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে। মারা যাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা ঢাকাতে। এবং আক্রান্তের দিক দিয়েও ঢাকার অবস্থান উপরে।

আক্রান্ত এবং মৃত্যের অবস্থা বিবেচনা করে ঢাকার কোন থানাই এখনও পুরোপুরি লকডাউন করা হয়নি। আংশিকভাবে লকডাউন করা হয়েছে বেশিরভাগ থানাই। তালিকা দেখে নিন:

আদাবর থানা, উত্তরা পূর্ব থানা, উত্তারা পশ্চিম থানা, ওয়ারী থানা, কদমতলী থানা, কলাবাগান থানা, কাফরুল থানা, কামরাঙ্গীরচর থানা, কোতয়ালী থানা, খিলক্ষেত থানা, গুলশান থানা, গেন্ডারিয়া থানা, চকবাজার থানা, ডেমরা থানা, তেজঁগাও থানা, তেজঁগাও শিল্পাঞ্চল থানা, দক্ষিণখান থানা, দারুস সালাম থানা, ধানমন্ডি থানা,

নিউমার্কেট থানা, পল্টন মডেল থানা, পল্লবী থানা, বংশাল থানা, বাড্ডা থানা, বিমানবন্দর থানা, ভাটারা থানা, মিরপুর মডেল থানা, মুগদা থানা, মোহাম্মদপুর থানা, যাত্রাবাড়ী থানা, রমনা মডেল থানা ,লালবাগ থানা, শাহআলী থানা, শাহজাহানপুর থানা, শেরেবাংলা নগর থানা, সবুজবাগ থানা, সূত্রাপুর থানা, হাজারীবাগ থানা।করোনা ভাইরাস সনাক্তে র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের মাধ্যমে এন্টিবডি সনাক্তে ৯৯% সফলতা পেয়েছে ইউরোপের চিকিৎসা বিজ্ঞনিরা। এরই ধারাবাহিকতায় সমস্ত ইউরোপ জুড়ে আজ এই পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।নতুন উদ্ভাবিত কিটের মাধ্যমে ১০০০ জনের মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে ব্রিটেনের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ৯৯০ জনের সঠিক ফল নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সুত্র ইন্ডিপেন্ডেন্ট, বিস্তারিত দেখুন https://www.independent.co.uk/news/health/coronavirus-antibody-test-approval-news-europe-uk-accuracy-abbot-a9490026.html

উল্লেখ্য ২০০৩ সালে সর্ব প্রথম বাংলাদেশী গবেষক ড. বিজন কুমার এন্টিবডি পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন যার পেটেন্ড তিনি চীনের কাছে বিক্রি করেন।তার নেতৃত্বেই আরো একদল অভিজ্ঞ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সমন্বয় করে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফ্রুল্লাহ এন্টিবডি ও এন্টিজেনের সমন্বয়ে আরো উন্নত একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এই কিটের মাধ্যমে কোন পরীক্ষা চালায় নি।যুক্তরাষ্ট ইউরোপ এবং ইরানে ট্রায়াল পরীক্ষার জন্য কিটের নমুনা হস্তান্তর করা হয়েছে। এই কিটের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে করনা সনাক্ত করা যাবে বলে দাবি করে আসছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ।

আরো সংবাদ

আরো পড়ুন: করোনায় বাংলাদেশে নতুন করে দরিদ্র হবে ২ কোটি মানুষ: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে মানুষের আয়ে বা ক্রয়ক্ষমতার ২০ শতাংশে করোনা আঘাত করলে নতুন করে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসবে। আর আঘাতের মাত্রা যদি ৫ শতাংশও হয়, সে ক্ষেত্রে ৪০ লাখ মানুষ তাদের আগের অবস্থান থেকে ছিটকে পড়বে।

এসব মানুষ চলে আসবে হতদরিদ্র ও দরিদ্রের তালিকায়। এতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। করোনার মহামারীতে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী নতুন করে কতজন গরিব হবে-এর একটি হিসাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার ‘ইস্টিমেটস অব দি ইমপেক্ট অব কোভিড-১৯ অন গ্লোবাল প্রভার্টি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নতুন ফমুলা ব্যবহার করে এ হিসাব বের করা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, হতদরিদ্র ও দরিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায়।

তবে করোনাভাইরাস প্রত্যেক দেশে ২০ শতাংশ আয়-রোজগার ও ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হানলে বিশ্বব্যাপী ৪২-৫৮ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবে। জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে গরিব মানুষের ঝুঁকি দু’দিকে।

দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করছে, তাদের কাজ বন্ধ। ফলে আয় কমেছে। অপরদিকে নিত্যপণ্য ও মেডিকেল সেবা মূল্য বৃদ্ধির কারণেও তাদের ওপর আঘাত আসছে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা গবেষণা বলেছে, ৩৫ শতাংশ মানুষ হতদরিদ্র হয়েছে।

ফলে এর সঙ্গে আগে ১৫ শতাংশ হতদরিদ্র যোগ করলে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এই করোনায় দরিদ্র ও হতদরিদ্র হয়েছে। তবে এটি অনুমাননির্ভর। তিনি আরও বলেন, এখনও সামনের দিনগুলো নিয়ে অনিশ্চিত। অর্থনীতি কবে সচল হবে কেউ যানে না। এটি দীর্ঘ হলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ আঘাতে দারিদ্র্যের ওপর স্বল্পসময়ের আঘাতের একটি হিসাব বের করা হয়েছে। এ হিসাবটি করা হয়েছে তিন শ্রেণির আয়ের ওপর। হিসাবে আনা হয়েছে প্রথম যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলার (১৬১ টাকা), দ্বিতীয় যাদের দৈনিক আয় ৩ দশমিক ২০ ডলার (২৭২ টাকা) এবং সর্বশেষ দৈনিক আয় ৫ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার (৪৭৬ টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা কোনো দেশের মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ আঘাত করলে যাদের আয় দৈনিক প্রায় ২ ডলারের নিচে তাদের মোট হার নতুন করে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং ৩ দশমিক ২ ডলারের নিচে আয়ের মোট জনসংখ্যার হার নতুন করে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে দৈনিক ২ ডলারের নিচে আয় করছে এমন জনগোষ্ঠী হচ্ছে ২ কোটি ৩৭ লাখ বা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এরা হতদরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু করোনার ২০ শতাংশ মানুষের আয়-রোজগার বা ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হতদরিদ্রের হার আরও ৬ শতাংশ বাড়াবে। অর্থাৎ নতুন করে আরও ৯৬ লাখ মানুষ হতদরিদ্রের তালিকায় যুক্ত হবে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে ১ দশমিক ৯০ ডলারের ওপর বা ৩ দশমিক ৮ ডলারের নিচে দৈনিক আয় করছে এমন মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লাখ (৫৫ শতাংশ)। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০ শতাংশ আয়ে আঘাত করলে এই হার ৫৫ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে উঠবে। অর্থাৎ ৭ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে নতুন করে দরিদ্র হবে আরও ১ কোটি ১২ লাখ লোক।

ফলে করোনার প্রতিঘাতে নতুন করে মোট ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র ও হতদরিদ্রের তালিকায় নাম লেখাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ২০ শতাংশ না হয়ে মাত্র ৫ শতাংশও আঘাত করে ততে হতদরিদ্র (১.৯০ ডলার) ১ শতাংশ এবং দরিদ্র (৩.২০ ডলার)

১ দশমিক ৫২ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে বাংলাদেশে হতদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নতুন করে ৪০ লাখ হবে। এর মধ্যে ১৬ লাখ হতদরিদ্র হবে এবং দরিদ্র বনে যাবে ২৪ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে পৌনে দুই কোটি মানুষ আছে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

এসব মানুষ কাজ হারিয়ে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, মুদি দোকানি, কুলি, মজুর দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করছে। তারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়।

সেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মোট জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ আয়ে করোনাভাইরাস আঘাত করলে বিপরীতে নতুন করে সাড়ে ৮ কোটি থেকে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ হতদরিদ্র হবে। যদি এটি ১০ শতাংশ আঘাত করে সে ক্ষেত্রে নতুন ১৮ কোটি থেকে ২৮ কোটি মানুষ হতদরিদ্র হবে।

সুত্র: যুগান্তরএই যেনো এক বড্ড হৃদয়বিদায়ক দৃশ্য

করোনা মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ের প্রধান সম্মুখ যোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন (৪০) করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের সম্মানিত জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে মোঃ জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত। একই সাথে দেশমাতৃকার সেবায় তাঁর এমন আত্মত্যাগে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। তাঁকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

আরো সংবাদ

টিউশনির জমানো ৭০ হাজার টাকা ত্রাণ তহবিলে দিলেন ঢাবি ছাত্র

টিউশনি করে ৭০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র রাইয়্যান রেজা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের জন্য এই টাকা তিনি দিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক হামিদুল হকের কার্যালয়ে গিয়ে তার হাতে জমানো টাকাগুলো তুলে দেন রাইয়্যান। তার এমন কাজে অভিভূত জেলা প্রশাসক।

রাইয়্যান ঢাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিএডিসি’র যুগ্ম-পরিচালক (বীজ বিপণন) মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। রাইয়্যানের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। বাবার চাকরি সূত্রে তিনি এখন রাজশাহীতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।

রাইয়্যান রেজা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শুরুর পর থেকেই টিউশনি করি। সেখান থেকে অল্প-স্বল্প টাকা জমাতাম। এ ছাড়া থিসিস করে কিছু বৃত্তিও পেয়েছিলাম। সেগুলো ভবিষ্যতে জরুরি কাজে লাগানোর উদ্দেশে জমিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে অসহায়-দুস্থ মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। সরকার তাদের সহায়তা পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়েছে- বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকা জমিয়ে রাখার আর কোনো মানেই হয় না। জমানো টাকাগুলো সদ্ব্যবহারের এখনি সময়। সে জন্য টাকাগুলো জেলা প্রশাসকের তহবিলে প্রদান করেছি।

রাইয়্যানের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে ছেলের জমানো টাকা জেলা প্রশাসকের তহবিলে দেয়ার ইচ্ছের কথা জানায়। আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। তার এমন চিন্তা-ভাবনায় আমরাও খুব ভালো লাগছে।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, টিউশনি করে দীর্ঘদিনের জমানো টাকাগুলো নিয়ে একজন শিক্ষার্থী যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা সত্যিই আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। রাইয়্যানের এই অনুদান সমাজের বিত্তবানদের কাছে একটি বার্তা। দেরি না করে তাদেরকেও আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় ঢাবি শিক্ষার্থী রাইয়্যানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক।