ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

ওষুধ কিনতে গিয়ে ফার্মেসিতেই ছটফট করে মৃত্যু

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ২২:০৮:০০ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ২২:০৮:০০

রাজধানীর ভাটারা থানার নতুন বাজার এলাকায় ওষুধ কিনতে গিয়ে ফার্মেসিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এক ব্যক্তি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই ফার্মেসিতে ঢুকে ওষুধ কেনার সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকেন তিনি। এ সময় ফার্মেসিতে উপস্থিত লোকজন তাকে পানি পান করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। লাশও পড়ে থাকে কিছু সময়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি ইউনাইটেড সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মচারী আবদুর রশীদ (৪৫) বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর
ঢাকার বাইরে থাকা শ্রমিকদের বেতন পৌছে দেয়া হবে: বিজিএমইএ
শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে ঢাকায় ফিরছেন শত শত গার্মেন্টসকর্মী
আজও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামু‌খীদের ঢল
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আবদুর রশীদ নিজের জন্যই ওষুধ কিনতে ওই ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন বলে দোকানের ওষুধ বিক্রেতা জানিয়েছেন। একজন চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবদুর রশীদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করা এবং তা পরীক্ষা করাসহ অন্যান্য কাজগুলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

আরেক এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ভাটারা থানার নতুন বাজার ১৬০ ফিট রাস্তার বিগ ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ওষুধ কিনতে আসেন ওই ব্যক্তি। ওষুধ নেওয়ার জন্য দোকানের কাউন্টারের সামনে দাঁড়ান। তবে ওষুধ কেনার আগেই দোকানের সামনে লোকটি ছটফট করতে থাকেন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাসপাতাল নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে কোথাও নেওয়ার আগেই প্রাণ হারান তিনি।

আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত প্রথম পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আবদুর রশীদ হার্টের রোগী ছিলেন। সকালে মোহাম্মদপুরে চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এসে তিনি নতুন বাজারের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান। সেখানে বিক্রেতাকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ওষুধের দাম জিজ্ঞেস করেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাৎক্ষণিক তার মৃত্যু হয়।’

ওই ফার্মেসি থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ আবদুর রশীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ওসি আরও জানান, আওছাবুর রহমান নামে মৃত ব্যক্তির একজন সহকর্মী জানিয়েছেন যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ গত এক বছর ধরে রাজধানীতে নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজ করে আসছিলেন।

এদিকে ফার্মেসিতে আবদুর রশীদের পড়ে থাকা লাশের ছবি মুহূর্তে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

আরো সংবাদ

মসজিদ খোলার বিষয়ে মেয়রের ঘোষণা প্রত্যাহার না হলে কড়া ব্যবস্থা: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মসজিদে গিয়ে নামাজ না আদায় করতে বলেছে সরকার। এ ব্যপারে সরকার কিছু নির্দেশনাও দিয়ে দেয়।

কিন্তু গতকাল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সিটির মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে কোনো বাধা থাকবে না বলে ঘোষণা দেন।

সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে মেয়য়ের এমন ঘোষণায় আজ বুধবার বিকালে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ ঘোষণা প্রত্যাহার করা না হলে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, তার (মেয়রের) এমন ঘোষণাকে আমরা চরম বিরোধী হিসেবে দেখছি। অত্যন্ত কঠিনভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি আমরা। তাকে বার্তা দেয়া হয়েছে, অতি অল্প সময়ের মধ্যে ওই ঘোষণা প্রত্যাহার করে সরকার যেভাবে চায় সেভাবে ঘোষণা দিতে। মনে হয় সেটা তিনি দিচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলসহ স্থানীয় সব নেতা মেয়রের এই ঘোষণার বিপক্ষে। স্থানীয়ভাবে মাইকিং হচ্ছে, এমন ঘোষণা দেয়ার কোনো এখতিয়ার মেয়রের নেই, এই ঘোষণায় কান দেবেন না।

শেখ আবদুল্লাহ আরও বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর তার ঘোষণা প্রত্যাহারে কিছুটা সময় চেয়েছেন। সেই সময় পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি। প্রত্যাহার না করলে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজার আঞ্চলিক অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তায় মেয়র মুসল্লিদের জন্য মসজিদ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর জেলা এই দুটি এলাকাকে নিয়েই গাজীপুর বলা হয়। সেজন্য আমরা বলছি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে করোনা পজিটিভের সংখ্যা অনেক এলাকার চেয়ে কম বলে আমরা মনে করি। এটা আমরা নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছি। সেজন্য আমরা মনে করি যেহেতু গার্মেন্ট চালু করে দিয়েছে বিজিএমইএ, সেহেতু আমাদের যেসব ওয়ার্ডে কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নেই সেগুলোতে আগামী শুক্রবার থেকে মসজিদভিত্তিক মানুষ তারাবিসহ জুমার নামাজ পড়তে পারবেন।

যেহুতো গার্মেন্টস চালু হয়েছে। সেহুতো আল্লাহ্‌র ঘর মসজিদ চালু থাকা দরকার। ঈমানদার মানুষ যারা আছেন তারা সকলেই নামাজ পড়েন। আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করা আমাদের প্রয়োজন, আল্লাহ্‌ই আমাদের হেফাজত করবেন।

এখন রমজান মাস। তাই এসব এলাকায় মুসল্লিরা যাতে মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন সেজন্য আমরা সিটি করপোরেশন থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। সবাই যেন আল্লাহ্‌র কাছে চাই করোনা ভাইরাস থেকে গাজীপুরসহ সারাদেশ এবং বিশ্ববাসী যেন নিরাপদে থাকে।