ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০

ছবি যেনো শুধু ছবি নয়!

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ১০:০০:১৭ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ১০:০০:১৭

নিউজ ডেস্ক : ছবি যেনো শুধু ছবি নয়! ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করেছেন রিজওয়ানা নূপুর। খুব সাদামাটা অথচ ভীষণ সুন্দর, দুই শিশুর নিষ্পাপ মুখ। একজন মন্তব্য করেছেন, ছবিটি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকজন লিখেছেন, চলে মনের জো’র মানতে হবে সরকারের আদেশ। একজন বলেছেন, নিয়ম রাখার চেষ্টা।

তবে যাই হোক, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন নিয়মনীতির ধা’র ধা’রছেন না, কোন সত’র্কবাণী তাদের সচেতন করতে পারছে না; তখন এই ছবিটি হয়তো একটা ধা’ক্কা দেবে তাদের মরচে পড়া চেতনায়।মৌলভীবাজার: করোনাভাইরাসের সং’ক্রমণ প্রতিরো’ধে যখন সারাদেশের যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে তখন শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন ঘোষণা দেন যে শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জ এলাকায় কোন গর্ভবতী মায়ের প্রসবকালীন জটিলতা নিয়ে যানবাহনের সমস্যা হলে উনার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন করার জন্য।

তাহলে তিনি নিজ দায়িত্বে সেই গর্ভবতী মাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়ীর ব্যবস্থা করবেন।

রোববার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার দক্ষিণ উত্তরসূর এলাকা থেকে এক গর্ভবতী মায়ের প্রসবকালীন জ’টিলতা নিয়ে ফোন পান তিনি। তাৎক্ষণিক ছোটে যান নিজেই। সেই মাকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে যান শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে একপুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হয়। বর্তমানে মা ও ছেলে উভয়েই সুস্থ আছেন।

র‌্যাব কমান্ডার শামীম আনোয়ারের এমন মানবিকতায় সত্যিই অবাক পাড়া গাঁয়ের সেই মানুষ গুলো। আবেগ তাড়িত গর্ভবতী মায়ের ভাইপোর লেখা ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘‘ শ্রীমঙ্গল র‌্যাবকে ভগবান অনেক বড় পুরুষ্কার দেক!
রোবাবার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারটা। আমার পিসির প্রসব বেদনা ওঠে। র’ক্ত ভা’ঙা শুরু হয়। কিন্তু বাচ্চা প্রসব হইতেছিল না। তাই সবাই বলে হসপিটালে নেওয়াই লাগবে। হসপিটালে নেওয়ার জন্য এত রাতে গাড়ি কোথায় পাব, চিন্তায় আমরা সবায় টেনসন করতেছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি পাই নাই। পরিচিত অনেক সিএনজি ডাইবারকে অনুরোধ করেও লাভ হয় নাই। তারা বলে এত রাতে যাইতে পারবে না। এমন সময় আমার প্রিয় বড় ভাই রাজু ( উপজিলা চেয়ারম্যানের ছেলে) ভাই আমাকে শ্রীমঙ্গল র‌্যাব কমান্ডার, এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম ছারের নাম্বার দেয়। তিনি নাকি এরকম সব মানুষকে সাহায্য করেন। প্রথমে বিশ্বাস করি নাই। তবুও কল দিলাম। ওনি বললেন ২ মিনিটের মধ্যে রওনা হইতেছেন। বিশ্বাস করি নাই। পরে দেখি ওনি ঠিক সময়মতো তারাতারি আসছেন।

আমরা আরো আশ্চর্য হইলাম, পিসির হাটার অবস্থা ছিল না। ওনি মুখে কিছু না বলে পিসিকে কোলে করে নিয়ে গাড়িতে তুলল। হাসপাতালে পৌঁছার পর রোগীকে কোলে নিয়ে আবার একবারে অপারেশন রুমে দিয়া আসছে। আমার আশ্চর্য হইলাম, এই রকম মানুষও কি পৃথিবীতে আছে!”