ঢাকা, আজ সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১

১২ শিশু, ছাত্রীকে ধ*র্ষণ, ইবলিসের ধোঁকা বলে দাবী কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ইমামের (ভিডিও সহ)

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৮ ১৪:০৩:৩৫ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৮ ১৪:০৩:৩৫

ফতুল্লার ভুইগড়ে এক কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আল আমিন নিজেই ১২ ছাত্রীকে ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে। আপনার ছেলে মেয়েকে কওমী মাদ্রাসায় পড়ানো থেকে বিরত থাকুন।স্থানীয় সূত্র ও অপরাধীর জবানবন্দীতে জানা যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের স্কুল শিক্ষক কর্তৃক ২০ জনেরও বেশি ছাত্রীকে ধ-র্ষণের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার ১২ জনেরও অধিক ছাত্রীকে ধ-র্ষণের অভিযোগে এই মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
৪ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকার বাইতুল হুদা কওমী ক্যাডেট মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে প্রচুর অশ্লী-ল ভিডিও উদ্ধার করে র‌্যাব-১১।

আটক অধ্যক্ষের নাম মাওলানা মুহম্মদ আল আমিন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভূঁইয়া পাড়া এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে। আল আমিন বাইতুল হুদা কওমী ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি ফতুল্লা এলাকার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।র‌্যাব অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ আলেপ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ এর অধিক শিক্ষার্থীকে ধ-র্ষণের ঘটনায় ২ শিক্ষককে গ্রেপ্তারের সংবাদটি টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ও পত্রপত্রিকায় ছবি দেখে উক্ত মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রী তার মাকে জানায় ‘আমাদের আল আমিন হুজুরও তো আমাদের সাথে এরকম করে’। এ সময় শিশুটি তার মায়ের কাছে বিস্তারিত ঘটনা জানায়।পরে শিশুটির মা ঘটনাটি র‌্যাবকে জানালে ওই মেয়ের জবানবন্দি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে র‌্যাব। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ঐ শিক্ষার্থীই নয়, ২০১৮ সাল থেকে অর্থাৎ গত ১ বছর যাবৎ ঐ মাদ্রাসার ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত ১২ জন ছাত্রীকে ধ-র্ষণ করেছে অধ্যক্ষ। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীকে যৌ-ন হয়রা-নিও করেছে।

তিনি আরো জানান, আটক অধ্যক্ষ আল আমিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধ-র্ষণ, ধ-র্ষণ চেষ্টা ও যৌ-ন হয়রা-নির বিষয়টি স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ পরিবারসহ মাদ্রাসার ভেতরেই থাকত। বাসায় তার স্ত্রী না থাকলে এবং মাদ্রাসা ছুটি থাকলে সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে নানাভাবে শিক্ষার্থীদের কখনও ধ-র্ষণ, কখনও ধ-র্ষণের চেষ্টা ও যৌ-ন হয়রা-নি করত। তবে তার দাবি, তিনি আগে এমনটা ছিলেন না, ইবলিসের ছলনায় পড়ে তিনি এমনটা করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরু-দ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এদিকে এ ঘটনা জানতে পেরে অধ্যক্ষের শাস্তির দাবি ও কওমী মাদ্রাসা বন্ধের দাবিতে বি-ক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন করেছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আসলাম ও পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল আজিজ।ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন বলেন, এ সকল ঘটনার প্রমাণস্বরূপ আমরা তার (আল আমিন) মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার তল্লাশী করে প্রচুর প-র্নোগ্রাফি ভিডিও পেয়েছি। কিছু কিছু প-র্নোগ্রাফি সে নিজেও তৈরি করেছে। সে তার কাছ পড়তে আসা ছাত্রীদের ছবির অংশ প-র্নোগ্রাফি ভিডিওর সাথে সংযুক্ত করত। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ছাত্রীদের ব্লাকমেল করে একাধিকবার ধ-র্ষণ করত।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড নামে একটি বেসরকারি স্কুলের ২০ জনেরও অধিক ছাত্রীকে ৪ বছর ধরে যৌ-ন হয়রা-নিসহ ধ-র্ষণের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফুল ও প্রধান শিক্ষক জুলফিকার ওরফে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১।