ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

স্বপ্ন দেখে স্ব পরিবারে ইসলাম গ্রহণ করল আবদুল্লাহ!

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ২২:৩৭:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ২২:৩৭:৪৩

তিন-চার বছর আগে ইসলামের দাওয়াত পেয়েছিলেন তাবলীগের এক মুরুব্বীর কাছে। তার কাছ থেকে পাওয়া দাওয়াত ও কিছু আমলের অনুসরণ করে বিভিন্ন ধরনের স্বপ্ন দেখে অবশেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিলেন নিজের পুরো পরিবারসহ। এ কাহিনী নরসিংদী জেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের নয়নচন্দ্র বিশ্বাসের।

নয়ন চন্দ্র বিশ্বাস ওরফে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৪) নামে এই যুবক হলেন আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের নলবাটা ঝালুপাড়া গ্রামের তপনচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। নয়নের স্ত্রী শুভারাণী ময়মনসিংহ কুলিয়ারচর খাইলশা গ্রামের নিতাইচন্দ্র বর্মণ-এর মেয়ে।

জানা গেছে, গত সোমবার নয়নচন্দ্র বিশ্বাস (মোহাম্মদ আবদুল্লাহ), তার স্ত্রী শুভারাণীসহ (আমেনা বেগম) আড়াই বছরের শিশুপুত্রকে (মোহাম্মদ ইবরাহীম) নিয়ে স্বেচ্ছায় সনাতন হিন্দুধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

তিনি বর্তমানে রায়পুরা উপজেলার করিমগঞ্জ মোড় বজলু মিস্ত্রীর বাড়ীতে ভাড়া করা বাসায় বসবাস করছেন এবং হাসনাবাদ বাজারে টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকের কাজ করছেন। মুসলমান হওয়ার সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয় পরিবারের পিতা-মাতাসহ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

নও-মুসলিম আবদুল্লাহ বলেন, ৩/৪ বছর আগে বাড়ীর পাশেই ভাটিবদরপুর গ্রামের এক মুদি দোকানে মুসলিম যুবকদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় স্থানীয় মসজিদের একটি তাবলীগ দলের মুসল্লিগণ নামাজের দাওয়াতি কাজ করছে।

মুসলমান যুবকদের ডেকে আমার পাশেই নামাজের দাওয়াত দেন। সবার সাথে কথা বলা শেষে তখন আমাকে একজন ডেকে দাওয়াত দিতে চেষ্টা করেন।

নয়নচন্দ্র বলেন, এসময় আমি নিজেকে বিধর্মী বলে পরিচয় দিতেই জবাবে হুজুর বলেন, তুমি বিধর্মী বলে কি হইছে, তুমি কি মানুষ না? কিছু নিয়ম-কানুন দিলে পালন করতে পারবা? তুমি কি হাত-পা ধৌত কর? জবাবে আমি হ্যাঁ বলায় হুজুর বললেন, তাহলে রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পা ধুয়ে শুধু এটুকু বলে ঘুমাবা— হে সৃষ্টিকর্তা, তুমি আমাকে সঠিক পথ দেখাও, সঠিক ধর্ম দেখাও। ৪১ দিন এভাবে আমল করলে তুমি সঠিক রাস্তা খুঁজে পাবা।

কথামত কাজ শুরু করার ৫/৬ দিনের মাথায় স্বপ্নে গোরস্থান (বালুয়াকান্দি মাদরাসা কবরস্থান) দেখতে পাই। গোরস্থানে হুজুরকে কোরআন তেলাওয়াত করতে দেখি এবং কবরের মানুষের মাঝে আনন্দ ও নূরের আলো ঝলমল করতে দেখি।

এভাবে বহুদিন স্বপ্নে ইসলামের ভালো ভালো বিষয় দেখি— এমনটিও দেখি যে, আমি নামাজ পড়ছি। তার কিছুদিন পর আমি কুরআন শরীফ কিনে বাসায় গোপনে বাংলা অনুবাদসহ পড়তে থাকি। এভাবে গত কয়েকদিন ধরে আবার স্বপ্ন দেখি— বৃহস্পতিবার ঠিক ভোরেই ঘুম ভেঙ্গে যায়, আমি ঘুম থেকে উঠে করিমগঞ্জ মোড়ের মুদি টং দোকানদার নয়ন মিয়ার কাছে বিষয়টি খুলে বলেছি।

তারপর তিনি স্থানীয় মাদরাসার হুজুরকে নিয়ে এসে আমাকে কালেমা পড়ান এবং নরসিংদী নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরসহ ইসলামী শরীয়া মোতাবেক আমি মুসলমান হই। পরে আমার স্ত্রী— সেও আমার কথা শুনে আগ্রহী হয়। এরপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমরা মুসলমান হই। শরীয়া অনুযায়ী পুনরায় নতুনভাবে স্ত্রীকে আমার সাথে বিবাহ পড়িয়ে দেন হুজুর।

আবদুল্লাহ বলেন, তবে প্রথম আমাদের পরিবারে এ বিষয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে সবাই মেনে নিয়েছে। স্থানীয় বজলু মিস্ত্রী, সফিকুল ইসলাম ও মমতাজ উদ্দিন বলেন, আমরা এই পরিবারকে সকলেই সহযোগিতা করে যাবো ইনশাআল্লাহ!

সূত্র: নয়া দিগন্তকরোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হওয়া মক্কা-মদিনায় আবারো তাওয়াফ, নামাজ ও জিয়ারত পুনরায় চালু হবে আশ্বস্ত করেছেন কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শাইখ আব্দুর রহমান আস সুদাইসি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হারাম শরীফ পরিদর্শন শেষে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন কাবা শরিফের এ সম্মানিত ইমাম। সুদাইসি বলেন, আমি সুসংবাদ দিচ্ছি অচিরেই আমাদের দুর্দশার অবসান ঘটবে।

আমরা হারামাইনে (মক্কা-মদিনা) আবারও তাওয়াফ, সা’য়ী, নামাজ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের জিয়ারতে ফিরতে পারবো। তিনি আরো বলেন, নিশ্চয় সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় আবারো আগের মত ফিরবে।

দেশ আবারো নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ ফিরে পাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী উমরাহ বন্ধ করা হয়। এরপর স্থানীয়দের জন্যও বন্ধ করে দেওয়া হয় মক্কা মদিনা।

কাবার ইমামের এমন সুসংবাদে আশ্বস্ত হবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০,০৭৭ ও মৃতের সংখ্যা ১৫২ জন।

আরো পড়ুন-করোনায় বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসোগলু সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

মহামারি মোকাবেলায় তুরস্ক নিজ দেশে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন মেনে চলাসহ অনেক দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করে চলেছে।

এ ব্যাপারে গত ১৩ এপ্রিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ব্যাথা অনুভব করার অর্থ আপনি বেঁচে আছেন। অন্যের বেদনা অনুভব করতে পারলেই আপনি মানুষ। তিনি আরো বলেন, মহামারির এই সময়টি তিনি তার বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান। আগামীতেও তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

দেশটি প্রায় শতাধিক দেশের কাছ থেকে সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে। তুরস্ক সরকার যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনেসহ পাঁচটি মহাদেশে চিকিৎসা ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

তুরস্কের চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, কিরগিজস্তান, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, কলোম্বিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইরাক, লিবিয়া। এছাড়াও জার্মান, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, মলদোভা, আজারবাইজান, জর্জিয়া, আলবানিয়া, মন্টিনিগ্রো, বুলগেরিয়া, কোসোভো, বসনিয়া, সার্বিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করেছে।

মহামারি মোকাবেলায় আফ্রিকার ছয়টি দেশেও তুরস্কের পক্ষ থেকে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে করোনা টেস্টিং কিট, মেডিক্যাল মাস্ক, পিপিই, জীবাণুনাশক।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো তুরস্কের কাছ থেকে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স কুলগে তুরস্ককে এই মহামারিকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহু দেশকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

যুবকদের উন্নত চরিত্র গঠনে তির্কি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দারুণ অবদান রাখছে: ইমরান খানের

উসমানীয় সাম্রাজ্যের গৌরবময় উত্থানের সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

রোববার টুইটারে এক ভিডিওবার্তায় ইমরান খান বলেন, আমাদের যুবদের উন্নত চরিত্র গঠনে ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দারুণ অবদান রাখছে এবং এর মাধ্যমে তারা ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে।

ভিডিওতে ইমরান খানকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে সম্প্রচারিত দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখতে দেখা যায়। পাকিস্তানি যুবকদের জনপ্রিয় এই সিরিজ দেখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পাক প্রধানমন্ত্রী এই কৌশল অবলম্বন করেন।

এর আগে গত রোববার পিটিভি ঘোষণা দেয়, ১ রমজান থেকে তারা প্রতিদিন এক পর্ব করে দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখানো শুরু করবে এবং প্রতিটি পর্ব দৈনিক তিন বার প্রদর্শিত হবে।

পিটিভি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আমরা দিরিলিস আরতুগ্রুল সম্প্রচার শুরু করেছি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইমরান খান তুর্কি ভাষার সিরিজটিকে পিটিভিকে উর্দুতে ডাবিং করার নির্দেশ দেন এবং ওই নির্দেশনায় তিনি বলেন, সত্য ইতিহাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজ পিটিভিতে সম্প্রচার করবো, আর এর উদ্দেশ্য হল, জাতিকে ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া। কারণ, ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ ইসলামি সভ্যতা ইতিহাস ও মুসলিম বীরদের অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পেরেছে।

এছাড়া, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক মানুষ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এক মেক্সিকান দম্পতি মুসলিম হয়েছেন ।

তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মেক্সিকান দম্পতি স্বেচ্ছায় মুসলিম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাদেরকে পবিত্র কালিমা পাঠ করান ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর অন্যতম চরিত্র আব্দুর রহমানের অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা জালাল আল।

কিন্তু এর আগে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী একাধিক ফতোয়া বিভাগ দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা হারাম ফতোয়া দিয়েছে। পাকিস্তান থেকেও দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখা হারাম বলে একটি প্রখ্যাত ইফতা বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কয়েক পৃষ্ঠার বিস্তারিত ফতোয়ায় সেখানে বলা হয়, দিরিলিসে প্রচারিত সমস্ত ঘটনাই ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।

ইসলামের একটি সোনালি যুগকে এভাবে সত্যমিথ্যার মিশ্রণে উপস্থাপন প্রশংসিত হতে পারেনা। ইতিহাসপ্রেমিক মানুষদের এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য বই পড়ে জ্ঞানার্জনের আহবান জানায় ওই পাক-ইফতা বোর্ড।

পরবর্তীতে পাকিস্তানি আলেমদের এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে ফতোয়া প্রদান করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ও মিশরের দারুল ইফতা। মোটকথা, বিশ্ব ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা সম্পূর্ণ হারাম।

সূত্র: আনাদুলু, আল জাজিরা