ঢাকা, আজ বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

অলির নতুন ফোরাম ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০১ ১০:২৯:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ০৯:১৬:৩৬

জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে পৃথক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.)। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মঞ্চের ঘোষণা দেন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমান্তরালে পৃথক এই মঞ্চ ঘোষণা করে মোট ১৮টি দফা তুলে ধরেন অলি আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, নাজুক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা নির্বিকার থাকতে পারি না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। খালেদা জিয়া যদি কারাগার থেকে মুক্ত হন, একনায়কতন্ত্র থেকে যদি দেশ মুক্ত হয়, ‘দেন দ্য নেশন উইল বি ফ্রি’। এই লক্ষ্য অর্জনে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ ঘোষণা করে তিনি বলেন, আশা করি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সকল শক্তি আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে মুক্ত করার জন্য এগিয়ে আসবে। বিশেষভাবে, গণতন্ত্রপ্রেমী ও বাংলাদেশপ্রেমী সকল রাজনৈতিক দল, সকল নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, সকল প্রবীণ ও তরুণদের প্রতি আমাদের এই আহ্বান।

লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকরা জানতে চান— এটা কী আলাদা জোট, যদি সেটা হয় তাহলে এই জোটে কারা কারা থাকবেন? জবাবে এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘নিশ্চয়ই দেখছেন আমাদের পাশে কারা, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিই জাতিকে মুক্ত করতে পারে। অনেকেই মত দিয়েছেন, অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে, অনেকে সময় নিয়েছেন। কারা কারা এই মঞ্চে থাকবেন সেটি যথাসময়ে জানাব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ২০ দলে আছি, থাকব। বিএনপি মূল দল, কিন্তু বিএনপিও ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে আলাদাভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছে। এছাড়া কয়েকদিন আগে ২০ দলের বৈঠকে জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট করে বলেছেন—খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে যার মতো করে কাজ করতে পারে, কর্মসূচি দিতে পারে।

লিখিত বক্তব্যে অলি আহমদ আরো বলেন, অনেক বড় ইস্যু থাকার পরেও সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনি। কারণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে অনেকে সম্পদ রক্ষায় সরকারের হয়ে সুকৌশলে কাজ করেছেন। পরে সাংবাদিকরা জানতে চান—তারা কারা? জবাবে অলি আহমদ বলেন, ‘আমাদের অনেকে সরকারের দালালি করেছেন বলে আজ এই অবস্থা। আপনারাও এই দেশে থাকেন, দালালদের আপনারাও চেনেন। দেশকে ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সবাই আসবে, তবে দালালরা নয়।’

আপনার নতুন উদ্যোগের সঙ্গে জামায়াত থাকছে কি-না, প্রশ্ন করা হলে এলডিপি প্রধান বলেন, ‘দেশপ্রেমিক যারাই আসতে চান, সবাই এই মঞ্চে আসতে পারেন। বিভক্ত করে এবং অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে জাতিকে দুর্বল করা হচ্ছে।’ ৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয়। আমি জানি, জামায়াতও নিজেদের মধ্যে বসে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কারণ তারাও দেশপ্রেমিক শক্তি।’ অলির এই বক্তব্যের সময় দর্শক সারিতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা জোরে হাততালি দেন।

আরো পড়ুন: এরশাদের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে

পৃথক মঞ্চ ঘোষণা উপলক্ষে অলি আহমদের সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াত নেতাদেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে কৌশলগত কারণে জামায়াত নেতারা উপস্থিত না হলেও মিলনায়তনে দর্শক সারিতে দলটির বহু কর্মীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মঞ্চে অলি আহমদের পাশে বসেছিলেন ২০ দল শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা আহমদ আলি কাসেমী, ইসলামী সঙ্গীত শিল্পী মুহিব খান। এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমও মঞ্চে ছিলেন।

এছাড়া মঞ্চে না বসলেও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি এবং বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জেবেল রহমান গাণির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ ২০ দল থেকে বেরিয়ে অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল অলির হাতে ফুল দিয়ে এলডিপিতে যোগ দেন।

ইত্তেফাক/এমআর

অলি জাতীয় মুক্তি মঞ্চ