ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

শ্রীমঙ্গলে গর্ভবতী অসহায় নারীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন র‌্যাবের এএসপি শামীম

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ১০:০২:০৬ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ১০:০২:০৬

মৌলভীবাজার: করোনাভাইরাসের সং’ক্রমণ প্রতিরো’ধে যখন সারাদেশের যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে তখন শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন ঘোষণা দেন যে শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জ এলাকায় কোন গর্ভবতী মায়ের প্রসবকালীন জটিলতা নিয়ে যানবাহনের সমস্যা হলে উনার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন করার জন্য।

তাহলে তিনি নিজ দায়িত্বে সেই গর্ভবতী মাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়ীর ব্যবস্থা করবেন।

রোববার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার দক্ষিণ উত্তরসূর এলাকা থেকে এক গর্ভবতী মায়ের প্রসবকালীন জ’টিলতা নিয়ে ফোন পান তিনি। তাৎক্ষণিক ছোটে যান নিজেই। সেই মাকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে যান শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে একপুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হয়। বর্তমানে মা ও ছেলে উভয়েই সুস্থ আছেন।

র‌্যাব কমান্ডার শামীম আনোয়ারের এমন মানবিকতায় সত্যিই অবাক পাড়া গাঁয়ের সেই মানুষ গুলো। আবেগ তাড়িত গর্ভবতী মায়ের ভাইপোর লেখা ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘‘ শ্রীমঙ্গল র‌্যাবকে ভগবান অনেক বড় পুরুষ্কার দেক!
রোবাবার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারটা। আমার পিসির প্রসব বেদনা ওঠে। র’ক্ত ভা’ঙা শুরু হয়। কিন্তু বাচ্চা প্রসব হইতেছিল না। তাই সবাই বলে হসপিটালে নেওয়াই লাগবে। হসপিটালে নেওয়ার জন্য এত রাতে গাড়ি কোথায় পাব, চিন্তায় আমরা সবায় টেনসন করতেছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি পাই নাই। পরিচিত অনেক সিএনজি ডাইবারকে অনুরোধ করেও লাভ হয় নাই। তারা বলে এত রাতে যাইতে পারবে না। এমন সময় আমার প্রিয় বড় ভাই রাজু ( উপজিলা চেয়ারম্যানের ছেলে) ভাই আমাকে শ্রীমঙ্গল র‌্যাব কমান্ডার, এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম ছারের নাম্বার দেয়। তিনি নাকি এরকম সব মানুষকে সাহায্য করেন। প্রথমে বিশ্বাস করি নাই। তবুও কল দিলাম। ওনি বললেন ২ মিনিটের মধ্যে রওনা হইতেছেন। বিশ্বাস করি নাই। পরে দেখি ওনি ঠিক সময়মতো তারাতারি আসছেন।

আমরা আরো আশ্চর্য হইলাম, পিসির হাটার অবস্থা ছিল না। ওনি মুখে কিছু না বলে পিসিকে কোলে করে নিয়ে গাড়িতে তুলল। হাসপাতালে পৌঁছার পর রোগীকে কোলে নিয়ে আবার একবারে অপারেশন রুমে দিয়া আসছে। আমার আশ্চর্য হইলাম, এই রকম মানুষও কি পৃথিবীতে আছে!” উজ ডেস্ক : খাবারের জন্য পুলিশকে ঘে’রাও করলো পাখির ঝাঁক! প্রায় নিস্তব্ধ চুয়াডাঙ্গা শহর। চারদিকে সুনসান নীরবতা। মানুষের কোলাহল নেই। করোনাভাইরাসের সং’ক্রমণ ঠে’কাতে মানুষ এখন ঘরব’ন্দি। দোকানপাট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট সবকিছু বন্ধ। শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁর উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে দিন কাটত যেসব পশু পাখির, তারা এখন অভুক্ত। খাবারের জন্য এবার সেই পাখিরা পুলিশকে ঘেরাও করেছে।

চুয়াডাঙ্গার এমন একটি ঘটনার ভি’ডিও বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পেজে শেয়ার করা হয়েছে। ভি’ডিওতে দেখা যাচ্ছে, শতশত শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পুলিশকে ঘিরে ধ’রেছে। কিচিরমিচির শব্দে খাবার প্রত্যাশা করছে পুলিশ সদস্যের কাছে। পরে পুলিশ সদস্য কিছু খাবার ছিটিয়ে দিচ্ছেন অভুক্ত পাখিগুলোকে। যা খেতে হু’মড়ি খেয়ে পড়ছে পাখিগুলো।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের বড় বাজারের শহীদ হাসান চত্বর দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের এক সার্জেন্টকে খাবারের জন্য ঘিরে ধরে পাখিগুলো। পরে ওই পুলিশ সদস্য অভুক্ত পাখিগুলোকে খাবার খাওয়ান। করোনা পরিস্থিতির কারণেই পাখিরা খাদ্য সং’কটে পড়েছে। এর আগে এমনটি দেখা যায়নি।’

আগেও খাওয়ানো হতো জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আগেও খাওয়াতাম। ওখানে (শহীদ হাসান চত্বর) একটি পুলিশ বুথ আছে। লকডাউনে গাড়ির চাপ কম, মানুষের আনা-গোনা নেই। তাই না খেয়ে আছে পাখিগুলো। আমি বলে দিয়েছি, এখন থেকে পাখিগুলো মাঝে মাঝেই খাবার দেয়া হবে।’

প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে এসপি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ক্ষুধার্ত মানুষকেও খাওয়াচ্ছি। এই অবস্থায় অনেক মানুষ না খেয়ে থাকছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন পাচ্ছি অনেকে না খেয়ে রয়েছেন। কিছুক্ষণ আগেও ফোন পেলাম ‘ন্যাংটা পীরের মাজারে’ একজন ভিখারি না খেয়ে মর’ণাপন্ন অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সদস্যরা সেখানে ছুটে গেছেন খাবার নিয়ে।’ ‘দোয়া করবেন, এই জেলায় ২৯৮ জন করোনা আক্রা’ন্ত, তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন’- বলেন পুলিশ সুপার।