ঢাকা, আজ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভারতে করোনা আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসছেন তাবলীগ জামাতের সদস্যরা

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ১০:১৩:১০ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ১০:১৩:১০

দিল্লিতে তাবলীগ জামাতে যোগ দেওয়ার পরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, এরকম কয়েকজন সুস্থ হয়ে ওঠার পরে এগিয়ে এসেছেন নিজের রক্ত দান করতে। সেই রক্ত থেকে প্লাজমা নিষ্কাশন করে তা দেওয়া হবে করোনা সংক্রমিত রোগীদের শরীরে।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা প্রয়োগ করে গত সপ্তাহেই সাফল্য এসেছে। তারপরেই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা সুস্থ তাবলীগ সদস্যরা প্লাজমা দিতে এগিয়ে এসেছেন।

অথচ কিছুদিন আগেও সারা দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য তাদেরই দায়ী করা হচ্ছিল। করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেই অ্যান্টিবডি রক্তের প্লাজমা ট্রান্সফিউশনের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে ঢুকিয়ে তাদের চিকিৎসা করা হচ্ছে ভারতে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠে প্লাজমা দান করা এরকমই একজন তামিলনাডুর দিন্ডিগালের যুবক আনাস সৈয়দ। দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র তিনি। পরীক্ষার শেষে ছুটি পড়েছিল মার্চ মাসে।

দিল্লি হয়ে বাড়ি ফেরার ট্রেনের টিকিট কাটা ছিল আগেই। ট্রেন ছাড়ার একদিন আগেই পৌঁছেছিলেন দিল্লি। রাতটা থেকে গিয়েছিলেন নিজামুদ্দিনে। কিন্তু সেই ট্রেনে চড়ে বাড়ি যাওয়া হয়নি তার – হঠাৎই শুরু হয়ে যায় লকডাউন।

আরও বহু মানুষের সঙ্গে নিজামুদ্দিন মারকাজেই থেকে যেতে হয় আনাস সৈয়দকে। এরপরে তার শরীরে ধরা পড়ে করোনা সংক্রমণ। আইসোলেশনে ২১ দিন থাকার পরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। লালারস পরীক্ষা দুবার নেগেটিভ এসেছে।

‘কয়েকদিন আগে চিকিৎসকরা প্লাজমা দান করার প্রস্তাব দেন। তারা বলেন যে অন্য রোগীদের সুস্থ করে তোলা যাবে প্লাজমা দিয়ে। কোয়ারেন্টিনে থাকা অন্য তাবলীগ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করি আমি।

আবার তাবলীগ প্রধান মৌলানা সাদ কান্দলভিও হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা দেন যে আমরা নিজের ইচ্ছায় প্লাজমা দিতেই পারি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই যে আমি প্লাজমা দেব,’ দিল্লির সুলতানপুরী এলাকার একটি করোনা কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. সৈয়দ।

গত রোববার তার এবং আরও কয়েকজনের রক্ত নেওয়া হয় – যা থেকে প্লাজমা পৃথক করা হয়। করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য তাবলীগ সদস্যদের যে বদনাম করা হচ্ছিল, এখন আনাস সৈয়দের মনে হচ্ছে প্লাজমা দান করার মাধ্যমে আল্লাহ সেই বদনাম দূর করে দিলেন।

মি. সৈয়দ রোজা রাখছেন। সন্ধ্যায় ইফতারের পরেই তাদের কোয়ারেন্টিন সেন্টারেই শুরু হচ্ছে দুই বা তিনজন সুস্থ হয়ে ওঠা তাবলীগ সদস্যর রক্ত থেকে প্লাজমা নিষ্কাশন।

তাবলীগ ঘনিষ্ট এক চিকিৎসক ডাক্তার শোয়েব আলি বলেছেন যে তিন থেকে চারশো তাবলীগ সদস্য প্লাজমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে তার ধারণা। রোববার প্রথম দিনেই আনাস সৈয়দের সঙ্গেই প্লাজমা দিয়েছেন তাবলীগের আরেক সদস্য ফারুক বাশা।

তিনিও তামিলনাডুর বাসিন্দা – চেন্নাই থেকে দিল্লি এসেছিলেন তাবলীগ জামাতের সমাবেশে যোগ দিতে। তারপরে ফিরতে পারেননি আরও অনেকের মতোই। তিনিও দিল্লির সুলতানপুরীতেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

মি. বাশা বলছেন, তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, রক্ত দিতে ইচ্ছুক কি না।

‘প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারিনি। তারপরে বুঝিয়ে বলা হয় যে প্লাজমা নিষ্কাশন করে তা অন্য করোনা সংক্রমিতের শরীরে দেওয়া হবে, যাতে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। আরও অনেকের মতো আমিও প্লাজমা দিতে রাজি হয়ে যাই। যদি ভাইরাস আক্রান্ত কেউ সেই প্লাজমা দিলে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে তো ভালই,’ বলছেন মি. বাশা।

রোববার তাদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারেই যন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন ডাক্তারদের দল। সেখানেই তার রক্ত থেকে প্লাজমা নেওয়া হয়।

মি. বাশা বলছিলেন একটা সময়ে তাদের বদনাম করেছেন অনেকে যে, তাবলীগ সদস্যদের জন্যই সারা ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এখন তাদের প্লাজমা দিয়েই অসুস্থ ব্যক্তিদের সুস্থ করে তোলার মাধ্যমে সেই দুর্নাম ঘোচানোর সুযোগ পেয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভারতের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার পিছনে তাবলীগ জামাতের সদস্যদের ওপরে দায় চাপানো হচ্ছিল মূলস্রোতের গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে। সেই ধারণা ছড়িয়ে পড়ার পিছনে মুসলমান বিদ্বেষও কাজ করেছিল বলে মনে করেন অনেকে – কারণ যারা তাবলীগকে দোষ দিচ্ছিলেন, তাদের অনেকেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সমর্থক।

ফেসবুকে খুবই সক্রিয় এক বিজেপি নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলছিলেন তাবলীগ সদস্যরা যেভাবে প্লাজমা দান করছেন, তা ইতিবাচক।

‘তারা এখন প্লাজমা দিতে এগিয়ে এসেছেন, এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ঘটনা। এবং আমার মনে হয় তাবলীগ সদস্যরা যেমন ধর্ম প্রচার করেন, এখন থেকে তার পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও যদি তারা দেন, তাহলে মানবসভ্যতার পক্ষে তা উপকারী হবে,’ বলছেন মি. সেনগুপ্ত।

তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করলেন,‘প্রায়শ্চিত্ত বলে একটা কথা আছে এবং তার মাধ্যমেই মানুষের নতুন করে জন্ম হয়। এতদিন তাদের শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ করে রাখা হয়েছিল। করোনা তাদের ভারতবাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করল।’

করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের প্লাজমা সংক্রমিতর দেহে প্রবেশ করিয়ে দিল্লিতে সাফল্য পাওয়া গেছে। তারপরে মুম্বাইতেও শুরু হয়েছে প্লাজমা নেওয়া। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্লাজমা চিকিৎসার সাফল্য তুলে ধরেছেন। যদিও এই চিকিৎসা এখনও ক্লিনিকাল ট্রায়ালের পর্যায়তেই আছে। তবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ প্লাজমা চিকিৎসা নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি। সূত্র : বিবিসিআটার প্যাকেট গোপনে ১৫ হাজার টাকা করে দান করলেন আমির খান

১৫ হাজার টাকা করে দান- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভা’ই’রাল হয়েছে। এতে বলিউড অ’ভিনেতা আমির খানের ছবিসহ লেখা হয়েছে, ‘আমির খানের আজব দান।

আমির খান এক গাড়ি ভর্তি করে পাশের বস্তিগুলোতে আটার প্যাকেট পাঠালেন। উনার ছে’লেরা সেখানে গিয়ে মাইকে ঘোষণা করলো যাদের যাদের আটার দরকার আছে তারা এসে আটা নিয়ে যেতে পারেন।

কিন্তু প্রতিটি ব্যক্তিকে মাত্র এক কিলো আটা দেয়া হবে। যাদের ঘরে মোটামুটি খাবার ছিল তারা কেউই গেল না মাত্র এক কিলো আটা আনার জন্য।

কিন্তু যাদের কাছে সেই এক কিলো আটা ওই মুহূর্তে খুব জরুরি অর্থাৎ যারা সত্যিই খুব গরিব তারা এসে হাজির হলেন এবং একটা করে আটার প্যাকেট নিয়ে গেলেন। সকালে আটার প্যাকেট খুলতেই আটার সাথে বেরিয়ে এলো নগদ ১৫ হাজার টাকা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল ওই ট্রাক আমির খান পাঠিয়েছিলেন। অশেষ ধন্যবাদ আমির।’

করো’নাভাই’রাসের কার’ণে সৃষ্ট দু’র্যোগ মোকাবিলায় ভা’রতের বলিউড ও অন্য ইন্ডাস্ট্রির তারকারা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। যে যা পারছেন বিভিন্ন ফান্ডে অনুদান দিচ্ছেন।

বক্স অফিস বিশ্লেষক তরন আদর্শ জানিয়েছেন, ভা’রতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পিএম কেয়ারস ফান্ড, মহারাষ্ট্র মূখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড, ফিল্ম ওয়ার্কাস অ্যাসোসিয়েশন ও কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় সাহায্য করেছেন আমির।

শুধু তাই নয়, তার পরবর্তী সিনেমা ‘লাল সিং চাড্ডা’র দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে কাজ করা কর্মীদের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন এই অ’ভিনেতা।

আরো পড়ুন: রমজানে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করুন: প্রধানমন্ত্রী

রমজানের সংযম ও পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পবিত্র এই মাসে জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ, ধৈর্য্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ঘরে অবস্থান করে যিকির-আজকার, নফল ইবাদত ও বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াতের আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান। তিনি বলেন, আসুন, পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, উচ্ছৃঙ্খলতা ও সংঘাত পরিহার করি এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি।

জীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ, ধৈর্য্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি। পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রমজান আত্মসংযম, অনুকম্প ও ক্ষমা লাভের মাস।

পবিত্র এ মাসে ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও মহান নৈকট্যলাভের সুযোগ হয়। বর্তমান করোনা সংকটে সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ নিজ নিজ বাসায় বসে আদায় করুন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোজা রেখে ঘরে অবস্থান করি এবং বেশি বেশি করে কোরআন শরীফ তেলওয়াত করি। পাশপাশি যিকির ও নফল এবাদতের পরিমাণ বাড়াই। সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, যাতে তিনি দেশ ও জাতি তথা গোট বিশ্বকে এই মহামারি থেকে মুক্ত করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের জাতীয় জীবনে পবিত্র রমজানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। আমিন।’

আরো পড়ুন: এবার ভিন্ন এক রমজানের অপেক্ষায় বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম !

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলমানের পবিত্রতম রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে, কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের যে ধরণের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোজা পালন করতে হবে, তার নজীর ইতিহাসে বিরল।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলিমরা এবার প্রথামত আত্মীয়-পরিজন-প্রতিবেশিদের নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতারি করতে পারবেন না এবং রাতে দল বেঁধে মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন না।

‘এমন এক পরিস্থতি অতীতে কখনো হয়েছে – আমার জানা নেই,’ ন্যাশনাল ইউনিভার্টি অব মালয়েশিয়ার গবেষক ফাইজাল মুসাকে উদ্ধৃত করে বলছে আল জাজিরা। ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গেছে, অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, কিন্তু অতীতের কোনো লেখালেখিতে বা সাহিত্যে বর্তমান পরিস্থিতির মত কিছু পাওয়া যায়না।

যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়েও মুসলমানরা রমজানের সময় একসাথে হয়ে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছে।’ ব্রিটেনে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় সংগঠন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এক বিবৃতিতে বলেছে,‘এবারের রমজান হবে মুসলমানদের জন্য একদম ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা,

এবং পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সাথে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’ সন্দেহ নেই এবারের রমাজন মাস হয়তো মুসলিম ইতিহাসে একেবারে ভিন্ন, ব্যাতিক্রমী ঘটনা হিসাবে জায়গা পাবে। মক্কা ও মদিনার মসজিদে তারাবি ধর্মীয় আচার পালনে দিক-নির্দেশনার জন্য মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যে দেশটির দিকে তাকিয়ে থাকে,

সেই সৌদি আরব আজ (বুধবার) রমজান উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ কিছু শিথিল করেছে। সৌদি বাদশাহ মক্কা ও মদিনায় মুসলমানদের দুই পবিত্রতম মসজিদে তারাবি নামাজের অনুমতি দিয়েছে বলে রিয়াদ থেকে রয়টরস বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। তবে সাধারণ নামাজিরা যেতে পারবেন না।

এছাড়া, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে জারী করা কারফিউ সকাল ৯টা থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত কিছুটা শিথিল থাকবে। তবে বিশ্বের বহু মুসলিশ দেশে সেই ছাড়টুকুও দেয়া হচ্ছে না। মিশরে রমজান মাসে জামাতে নামাজসহ যে কোন ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। ইরানে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই রমজান মাসে জনগণকে জামাতে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেরুজালেমে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ আল আকসাতেও রমজানে নামাজ হবে না শুধু দিনে পাঁচবার আজান হবে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সিঙ্গাপুর, ব্রুনেইতেও এখন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ওপর যে বিধিনিষেধ চলছে, রমজান মাসে তার কোনো ব্যাতিক্রম হবেনা।

যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া এখন বন্ধ, এবং রমজান মাসে তার কোনো ব্যাতিক্রম এবার হবে – কোনো ইঙ্গিত নেই। ব্রিটেনে মসজিদগুলো রোজার সময় নামাজ, দোয়া-দরুদ, খুতবা ভিডিওতে লাইভ-স্ট্রিমিং করবে।

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন রমজান উপলেক্ষে জন্য যে পরামর্শ জারী করেছে তাতে বলা হয়েছে – জামাতে নামাজ হবে না, মসজিদের গিয়ে তারাবি হবে না, এবং কোনো ইফতার পার্টি করা যাবে না। পাকিস্তান কিছুটা ব্যাতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে।

সেদেশে রোজার সময় তারাবি নামাজ অনুমোদন করা হয়েছে, তবে শর্ত দেয়া হয়েছে নামজিদের একজনের সাথে আরেকজনের ছয় ফুট ব্যবধান রাখতে হবে। বাংলাদেশে রমজান মাসে সামাজিক দূরত্ব শিথিল করা হবে কিনা, মসজিদে গিয়ে তারাবি নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে কিনা- তা এখনও নিশ্চিত নয়। এবারের ঈদও কি ভিন্ন হবে?

রোজার শেষে মুসলমানরা কি এবার তাদের সেবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর প্রথাগতভাবে উদযাপন করতে পারবে? এখনও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের যে গতি-প্রকৃতি তাতে ঈদ উদযাপন কেমন হবে – তা নিয়েও বিস্তর সন্দেহ রয়েছে।

সৌদি গ্রান্ড মুফতি পাঁচদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবারের ঈদের নামাজও ঘরে বসে পড়তে হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় ঈদের আগে শহর থেকে যে লাখ লাখ মানুষ তাদের গ্রামে যায়, তা এবার নিষিদ্ধ থাকবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও তার দেশে একই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাছাড়া, পুরো রমজান মাস ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রাস্তায় যে মেলা হয়, তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম পালনে, বিশেষ করে রোজা বা ঈদে, এ ধরনের সামজিক বিচ্ছিন্নতা ইসলামের ঐতীহ্যের একেবারে পরিপন্থী।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমকে এবার আপস করতে হচ্ছে। রমজানের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ব্রিটেন

ইসলাম গ্রহন করলেন বাবরি মসজিদ ভাঙতে প্রথম শাবল চালানো শিবসেনা কর্মী বলবীর সিং

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসে নেতৃত্বদানকারী শিবসেনা কর্মী বলবীর সিং ইসলাম গ্রহণ করে এখন মুহম্মদ আমীর। তিনি তার কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করতে সংস্কার কর চলেছেন একের পর এক মসজিদ। দুই যুগ আগে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের গম্বুজে উঠে শাবলের ঘা মারা শিবসেনার সক্রিয় কর্মী বলবীর সিং এখন মোহাম্মদ আমির।

আল্লার নাম জপেন সব সময়। ভোরে আজান দেন। লম্বা দাড়ি রেখে তিনি এখন পুরো দস্তুর মৌলভি। প্রায়শ্চিত্ত করতে ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদ সংস্কার করতে চান তিনি। এক সময় শিবসেনার সক্রিয় কর্মী বলবীর সিংহ বাবরির মাথায় শাবল চালিয়ে সব খুইয়েছিলেন। বাবা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

স্ত্রীও শোনেননি তার কথা,তার হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেননি। বাবার মৃত্যুর পর বাড়ি ফিরে শুনেছিলেন- বাবা নাকি বলে গিয়েছিলেন তার দ্বিতীয় সন্তানের (বলবীর) মুখ যেন বাড়ির কেউ আর না দেখেন। এমনকী বলবীরকে যেন তার বাবার মুখাগ্নিও করতে না দেয়া হয়। বলবীরের বন্ধু যোগেন্দ্র পালেরও একই দশা। ২৫ বছর আগে যিনি বলবীরের সঙ্গেই উঠেছিলেন বাবরির মাথায়।

শাবলের ঘায়ে ভেঙেছিলেন মসজিদ। বহু দিন আগে তিনিও হয়ে গেছেন পুরোদস্তুর মুসলিম। বলবীর জানান, তার পরিবার কোনও দিনই উগ্র হিন্দু ছিলেন না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর ইংরেজি, এই তিনটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি পাওয়া বলবীর তার মা, বাবা, ভাই, বোনদের নিয়ে ছোটবেলায় থাকতেন পানিপথের কাছে খুব ছোট্ট একটা গ্রামে। বলবীরের বয়স যখন ১০, তখন তিনি ও তার ভাইদের পড়াশোনার জন্য বলবীরের বাবা দৌলতরাম তাদের নিয়ে চলে যান পানিপথে।

তার বাবা বরাবরই গান্ধীবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি দেশভাগ দেখেছিলেন। তার যন্ত্রণা বুঝেছিলেন। তাই আমাদের আশপাশে যে মুসলিমরা থাকতেন, উনি তাঁদের আগলে রাখতেন সব সময়। কিন্তু পানিপথের পরিবেশটা ছিল অন্য রকম। হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা লোকজনরা তেমন মর্যাদা পেতেন না পানিপথে। ফলে একটা গভীর দুঃখবোধ সব সময় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত বলবীরকে।

সেই পানিপথেই একেবারে অচেনা, অজানা আরএসএসের একটি শাখার কর্মীরা বলবীরকে দেখা হলেই ‘আপ’ ‘আপ’ (আপনি, আপনি) বলে সম্বোধন করতেন। বলবীর বলছেন, সেটাই আমার খুব ভালো লেগেছিল। সেই থেকেই ওদের (আরএসএস ) সঙ্গে আমার ওঠবোস শুরু হয়। শিবসেনা করতে করতেই বিয়ে করি। এমএ করি রোহতকের মহর্ষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

ওই সময় প্রতিবেশীরা ভাবতেন আমি কট্টর হিন্দু। কিন্তু বাবা কোনও দিনই মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করতেন না। আমরা কোনও দিনই যেতাম না মন্দিরে। বাড়িতে একটা গীতা ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি বা আমার ভাইয়েরা কেউই সেটা কখনও পড়িনি। পানিপথে কেউ বাঁ হাতে রুটি খেলেও তখন তাকে ‘মুসলিম’ বলে হেয় করা হয়। শিবসেনার লোকজনদের কাছ থেকে ‘সম্মান’ পেয়ে তাদের ভালো লেগে যায় বলবীরের।

শিবসেনাই তাকে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিল বাবরি ভাঙতে। পাঠিয়েছিল বলবীরের বন্ধু যোগেন্দ্র পালকেও। তারা হয়ে যান করসেবক। বলবীর জানিয়েছেন, বাবরি ভেঙে পানিপথে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে তাকে ও যোগেন্দ্রকে তুমুল সংবর্ধনা জানানো হয়। তারা যে দু’টি ইট এনেছিলেন বাবরির মাথায় শাবল চালিয়ে, সেগুলি পানিপথে শিবসেনার স্থানীয় অফিসে সাজিয়ে রাখা হয়।

কিন্তু বাড়িতে ঢুকতেই তেড়ে আসেন বলবীরের বাবা দৌলতরাম। বলবীরের কথায়, বাবা আমাকে বললেন, হয় তুমি এই বাড়িতে থাকবে, না হলে আমি। তো আমিই বেরিয়ে গেলাম বাড়ি থেকে। আমার স্ত্রীও বেরিয়ে এল না। থেকে গেল বাড়িতেই। ওই সময় ভবঘুরের মতো জীবন কাটিয়েছেন বলবীর। লম্বা দাড়িওলা লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতেন তখন। বেশ কিছু দিন পর বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, বাবা মারা গিয়েছেন।

তিনি বাবরি ভাঙায় যে দুঃখ পেয়েছিলেন বাবা, তাতেই নাকি তার মৃত্যু হয়েছে। এর পর পুরনো বন্ধু যোগেন্দ্রের খোঁজখবর নিতে গিয়ে আরও মুষড়ে পড়েন বলবীর। জানতে পারেন, যোগেন্দ্র মুসলিম হয়ে গেছেন। যোগেন্দ্র নাকি তখন বলবীরকে বলেছিলেন, বাবরি ভাঙার পর থেকেই তার মাথা বিগড়ে গিয়েছিল। যোগেন্দ্রর মনে হয়েছিল পাপ করেছিলেন বলেই সেটা হয়েছে। প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে তাই মুসলিম হয়ে যান যোগেন্দ্র।

এর পরেই আর দেরি না করে সোনেপতে গিয়ে প্রখ্যাত আলেম মাওলানা কালিম সিদ্দিকির কাছে মুসলিম ধর্মে দীক্ষা নেন বলবীর। হয়ে যান মহম্মদ আমির। ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে বলবীর সিং ওরফে মহম্মদ আমির ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদকে মেরামত করতে চান। বলবীরের দাবি, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭, এই ২৪ বছরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে মেওয়াটে বেশ কিছু ভেঙে পড়া মসজিদ খুঁজে বের করে সেগুলির মেরামত করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের কাছে মেন্ডুর মসজিদও স্থানীয় মুসলমানরে নিয়ে নাকি সংস্কার করেছেন বলবীরই।

২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার থানারপাড়া থানার অন্তর্গত নতিডাঙ্গা অমীয় স্মৃতি বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এক ইসলামিক ওয়াজ মাহফিলে এসেছিলেন তিনি। সেখানে হাজার হাজার মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। আপনি কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন? -আমি বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার পর পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ি। অবশেষে শান্তিতলে এলাম।

আপনার পরিবার? -আমরা তিন ভাই। সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর আমার ছেলেমেয়ে? মুসলিম ঘরের ছেলেমেয়েরা আবার মুসলিম না হয়ে কী হবে। কতজন মিলে বাবরি মসজিদ ভেঙেছেন? -মিডিয়া তো লাখ লাখ বলছে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন ভাগে ছিলাম। ৫০০ জন নিয়ে দল। ৭০০ জন নিয়ে দল এভাবে। আমি ওদের নেতৃত্বে ছিলাম। প্রশাসন? -পুলিশ প্রশাসন নীরব ছিল। তারা আমাদের মসজিদ ভাঙার কাজে সাহায্য করেছিল।

সেখানে কোনো মুসলিম যায়নি? -মুসলমান যাওয়ার উপায় ছিল না। হিন্দু সেজে গেলেও তাকে উলঙ্গ করে পরীক্ষা করা হতো। বাবরি মসজিদ ব্যাপারে আপনি এখন কী ভাবছেন? -ওটা সম্পূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয় তা দেখার জন্য দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। হিন্দু ও মুসলিম ভাইদের জন্য আপনার মেসেজ কী? -সব ধর্মগ্রন্থে ইসলাম ধর্মের কথা আছে।