ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ: জাতিসংঘ

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ২২:১২:০৬ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ২২:১২:০৬

করোনায় সংকটে নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিস্ট নেটওয়ার্ক নামের অর্থনীতিবিদদের একটি সংগঠন।

সেখানে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সাতটি ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। যে সাতটি ক্ষেত্র বা সূচক বিবেচনায় নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ১) স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর পদক্ষেপ।

২) অসুস্থতাকালীন ছুটির সময় পর্যাপ্ত ভাতা ও সুবিধা। ৩) চাকরিচ্যুতি ঠেকানো এবং বেকার মানুষকে সহায়তা দেয়া। ৪) বয়স্ক, বেঁচে ফেরা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালু করা। ৫) নাগরিকদের আয়-সহায়তা বাড়ানো। ৬) পরিবারকে সেবা দেয়ার জন্য ছুটি বা অন্য সুবিধার নীতি। ৭) কর এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারি এই ভাইরাসটির মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে ফিলিপাইন, ইরান ও থাইল্যান্ড। তারা মোটামুটি সবগুলো ব্যবস্থাই নিয়েছে। এরপরই রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। তারা মোট ছয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

আর জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারত এই দেশগুলো পাঁচ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা চারটি এবং নেপাল ও পাকিস্তান তিনটি করে পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম ভাইরাসটির মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে সেখানে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। আর মিয়ানমারও বাংলাদেশের মতোই কম পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে এই দুটি দেশে তৈরি পোশাকের বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ শ্রমশক্তির জোগান দিচ্ছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দেশগুলো।

এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা শক্তিশালী থাকায় করোনা মোকাবেলার সামর্থ্য চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষাকৃত বেশি। তবে মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম থাকায় বাংলাদেশ, নেপাল ও অন্য রাষ্ট্রগুলোর সামর্থ্য কিছুটা কম।

স্ত্রী করোনায় মৃত শুনে অক্সিজেন মাস্ক পরলেন না স্বামী, একদিনেই দুইজনের মৃত্যু

১৯৫০ এর দশক থেকে দাম্পত্য জীবন চলছিল তাদের। দীর্ঘ ৬৩ বছর একসঙ্গে কাটানোর পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন উভয়ে। এরপর বয়স্ক স্বামী জানতে পারেন, করোনা তার ৮৩ বছর বয়সী সঙ্গীনী মেরি’র প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

এই খবরে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন ৯০ বছর বয়সী বিল ডর্টনাল যে, নিজের অক্সিজেন মাস্ক পরে থাকতে অস্বীকৃতি জানান।
জানা গেছে, তারা দু’জনেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দু’জনে একই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দায়িত্ব পালন করেছেন বিল ডর্টনাল। মিলব্রুক এলাকায় সপরিবারে বাস করতেন।

প্রথমে স্ত্রী মেরি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর বিল ডর্টনাল স্ট্রোক করে ওই হাসপাতালে ভর্তির পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হন।
জানা গেছে, শুরুতে উভয়েই ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছিলেন। মেরিকে হাসপাতালে ভর্তির পরেও অবস্থান উন্নতি ঘটেনি। দিনকয়েকের মধ্যেই তিনি মারা যান। এ খবর পেয়ে ওইদিনই অক্সিজেন মাস্ক পরতে আর রাজি হননি তার স্বামী। পরে একইদিনে তারও মৃত্যু হয়।

সূত্র : ডেইলি ইকোকরোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেই মুসল্লিদের জন্য গাজীপুর মহানগরের মসজিদগুলোখুলে দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন- তা থেকে সরে এসেছেন মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মেয়র সরকারি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মেনে সীমিত পরিসরে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য নগরীর মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার তিনি নগরীর মসজিদগুলো সব মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বুধবার বিকালে মেয়র জাহাঙ্গীর নগরীর বোর্ড বাজারে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এক ভিডিও বার্তায় পূর্বের অবস্থান থেকে সরে মুসল্লিদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতি মেনে যে লকডাউন দেয়া হয়েছে- তা শতভাগ মেনে চলছি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদে সীমিত আকারে লোক নিয়ে নামাজ আদায় করার জন্য। আমরা যেন তা শতভাগ মেনে চলি।

তিনি বলেন, গাজীপুরে কোন জায়গায়, কী অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আছে এখনো আমরা এটা শতভাগ নিশ্চিত নই। সে হিসেবে আমরা প্রত্যেক এলাকায় যাচাই-বাচাই ও খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এখানে ভাসমান অনেক লোক আছে এবং বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বাইরে থেকে এসে এখানে কাজ করছে।

আমরা সুনিশ্চিত হতে পারছি না আমাদের মহল্লাভিত্তিক, ওয়ার্ড ও থানাভিত্তিক কোথায় এ ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা কত। মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে যেভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা যেন সেভাবে মসজিদভিত্তিক ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেটা মেনে চলি।

প্রয়োজনে আপাতত আমরা ঘরেই নামাজ আদায় করি। এ করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত আছি। আমাদের সন্তানরা, আমাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আমাদের নগরের প্রত্যেক নাগরিকদের জীবনের কথা চিন্তা করে আমি সবাইকে অনুরোধ করব,

যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা যেন আমরা শতভাগ মেনে চলি। তিনি বলেন, মহানগরীর প্রত্যেকটা নাগরিককে অনুরোধ করব- ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা অনুসরণ করে মসজিদে আপনারা সীমিত আকারে মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করবেন।

সরকার যখন, যে সময় দিকনির্দেশনা দেবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে দিকনির্দেশনা দেবে সেটা আমরা মেনে চলব। আমরা আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে মাফ করে দেন।

করোনাভাইরাস থেকে আমরা যেন মুক্ত হতে পারি সবাই যেন সবাইকে সহযোগিতা করি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নিয়মগুলো যেন শতভাগ মেনে চলি।
আরো পড়ুন-করোনায় বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসোগলু সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

মহামারি মোকাবেলায় তুরস্ক নিজ দেশে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন মেনে চলাসহ অনেক দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করে চলেছে।

এ ব্যাপারে গত ১৩ এপ্রিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ব্যাথা অনুভব করার অর্থ আপনি বেঁচে আছেন। অন্যের বেদনা অনুভব করতে পারলেই আপনি মানুষ। তিনি আরো বলেন, মহামারির এই সময়টি তিনি তার বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান। আগামীতেও তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

দেশটি প্রায় শতাধিক দেশের কাছ থেকে সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে। তুরস্ক সরকার যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনেসহ পাঁচটি মহাদেশে চিকিৎসা ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

তুরস্কের চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, কিরগিজস্তান, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, কলোম্বিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইরাক, লিবিয়া। এছাড়াও জার্মান, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, মলদোভা, আজারবাইজান, জর্জিয়া, আলবানিয়া, মন্টিনিগ্রো, বুলগেরিয়া, কোসোভো, বসনিয়া, সার্বিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করেছে।

মহামারি মোকাবেলায় আফ্রিকার ছয়টি দেশেও তুরস্কের পক্ষ থেকে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে করোনা টেস্টিং কিট, মেডিক্যাল মাস্ক, পিপিই, জীবাণুনাশক।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো তুরস্কের কাছ থেকে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স কুলগে তুরস্ককে এই মহামারিকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহু দেশকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি