ঢাকা, আজ শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

‘মায়ের দুআ আমাকে কাবা শরীফের ইমাম বানিয়েছে’

প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ১০:২৬:৪৮ || আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ১০:২৬:৪৮

কাবা শরীফ নিয়ে যে কথাগুলো আজো অনেকের কাছে অজানা, নিজে জানুন আর অন্য সবাইকে জানতে সাহায্য করুন দরিদ্র ঘরের সন্তান, উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কালো

মানিক হলেন পবিত্র কাবা শরীফের ইমাম। আর তার পেছনে ছিল তার মায়ের দুআ। সে কথাই জানালেন ইমাম শাইখ আদিল আল কালবানি।

‘মায়ের দুআ আমাকে কাবা শরীফের ইমাম বানিয়েছে লন্ডনের এক কনফারেন্সে পবিত্র কাবা শরীফের এক ইমাম আল কালবানি এই কাহিনী বর্ণনা করেন। এতে তিনি তার

জীবনের একটি বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার উপর কোনো কারণে রেগে গিয়ে তার মা আল্লাহর কাছে যে দুআ করেছিলেন তাই তার জীবনে সত্যে পরিণত হয়েছে।

‘মায়ের দুআ আমাকে কাবা শরীফের ইমাম বানিয়েছে ছোটবেলায় ইমাম কালবানি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন বলে জানালেন। দুষ্টুমি করে প্রায়শই তিনি মাকে রাগাতেন। কিন্তু তার মা

ছিলেন খুবই দ্বীনদার একজন মহিলা, তিনি জানতেন আল্লাহর কাছে দুআর কী শক্তি।

তিনি দুআ করাটা তার অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। ছেলের উপর যখনি রেগে যেতেন তখনি তিনি বলতেন, ‘আল্লাহ যেন তোমাকে পথ দেখান! আর তিনি যেন তোমাকে কাবার ইমাম বানান!’

মক্কা-মদিনা
কালো মানুষ শাইখ আদিল আল কালবানি পারস্য উপসাগরীয় এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে শাইখ কালবানি বলেছেন, ‘মসজিদুল

হারামের নামাজের ইমামতি করা অসাধারণ সম্মানের, আর এই কাজ শুধুমাত্র আরব ভূখণ্ডের আরবদের জন্যই নির্ধারিত।’

‘মায়ের দুআ আমাকে কাবা শরীফের ইমাম বানিয়েছে নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে ইমাম এবার ফিরে গেলেন সেই সময়টিতে, যখন তিনি জানতে

পারেন যে, বাদশাহ

আবদুল্লাহ তাকে প্রথম কালো মানুষ হিসেবে মসজিদ আল হারামের ইমাম নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বললেন, মাশাআল্লাহ!

ইমাম বলেন, যখন আপনার সন্তান খারাপ আচরণ করবে তখন তাকে গালমন্দ করবেন না। এতে বিপর্যয় ঘটতে পারে। আমি একজনকে জানি যিনি তার ছেলেকে বলেছিলেন—

‘যাও মর’, অতঃপর তিনি সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, যখন সেই দিনই তার ছেলে মারা যায়। সুবহানআল্লাহ!

প্রিয় সন্তানের পিতা ও মাতাগণ! আপনাদের ভাষা সংবরণ করুন। আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য ভাল দুআ করার অভ্যাস তৈরি করুন, এমনকি যখন আপনি অনেক রেগে যান তখনও তার জন্য দুআ করুন।

‘মায়ের দুআ আমাকে কাবা শরীফের ইমাম বানিয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিনটি দুআ আল্লাহ কখনও প্রত্যাখ্যান করেন না, ছেলেমেয়েদের

জন্য তার পিতামাতার দুআ, রোজাদারের দুআ এবং মুসাফিরের দুআ’। [বায়হাকী’, তিরমিযী, হাদীসটি সহীহ সূত্রে বর্ণিত]

যারা এই ম্যাসেজ অন্যদেরকে জানাবেন তাদের জন্য আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করি, বিচার দিবসে এটা দিয়ে তিনি যেন উপকৃত হন অথবা এটা তার মুক্তির কারণ হয়
সিলেটের হবিগঞ্জ এলাকার ইমাম মুআজ্জিনদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস উপহার দিয়ে তাদের কাছে করোনামুক্তির দোয়া চাইলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আজ বুধবার সিলেটের হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নে সৈয়দ আহমদুল হকের বাড়িতে ব্যারিস্টার সুমন প্রতিষ্ঠিত এর্শাদ-আম্বিয়া ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন ইমাম মুআজ্জিনদের মাঝে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

বিতরণকালে ব্যারিস্টার সুমন ইমাম মুআজ্জিনদের উদ্দেশ্য করে বলেন – আপনারা সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং আপনারা আল্লাহর কাজেই থাকেন সব সময়।

এমন একটা দুর্যোগ মুহুর্তে আপনারা সবাই আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করবেন এবং পুরো পৃথিবী যাতে এই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে সেই কামনা করবেন। তিনি বলেন, এই করোনা ভাইরাস হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি গজব।

আমরা যেভাবে প্রকৃতির উপর এবং সমাজে অন্যায় অবিচার করেছি তাতে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় আমাদের ধরবেই। আমাদের উচিত এসব জুলুম থেকে বের হয়ে আসা। একই সাথে ব্যারিস্টার সুমন বলেন – আপনারা দোয়া করবেন যেন করোনা ভাইরাসের এই মহামারির সাথে সাথে যেন সমাজে বিদ্ধমান জুলুম অত্যাচারের ভাইরাসও দুর হয়ে যায়।

আমাদের মনের মধ্যে আমরা যে ভাইরাস ঢুকিয়েছি অবশ্যই দূর করা উচিত। আজকে আমাদের পাপের কারণে প্রাকৃতিক এই গজবের মুখোমুখি হচ্ছি। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন পশু পাখি যা আছে সব বাইরে উড়তেছে, ঘুরতেছে কিন্তু আমরা মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে আছি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন – এই বিপদের মুহুর্তে তো সবার আগে সামনে থাকার দরকার ছিলো নেতাদের। কিন্তু তারা ঘরে বসে আছে। মানুষের জন্য তারা কাজ করার কথা ছিলো কিন্তু এখন তারা আগে গিয়ে ঘরে বসে আছে। নেতাদের উচিত জনগণের জন্য আগে কাজ করা।

তিনি আরও বলেন – আপরাদেরকে এই যে সামান্য উপহার দিয়েছি এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আমাকে দিয়েছে তত্বাবধায়ক হিসেবে। আমি তাদের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে এই উপহার পৌঁছে দিলাম

আরো পড়ুন: রংপুরে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন ৮০ বছরের মোসলেম উদ্দিন

করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন মোসলেম উদ্দিন (৮০)। বুধবার দুপুরে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএম নূরুন্নবী।
১৩ দিন রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তার বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের আউলিয়াগঞ্জ।

তিনি জানান, একমাস ঢাকায় অবস্থান শেষে গত ৩১ মার্চ রংপুরে ফেরেন মোসলেম উদ্দিন। এসময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। রংপুরে পৌঁছে শহরের খামার মোড়ে জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সেখানে থাকা অবস্থায় জ্বর, সর্দি, ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ১৪ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিআই কর্নারে চিকিৎসা নিতে যান মোসলেম উদ্দিন।

এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার রোগের লক্ষণ ও ইতিহাস জেনে করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। ওইদিন তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৬ এপ্রিল করোনা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।পরে ২০ এপ্রিল সেখান থেকে তাকে ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

তিনি আরও জানান, ৯ দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তাকে হাসপাতাল হতে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তির সময় যেভাবে ফুল ও চিঠি দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়, সেভাবেই ছাড়পত্র দেয়ার সময়ও চিঠি ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএম নূরুন্নবীসহ কর্মরত চিকিৎসকবৃন্দ।

রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেসন হাসপাতালের প্রথম রোগী হিসেবে ভর্তি এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ায় মোসলেম উদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের সাহস, আশার সঞ্চার ও অভিজ্ঞতা কয়েকগুণ বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে।করোনা ভাইরাস সনাক্তে র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের মাধ্যমে এন্টিবডি সনাক্তে ৯৯% সফলতা পেয়েছে ইউরোপের চিকিৎসা বিজ্ঞনিরা। এরই ধারাবাহিকতায় সমস্ত ইউরোপ জুড়ে আজ এই পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।নতুন উদ্ভাবিত কিটের মাধ্যমে ১০০০ জনের মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে ব্রিটেনের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ৯৯০ জনের সঠিক ফল নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সুত্র ইন্ডিপেন্ডেন্ট, বিস্তারিত দেখুন https://www.independent.co.uk/news/health/coronavirus-antibody-test-approval-news-europe-uk-accuracy-abbot-a9490026.html

উল্লেখ্য ২০০৩ সালে সর্ব প্রথম বাংলাদেশী গবেষক ড. বিজন কুমার এন্টিবডি পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন যার পেটেন্ড তিনি চীনের কাছে বিক্রি করেন।তার নেতৃত্বেই আরো একদল অভিজ্ঞ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সমন্বয় করে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফ্রুল্লাহ এন্টিবডি ও এন্টিজেনের সমন্বয়ে আরো উন্নত একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এই কিটের মাধ্যমে কোন পরীক্ষা চালায় নি।যুক্তরাষ্ট ইউরোপ এবং ইরানে ট্রায়াল পরীক্ষার জন্য কিটের নমুনা হস্তান্তর করা হয়েছে। এই কিটের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে করনা সনাক্ত করা যাবে বলে দাবি করে আসছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ।

আরো সংবাদ

আরো পড়ুন: করোনায় বাংলাদেশে নতুন করে দরিদ্র হবে ২ কোটি মানুষ: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে মানুষের আয়ে বা ক্রয়ক্ষমতার ২০ শতাংশে করোনা আঘাত করলে নতুন করে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসবে। আর আঘাতের মাত্রা যদি ৫ শতাংশও হয়, সে ক্ষেত্রে ৪০ লাখ মানুষ তাদের আগের অবস্থান থেকে ছিটকে পড়বে।

এসব মানুষ চলে আসবে হতদরিদ্র ও দরিদ্রের তালিকায়। এতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। করোনার মহামারীতে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী নতুন করে কতজন গরিব হবে-এর একটি হিসাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার ‘ইস্টিমেটস অব দি ইমপেক্ট অব কোভিড-১৯ অন গ্লোবাল প্রভার্টি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নতুন ফমুলা ব্যবহার করে এ হিসাব বের করা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, হতদরিদ্র ও দরিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায়।

তবে করোনাভাইরাস প্রত্যেক দেশে ২০ শতাংশ আয়-রোজগার ও ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হানলে বিশ্বব্যাপী ৪২-৫৮ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবে। জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে গরিব মানুষের ঝুঁকি দু’দিকে।

দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করছে, তাদের কাজ বন্ধ। ফলে আয় কমেছে। অপরদিকে নিত্যপণ্য ও মেডিকেল সেবা মূল্য বৃদ্ধির কারণেও তাদের ওপর আঘাত আসছে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা গবেষণা বলেছে, ৩৫ শতাংশ মানুষ হতদরিদ্র হয়েছে।

ফলে এর সঙ্গে আগে ১৫ শতাংশ হতদরিদ্র যোগ করলে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এই করোনায় দরিদ্র ও হতদরিদ্র হয়েছে। তবে এটি অনুমাননির্ভর। তিনি আরও বলেন, এখনও সামনের দিনগুলো নিয়ে অনিশ্চিত। অর্থনীতি কবে সচল হবে কেউ যানে না। এটি দীর্ঘ হলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ আঘাতে দারিদ্র্যের ওপর স্বল্পসময়ের আঘাতের একটি হিসাব বের করা হয়েছে। এ হিসাবটি করা হয়েছে তিন শ্রেণির আয়ের ওপর। হিসাবে আনা হয়েছে প্রথম যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলার (১৬১ টাকা), দ্বিতীয় যাদের দৈনিক আয় ৩ দশমিক ২০ ডলার (২৭২ টাকা) এবং সর্বশেষ দৈনিক আয় ৫ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার (৪৭৬ টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা কোনো দেশের মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ আঘাত করলে যাদের আয় দৈনিক প্রায় ২ ডলারের নিচে তাদের মোট হার নতুন করে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং ৩ দশমিক ২ ডলারের নিচে আয়ের মোট জনসংখ্যার হার নতুন করে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে দৈনিক ২ ডলারের নিচে আয় করছে এমন জনগোষ্ঠী হচ্ছে ২ কোটি ৩৭ লাখ বা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এরা হতদরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু করোনার ২০ শতাংশ মানুষের আয়-রোজগার বা ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হতদরিদ্রের হার আরও ৬ শতাংশ বাড়াবে। অর্থাৎ নতুন করে আরও ৯৬ লাখ মানুষ হতদরিদ্রের তালিকায় যুক্ত হবে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে ১ দশমিক ৯০ ডলারের ওপর বা ৩ দশমিক ৮ ডলারের নিচে দৈনিক আয় করছে এমন মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লাখ (৫৫ শতাংশ)। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০ শতাংশ আয়ে আঘাত করলে এই হার ৫৫ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে উঠবে। অর্থাৎ ৭ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে নতুন করে দরিদ্র হবে আরও ১ কোটি ১২ লাখ লোক।

ফলে করোনার প্রতিঘাতে নতুন করে মোট ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র ও হতদরিদ্রের তালিকায় নাম লেখাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ২০ শতাংশ না হয়ে মাত্র ৫ শতাংশও আঘাত করে ততে হতদরিদ্র (১.৯০ ডলার) ১ শতাংশ এবং দরিদ্র (৩.২০ ডলার)

১ দশমিক ৫২ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে বাংলাদেশে হতদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নতুন করে ৪০ লাখ হবে। এর মধ্যে ১৬ লাখ হতদরিদ্র হবে এবং দরিদ্র বনে যাবে ২৪ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে পৌনে দুই কোটি মানুষ আছে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

এসব মানুষ কাজ হারিয়ে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, মুদি দোকানি, কুলি, মজুর দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করছে। তারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়।

সেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মোট জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ আয়ে করোনাভাইরাস আঘাত করলে বিপরীতে নতুন করে সাড়ে ৮ কোটি থেকে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ হতদরিদ্র হবে। যদি এটি ১০ শতাংশ আঘাত করে সে ক্ষেত্রে নতুন ১৮ কোটি থেকে ২৮ কোটি মানুষ হতদরিদ্র হবে।

সুত্র: যুগান্তর