ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

গার্মেন্টস খোলার পরদিনই নারায়ণগঞ্জে বাড়ল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ১০:১৫:২৮ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ১০:১৫:২৮

নারায়ণগঞ্জে একদিনে করোনাভাইরাসে সর্বোচ্চ ৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন ৷ গত ২৪ ঘণ্টায় এ ৮৪ জন আক্রান্ত হন। গার্মেন্টস খোলার পরদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট ৭৪২ জন।

তবে নতুন করে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি৷ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মারা গেছেন ৪২ জন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৫৮ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৮ জন। পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৪ জন। অন্যদিকে সদর উপজেলায় মারা গেছেন ১০ জন ও আক্রান্ত ১৮৬ জন।

বন্দর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ ও মারা গেছেন একজন। আড়াইহাজার উপজেলায় আক্রান্ত ১৬, সোনারগাঁয়ে ১৬ ও মারা গেছেন দুজন এবং রূপগঞ্জে মারা গেছেন একজন ও আক্রান্ত ১০ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬০ জনের। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৩০ জন।

এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকার ১৮ জন, সদর উপজেলার আট, রূপগঞ্জে এক এবং আড়াইহাজারের তিনজন। নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত ৭৪২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৪ জন আক্রান্ত হন।

আরো পড়ুন-করোনায় বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসোগলু সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

মহামারি মোকাবেলায় তুরস্ক নিজ দেশে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন মেনে চলাসহ অনেক দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করে চলেছে।

এ ব্যাপারে গত ১৩ এপ্রিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ব্যাথা অনুভব করার অর্থ আপনি বেঁচে আছেন। অন্যের বেদনা অনুভব করতে পারলেই আপনি মানুষ। তিনি আরো বলেন, মহামারির এই সময়টি তিনি তার বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান। আগামীতেও তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

দেশটি প্রায় শতাধিক দেশের কাছ থেকে সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে। তুরস্ক সরকার যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনেসহ পাঁচটি মহাদেশে চিকিৎসা ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

তুরস্কের চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, কিরগিজস্তান, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, কলোম্বিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইরাক, লিবিয়া। এছাড়াও জার্মান, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, মলদোভা, আজারবাইজান, জর্জিয়া, আলবানিয়া, মন্টিনিগ্রো, বুলগেরিয়া, কোসোভো, বসনিয়া, সার্বিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করেছে।

মহামারি মোকাবেলায় আফ্রিকার ছয়টি দেশেও তুরস্কের পক্ষ থেকে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে করোনা টেস্টিং কিট, মেডিক্যাল মাস্ক, পিপিই, জীবাণুনাশক।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো তুরস্কের কাছ থেকে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স কুলগে তুরস্ককে এই মহামারিকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহু দেশকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি