ঢাকা, আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

এরশাদের কবর নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় দলের নেতারা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৪ ০৩:৪৮:০২ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ০৯:১৬:২২

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সংসদের বিরোধীদলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তাকে কোথায় কবন দেয়া হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি দলটির শীর্ষনেতারা। বুধবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী জাপার প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভায় এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও এরশাদের কবরস্থান কোথায় হবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সভায় দেশের বাইরে থেকে ভালো চিকিৎসক আনা যায় কি না তা নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ এরশাদের কবরস্থানের জায়গা কেনার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। সভায় জাপার ৩৮ জন প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেলা ১টায় এক প্রেসব্রিফিংয়ে জি এম কাদের জানান, এরশাদের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। বুধবার সকালে আমি সিএমএইচে গিয়েছিলাম। তিনি আমার কণ্ঠ শুনে চোখ ও হাত নাড়িয়েছেন।বিকেলে জাপার যৌথসভার বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নেতারা এরশাদের কবরস্থান নিজস্ব কেনা জায়গায় পাবলিক প্লেসে করার পক্ষে মতামত দেন। যদিও কয়েকজন প্রেসিডিয়াম দাবি করেন, এরশাদ সেনানিবাস অথবা আসাদ গেটের বিপরীতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে তার কবরের কথা বলেছেন। সভায় পার্টির নেতারা এর বিরোধিতা করে বলেন, এরশাদ দেশের ১৭ কোটি মানুষের নেতা। তার কবরস্থান যদি সেনানিবাসে হয় তাহলে সাধারণ মানুষ তার কবরস্থান জিয়ারত করতে যেতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, সভায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সফিকুল ইসলাম সেন্টু মোহাম্মদপুর আদাবরে কবরস্থান কেনার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আদাবর না পাওয়া গেলে সাভারে আমার নিজস্ব জায়গা থেকে দুই বিঘা জায়গা এরশাদের কবরস্থানের জন্য লিখে দেয়া যেতে পারে। এরপর প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ পাবলিক প্লেসে এরশাদের কবরস্থান করার দাবি জানিয়ে বলেন, নেতা এরশাদের কবরস্থানের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ কোটি টাকা দেবো। তিনি বলেন, স্যারকে যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে নেয়া হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় খরচও আমি বহন করব। সভায় আরো বক্তব্য রাখেনÑ এম এ সাত্তার, সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভ রায়, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এটিইউ তাজ রহমান, আজম খান প্রমুখ।

সভা শেষে প্রেসব্রিফিংয়ে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এরশাদ মূলত মাইলিড প্লাস্টিক সিনডম রোগে আক্রান্ত। সভায় বাইরে থেকে চিকিৎসক আনার বিষয়েও আলোচনা হয় বলেও জানান। এরশাদের রোগমুক্তি কামনায় গাজীপুর মহানগর জাপার দোয়া মাহফিল : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তি কামনা করে পবিত্র কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির ঈদগাহ মার্কেট চান্দনা চৌরাস্তার কার্যালয়ে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শরীফুল ইসলাম শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো: জয়নাল আবেদীন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ফারুকুল ইসলাম প্রধান, সালনা থানার জাতীয় পার্টির সভাপতি তছলিম উদ্দিন, মহানগর মহিলা পার্টির নেত্রী নূর জাহান নূরী বেগম, রওশনারা বেনজীর, সদর থানা জাপার সভাপতি ইসমাইল হোসেন। কাশিমপুর থানার সভাপতি ফারুক খান, কোনাবাড়ি থানার সভাপতি আতাউর রহমান সরকার, বাসন থানার সভাপতি হাজী ফারুক হোসেন জয়নাল, গাছা থানার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামান, পুবাইল থানার সভাপতি হাজী মোশারফ হোসেন, টঙ্গী থানা পূর্ব সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক, বাসন থানার সাধারণ সম্পাদক ইন্তাজ সরকার, আবুল হোসেন, দুলাল মৃধা, আবদুল জলিল আলমগীর রেজা, হাজী জসিম উদ্দিন, বাদল মিয়া, আব্বাস আলী মণ্ডল, এমরান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মাহফিল শেষে পল্লীবন্ধুর রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।