ঢাকা, আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকায় ফিরছে শত শত গার্মেন্টকর্মী

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ২২:৪১:২১ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ২২:৪১:২১

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুট দিয়ে ফেরিতে করে পদ্মা পার হচ্ছে শত শত গার্মেন্টকর্মী। বুধবার সকাল থেকে এসব যাত্রীকে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরিতে করে শিমুলিয়া ঘাটে এসে ঢাকার উদ্দেশে বিকল্প যানবাহনে যেতে দেখা গেছে।

আজ বুধবার সকালে সরেজমিন শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শত শত যাত্রী দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকায় যাচ্ছে। এসব যাত্রীর অধিকাংশই গার্মেন্টকর্মী। তারা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিকল্প যানবাহনে করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আসছে। সেখান থেকে ফেরিতে করে শত শত যাত্রী পদ্মা পাড়ি দিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। করোনার কারণে যাত্রীবাহী পরিবহন বা বাস বন্ধ থাকায় এসব যাত্রী বিকল্প যানবাহনে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গন্তব্যে ছুটছে। এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে, আটোরিকশা, ইয়েলো ক্যাব, রেন্ট-এ-কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানসহ লোকাল নানা ধরনের যানবাহন।

মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, সকালে থেকেই ফেরিতে করে শত শত লোক আসছে শিমুলিয়া ঘাটে। তাদের অধিকাংশই গার্মেন্টকর্মী। মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ টিআই হিলাল উদ্দিন জানান, বুধবার সকাল থেকেই শত শত গার্মেন্টকর্মী দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফেরিতে পদ্মা পার হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। এখান থেকে বিকল্প যানবাহনে তারা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এদের অধিকাংশই গার্মেন্টকর্মী। তিনি আরো জানান, বর্তমানে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুটে দিনের বেলায় ৬টি ফেরি চলাচল করেছে।-কালের কণ্ঠকরোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হওয়া মক্কা-মদিনায় আবারো তাওয়াফ, নামাজ ও জিয়ারত পুনরায় চালু হবে আশ্বস্ত করেছেন কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শাইখ আব্দুর রহমান আস সুদাইসি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হারাম শরীফ পরিদর্শন শেষে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন কাবা শরিফের এ সম্মানিত ইমাম। সুদাইসি বলেন, আমি সুসংবাদ দিচ্ছি অচিরেই আমাদের দুর্দশার অবসান ঘটবে।

আমরা হারামাইনে (মক্কা-মদিনা) আবারও তাওয়াফ, সা’য়ী, নামাজ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের জিয়ারতে ফিরতে পারবো। তিনি আরো বলেন, নিশ্চয় সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় আবারো আগের মত ফিরবে।

দেশ আবারো নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ ফিরে পাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী উমরাহ বন্ধ করা হয়। এরপর স্থানীয়দের জন্যও বন্ধ করে দেওয়া হয় মক্কা মদিনা।

কাবার ইমামের এমন সুসংবাদে আশ্বস্ত হবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০,০৭৭ ও মৃতের সংখ্যা ১৫২ জন।

আরো পড়ুন-করোনায় বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসোগলু সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

মহামারি মোকাবেলায় তুরস্ক নিজ দেশে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন মেনে চলাসহ অনেক দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করে চলেছে।

এ ব্যাপারে গত ১৩ এপ্রিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ব্যাথা অনুভব করার অর্থ আপনি বেঁচে আছেন। অন্যের বেদনা অনুভব করতে পারলেই আপনি মানুষ। তিনি আরো বলেন, মহামারির এই সময়টি তিনি তার বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান। আগামীতেও তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

দেশটি প্রায় শতাধিক দেশের কাছ থেকে সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে। তুরস্ক সরকার যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনেসহ পাঁচটি মহাদেশে চিকিৎসা ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

তুরস্কের চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, কিরগিজস্তান, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, কলোম্বিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইরাক, লিবিয়া। এছাড়াও জার্মান, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, মলদোভা, আজারবাইজান, জর্জিয়া, আলবানিয়া, মন্টিনিগ্রো, বুলগেরিয়া, কোসোভো, বসনিয়া, সার্বিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করেছে।

মহামারি মোকাবেলায় আফ্রিকার ছয়টি দেশেও তুরস্কের পক্ষ থেকে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে করোনা টেস্টিং কিট, মেডিক্যাল মাস্ক, পিপিই, জীবাণুনাশক।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো তুরস্কের কাছ থেকে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স কুলগে তুরস্ককে এই মহামারিকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহু দেশকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

যুবকদের উন্নত চরিত্র গঠনে তির্কি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দারুণ অবদান রাখছে: ইমরান খানের

উসমানীয় সাম্রাজ্যের গৌরবময় উত্থানের সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

রোববার টুইটারে এক ভিডিওবার্তায় ইমরান খান বলেন, আমাদের যুবদের উন্নত চরিত্র গঠনে ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দারুণ অবদান রাখছে এবং এর মাধ্যমে তারা ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে।

ভিডিওতে ইমরান খানকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে সম্প্রচারিত দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখতে দেখা যায়। পাকিস্তানি যুবকদের জনপ্রিয় এই সিরিজ দেখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পাক প্রধানমন্ত্রী এই কৌশল অবলম্বন করেন।

এর আগে গত রোববার পিটিভি ঘোষণা দেয়, ১ রমজান থেকে তারা প্রতিদিন এক পর্ব করে দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখানো শুরু করবে এবং প্রতিটি পর্ব দৈনিক তিন বার প্রদর্শিত হবে।

পিটিভি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আমরা দিরিলিস আরতুগ্রুল সম্প্রচার শুরু করেছি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইমরান খান তুর্কি ভাষার সিরিজটিকে পিটিভিকে উর্দুতে ডাবিং করার নির্দেশ দেন এবং ওই নির্দেশনায় তিনি বলেন, সত্য ইতিহাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজ পিটিভিতে সম্প্রচার করবো, আর এর উদ্দেশ্য হল, জাতিকে ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া। কারণ, ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ ইসলামি সভ্যতা ইতিহাস ও মুসলিম বীরদের অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পেরেছে।

এছাড়া, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক মানুষ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এক মেক্সিকান দম্পতি মুসলিম হয়েছেন ।

তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মেক্সিকান দম্পতি স্বেচ্ছায় মুসলিম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাদেরকে পবিত্র কালিমা পাঠ করান ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর অন্যতম চরিত্র আব্দুর রহমানের অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা জালাল আল।

কিন্তু এর আগে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী একাধিক ফতোয়া বিভাগ দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা হারাম ফতোয়া দিয়েছে। পাকিস্তান থেকেও দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখা হারাম বলে একটি প্রখ্যাত ইফতা বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কয়েক পৃষ্ঠার বিস্তারিত ফতোয়ায় সেখানে বলা হয়, দিরিলিসে প্রচারিত সমস্ত ঘটনাই ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।

ইসলামের একটি সোনালি যুগকে এভাবে সত্যমিথ্যার মিশ্রণে উপস্থাপন প্রশংসিত হতে পারেনা। ইতিহাসপ্রেমিক মানুষদের এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য বই পড়ে জ্ঞানার্জনের আহবান জানায় ওই পাক-ইফতা বোর্ড।

পরবর্তীতে পাকিস্তানি আলেমদের এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে ফতোয়া প্রদান করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ও মিশরের দারুল ইফতা। মোটকথা, বিশ্ব ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা সম্পূর্ণ হারাম।

সূত্র: আনাদুলু, আল জাজিরা