ঢাকা, আজ রোববার, ১৬ মে ২০২১

নিস্তেজ সায়মাকে গলায় রশি বেঁধে টেনে রান্নাঘরে নিয়ে যায় হারুন

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৮ ১৩:৫৬:১৮ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৮ ১৩:৫৬:১৮

হারুন অর রশিদকে গ্রেফতারের পর রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রোমহর্ষক এই হ*ত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।ছবি: সংগৃহীতরাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের স্কুলছাত্রী সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধ*র্ষণ ও হ*ত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ গ্রেফতারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশকে দেয়া জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, ছাদ ঘুরে দেখানোর কথা বলে ওই বাসার ৮ তলার লিফট থেকে সায়মাকে ছাদে নিয়ে যায় সে। সেখানে নবনির্মিত ৯ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে সায়মাকে ধ*র্ষণ করে। এরপর নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সায়মা। মৃ*ত ভেবে সায়মার গলায় রশি বেঁধে টেনে রান্নাঘরে রেখে পালিয়ে যায় এই নরপশু।হারুন অর রশিদকে গ্রেফতারের পর রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোমহর্ষক এই হ*ত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধ*র্ষণের পর যখন ভাবে এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না তখনই হ*ত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’হারুনের স্বীকারোক্তির বর্ণনা দিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা ৮ তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি শিশুর সঙ্গে খেলা করতে যায় সায়মা। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ ঘুরে দেখানোর কথা বলে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সায়মাকে ধ*র্ষণের চেষ্টা করে। সায়মা চিৎকার করলে মুখ চেপে ধ*র্ষণ করে। সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি লাগিয়ে টেনে নিয়ে যায় রান্নাঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে হারুন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে গা ঢাকা দেয়।’

আবদুল বাতেন বলেন, ‘হারুন পারভেজের খালাতো ভাই। পারভেজের বাসায় গত দুমাস ধরে থাকে সে। কাজ করত পুরান ঢাকায় পারভেজের রঙের দোকানে।’ আবদুল বাতেন আরও বলেন, ‘হারুনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজই আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।’গ্রেফতার হারুনের বাড়ি কুমিল্লায়। ওয়ারীর বনগ্রামের যে বহুতল ভবনে ধ*র্ষণ ও হ*ত্যার ঘটনাটি ঘটেছে, তার সপ্তম তলায় থাকত সে। আর শিশুটি পরিবারের সঙ্গে থাকত ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে।শিশুর বাবা আবদুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই ভবনে ফ্ল্যাট কেনার পর তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে ওঠেন।তার দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা রাজধানীর একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়ত। অন্য ফ্ল্যাটের শিশুদের সঙ্গে খেলতে যাওয়ার কথা বলে প্রতিদিনের মতোই বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু রাত হওয়ার পরও না ফেরায় তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

নবম তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে তাকে পাওয়া যায় গলায় রশি পেঁচানো, মুখ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায়। শিশু সায়মার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ওয়ারী থানার এসআই হারুন অর রশিদ। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, শিশুটির মাথার বামপাশে সামান্য থেঁতলানো জখম রয়েছে। মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত ও থেঁতলানো। নবম তলার উত্তর-পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে লাশ পাওয়া যায়ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, মেয়েটিকে ধ*র্ষণ করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হ*ত্যা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকালে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় শিশুটিকেসায়মার বাবা আবদুস সালাম যুগান্তরকে বলেন, মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় আসি। বাসায় ফিরে সায়মার মাকে জিজ্ঞেস করি মেয়ে কোথায়? তিনি জানান, উপরের ফ্ল্যাটে খেলতে গেছে। পরে ৯ তলার নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটে তার মৃ*তদেহ পাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি যুগান্তরকে বলেন, মেয়ে হ*ত্যার বিচার চাই। ঘাতককে চিহ্নিত করে এমন শাস্তি দেয়া হোক যাতে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। আর যেন কারও মেয়ে সায়মার মতো নিষ্ঠুরতার বলি না হয়। আর যেন কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। তিনি বলেন, তার মেয়ের ঘাতককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আরও সংবাদবরিশালে মুড়ি খেয়েই বেঁচে আছে শতাধিক এতিম শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক: পানি এবং বিদ্যুই নয় বর্তমানে না খেয়েও জীবন-যাপন করছে বরিশাল নগরীর পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছ গ্রাম সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শতাধিক এতিম শিশু।স্থানীয়রা যদিও সমস্যা সম্পর্কে অবগত কিন্তু কার্যত তারাও কোনো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছে ছাত্র-শিক্ষকরা। এই সমস্যা সমাধানে অনতিবিলম্বে বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফিরোজী।সূত্রমতে, ১ বছর আগেও একটি ভাড়া বাড়িতে ছিল এই এতিমখানা ও মাদ্রাসাটি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র ফিচার প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর। পরবর্তীতে তিনিসহ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সশরীরে উক্ত মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং শতাধিক এতিম ছাত্রের বাস্তব অবস্থা অবলোকন করে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন।

সেই অনুদান দিয়ে জমি ক্রয়, চারতলা ভিত্তির ওপর ১ তলা ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে প্লাস্টারের কাজ। এ দিকে অনুদানকৃত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চরম অর্থ সঙ্কটে ভুগছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তার ওপর মরার ওপর খরার ঘায়ের মতো রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা।শুধু তাই নয় বর্তমানে অর্থের অভাবে না খেয়ে জীবন-যাপন করছেনা শতাধিক এতিম শিশু। গত এক সপ্তাহ ধরে মাদ্রাসায় চাল-ডাল না থাকায় দুপুরে মুড়ি খেয়ে বেচেঁ আছে এতিমরা। অন্য দিকে মাদ্রাসার কাজ বন্ধ। মাদ্রাসার পরিচালক টাকার চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়ছে। এতিমদের চোখে কাঁন্না ঝড়। চলছে আর্থিক সংকটে এতিমদের জীব। মাদ্রাসার পরিচালক ফিরোজী সাহেব কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কষ্টের পরে একটু মাথা জগার ঠাই হয়েছে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ স্যারে কারনে।

তবে যে টাকা পেয়েছি তার কাজের পিছনেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ সব শেষ হয়নি। তার মধ্যে ছাত্রদের খাবার ,বিদ্যু,পানি সংকটের পাশাপাশি খাবার সংটক দেখা দিয়েছে। ছোট ছোট এতিম শিশুদের দুপুরে ভাতের পরির্বতে খাওয়াতে হচ্ছে মড়ি। কোন মহান ব্যাক্তি মাদ্রাসার এতিম শিশুর খাবার জন্য চাল দান করলে এই সম্যসা দেখতে হতোনা। টাকা জন্য সমাজের বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েও হিমসিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষের।
তিমখানাটি হওয়ায় সমাজের বিত্তবানদেরও তেমন নজর নেই বলে জানান তারা। প্রতিবছর অনেক এতিম শিশুকে ভর্তি না করেই ফেরত দিতে হয় তাদের। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অসহায় শতাধিক এতিম শিশুর মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে বলে দাবি তাদের।