ঢাকা, আজ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

গণস্বাস্থ্যের কাছে কিট চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ২২:২৯:৫৪ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ২২:২৯:৫৪

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট গ্রহণ করেনি দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। সেই কিট পরীক্ষা করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে। এ জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছ থেকে ৮০০ কিট চাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য ৮০০ কিট চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।

সিডিসি লিখিতভাবেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট চেয়েছে জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে কিট দেয়া হবে। কিটের কাগজপত্র বিএমআরসিকে দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেছে।

এদিকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট–সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারে (বিএমআরসি) জমা দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। কিটের সক্ষমতা কতটা, সে বিষয়ে পরীক্ষার জন্য বিএমআরসি ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

‘আইসিডিডিআরবি এই কিটের সক্ষমতা মূল্যায়ন করলে আপত্তি নেই। আইসিডিডিআরবি বা অন্য কোথাও কিটের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করাতে যে খরচ লাগবে, তা সুচিন্তা ফাউন্ডেশন বহন করবে’-বলেও জানান গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি।

মহামারীর করোনা পরীক্ষার র‌্যাপিডকিট উদ্ভাবনের কথা বহু দিন ধরেই বলে আসছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গত শনিবার কোভিড-১৯ শনাক্তের কিট সরকারের কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সংস্থাটি জানায়, তাদের উদ্ভাবিত ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ কিটের মাধ্যমে সহজে ও স্বল্পমূল্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। সেই অনুষ্ঠানে যায়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কোনো প্রতিনিধি।

পরে অধিদফতরের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, সরকার এই কিট গ্রহণ করবে না। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বেসরকারি সংস্থার কোনো কিট কোনো দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দেয়নি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের অনুমোদন নিয়ে কয়েক দিন ধরে সরকার ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টানাপড়েন চলছে। তারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলনও করেছে।

আরো সংবাদ

মায়ের মৃত্যু শোক নিয়ে ৪ দিন পর ইরফানও চলে গেলেন

দীর্ঘ লড়াইয়ের হার মেনে মায়ের মৃত্যু শোক সাথে নিয়ে চলে গেলেন জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান। গত সপ্তাহেই ইন্তেকাল করেন ইরফানের মা সাইদা বেগম। করোনা পরিস্থিতিতে গোটা ভারতজুড়ে লকডাউনের কারণে জয়পুরে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেননি এ অভিনেতা। সে শোক তার ছিল।

রাজস্থানের টঙ্ক নবাব পরিবারের বংশধর ছিলেন ইরফানের মা। অনেক দিন থেকেই বার্ধক্যজনিত কারণে নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ভারতের জয়পুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইরফান খানের মা। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

মায়ের মৃত্যুর ৩ দিন পরই মঙ্গলবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ইরফান খান। আজ বুধবার দুপুরে মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে মারাই গেছেন এই শক্তিমান অভিনেতা।

আরও দেখুন: ইরফান খানের সেরা পাঁচ সিনেমা

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে নিউরোঅ্যান্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে ইরফানের। এরপর এক বছর বিদেশে থেকে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। মার্চ মাসে মুক্তি পায় ইরফানের ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমা। এই সিনেমাটি নিয়ে বেশ আবেগআপ্লুত ছিলেন ইরফান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এর প্রচারণা অংশ নিতে পারেননি তিনি।

মুক্তি পেলেও করোনার কবলে কয়েক দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় এই ছবির প্রদর্শন।করোনায় সংকটে নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিস্ট নেটওয়ার্ক নামের অর্থনীতিবিদদের একটি সংগঠন।

সেখানে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সাতটি ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। যে সাতটি ক্ষেত্র বা সূচক বিবেচনায় নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ১) স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর পদক্ষেপ।

২) অসুস্থতাকালীন ছুটির সময় পর্যাপ্ত ভাতা ও সুবিধা। ৩) চাকরিচ্যুতি ঠেকানো এবং বেকার মানুষকে সহায়তা দেয়া। ৪) বয়স্ক, বেঁচে ফেরা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালু করা। ৫) নাগরিকদের আয়-সহায়তা বাড়ানো। ৬) পরিবারকে সেবা দেয়ার জন্য ছুটি বা অন্য সুবিধার নীতি। ৭) কর এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারি এই ভাইরাসটির মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে ফিলিপাইন, ইরান ও থাইল্যান্ড। তারা মোটামুটি সবগুলো ব্যবস্থাই নিয়েছে। এরপরই রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। তারা মোট ছয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

আর জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারত এই দেশগুলো পাঁচ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা চারটি এবং নেপাল ও পাকিস্তান তিনটি করে পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম ভাইরাসটির মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে সেখানে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। আর মিয়ানমারও বাংলাদেশের মতোই কম পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে এই দুটি দেশে তৈরি পোশাকের বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ শ্রমশক্তির জোগান দিচ্ছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দেশগুলো।

এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা শক্তিশালী থাকায় করোনা মোকাবেলার সামর্থ্য চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষাকৃত বেশি। তবে মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম থাকায় বাংলাদেশ, নেপাল ও অন্য রাষ্ট্রগুলোর সামর্থ্য কিছুটা কম।

স্ত্রী করোনায় মৃত শুনে অক্সিজেন মাস্ক পরলেন না স্বামী, একদিনেই দুইজনের মৃত্যু

১৯৫০ এর দশক থেকে দাম্পত্য জীবন চলছিল তাদের। দীর্ঘ ৬৩ বছর একসঙ্গে কাটানোর পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন উভয়ে। এরপর বয়স্ক স্বামী জানতে পারেন, করোনা তার ৮৩ বছর বয়সী সঙ্গীনী মেরি’র প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

এই খবরে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন ৯০ বছর বয়সী বিল ডর্টনাল যে, নিজের অক্সিজেন মাস্ক পরে থাকতে অস্বীকৃতি জানান।
জানা গেছে, তারা দু’জনেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দু’জনে একই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দায়িত্ব পালন করেছেন বিল ডর্টনাল। মিলব্রুক এলাকায় সপরিবারে বাস করতেন।

প্রথমে স্ত্রী মেরি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর বিল ডর্টনাল স্ট্রোক করে ওই হাসপাতালে ভর্তির পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হন।
জানা গেছে, শুরুতে উভয়েই ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছিলেন। মেরিকে হাসপাতালে ভর্তির পরেও অবস্থান উন্নতি ঘটেনি। দিনকয়েকের মধ্যেই তিনি মারা যান। এ খবর পেয়ে ওইদিনই অক্সিজেন মাস্ক পরতে আর রাজি হননি তার স্বামী। পরে একইদিনে তারও মৃত্যু হয়।

সূত্র : ডেইলি ইকো